অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে GST হ্রাস

ভারতের প্রধান পরোক্ষা কর সংস্কার, পণ্য ও পরিষেবা কর GST চালু হয় ১লা জুলাই ২০১৭তে। সম্প্রতি জি এস টি পরিষদ ২৮শতাংশের শ্রেণী থেকে ৭টি পণ্যকে সরিয়ে নিয়েছে, এছাড়াও উপভোক্তাদের সুবিধা দিতে এবং ভোগ বাড়াতে সাধারণ ব্যবহার্য ২৩টি পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে জি এস টি হ্রাস করা হয়েছে । কতিপয় বিলাশ দ্রব্য ছাড়া সকল পণ্যকে সর্বাধিক ১৮ শতাংশ কর হারের নিচে রাখার এক কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা।

যে সাতটি পণ্যকে ২৮ থেকে কমিয়ে ১৮শতাংশের আওতায় আনা হয়েছে সেগুলি হল কৃষিতে ব্যবহৃত যানবাহণের কিছু যন্ত্রাংশ, ৩২ ইঞ্চি পর্যন্ত মনিটর এবং টিভি, টায়ার, পাওয়ার ব্যাংক, ডিজিটাল ক্যামেরা, ভিডিও গেম কন্সোল এবং যন্ত্রাংশ এবং প্রতিবন্ধী লোকেদের সহায়ক সরঞ্জামকে ২৮ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বহু কোটি টাকার প্রমোদ শিল্প এবং চলচিত্র পেমীদের সুবিধার্থে ১০০টাকার বেশি সিনেমা টিকিটের ক্ষেত্রে জি এস টির হার ২৮থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে এবং ১০০টাকা পর্যন্ত টিকিটের ক্ষেত্রে এই হার ১৮ থেকে কমে হচ্ছে  ১২ শতাংশ।

সর্বশেষ এই কর হ্রাসের ফলে  জি এস টির অন্তর্ভুত ১,২১১টি পণ্যের মধ্যে ৯৭.৭ শতাংশ পণ্য এখন ১৮ শতাংশ এবং তার নিচের শ্রেণীতে এসেছে। যদিও সিমেন্টের মত নির্মাণ সামগ্রী এবং অটোমোবিলের ক্ষেত্রে হ্রাসের কথা আলোচনা হয়, তবে উচ্চ রাজস্বজনিত প্রভাবের দরুণ সদস্যরা আপাতত এটি পিছিয়ে দিতে এক মত হয়েছে। বর্তমানে কেবল ২৮টি পণ্য ২৮ শতাংশের শ্রেণীতে রয়েছে।

বার বার কর হারে হ্রাসের ফলে রাজ্যগুলির মধ্যে এই আশংকা দেখা দিয়েছে যে রাজ্যস্বে তাদের অংশ কমতে পারে, সেই প্রেক্ষিতে জি এস টি পরিষদে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারা মন্ত্রী গোষ্ঠীর সাত জন সদস্যকে নিয়ে রাজস্ব প্রবণতা সমীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করতে একমত হন। পাবিলক ফাইনান্স এবং পলিসি সংক্রান্ত জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের কারিগরি সংস্থার বিশেষজ্ঞগণ এই মন্ত্রী গোষ্ঠীকে সহায়তা করবে।

পরিষদ কম্পোজিশন স্কীম ক্ষুদ্র পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে দেওয়ার মত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পাঠানোর বিষয়ে এক মত হয়।

দুটি বা তার বেশি রাজ্যের আপীল এ্যাডভান্স রুলিং অথোরিটির বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট জটিল  পরিস্থিতির সমাধানের লক্ষ্যে জি এস টি পরিষদ একটি কেন্দ্রীয় এ্যাডভান্স রুলিং অথোরিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্প ক্ষেত্র এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে সমস্ত কর এবং সংশ্লিষ্ট পেমেন্টের জন্য একটি অভিন্ন লেজার সৃষ্টি, রপ্তানীকারক এবং আমদানীকারকদের প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং বার্ষিক রিটার্ন জমা দেওয়া এবং ইনপুট ক্রেডিট দাবী করার সময় সীমা বাড়ানো।

সবশেষে , সর্বোচ্চ কর হার এবং কোনো রকম আপোশ না করে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য জি এস টি পরিষদের এই সব সিদ্ধান্তের ফলে পণ্য ও পরিষেবার ওপর সারা দেশে অভিন্ন জি এস টির লক্ষ্য অর্জিত হবে এবং অর্থনীতির সংস্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হবে। (মূল রচনাঃ জি শ্রীনিবাসন)