বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ভারতের সহায়তা

বাংলাদেশে বর্তমানে পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। ৩৫০ জন সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় সংসদের জন্য নির্বাচন হবে আগামী ৩০শে ডিসেম্বর। চলতি রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

ভারত এই সংকটের মোকাবিলায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অবিলম্বে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ঢাকা এবং নেই পি ত’র মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী শরণার্থীরা যাতে মিয়ানমারে ফিরে যান, সে বিষয়ে কূটনৈতিক প্রয়াস চলছে। তবে এই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন সহজ নয়।

১৯১৭য় এই চরম মানবিক সংকটের সময় ভারতই প্রথম বাংলাদেশকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছিল। ‘অপরেশন ইনসানিয়ত’এর আওতায় ভারত এ পর্যন্ত চার দফায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ২০১৮’য় দ্বিতীয় দফায় শিশুখাদ্য সহ ৩৭৩ মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়। এরপর তৃতীয় দফায় ভারত ১.১ মিলিয়ন লিটার কেরোসিন তেল এবং ২০ হাজার কেরোসিন স্টোভ পাঠায়। চতুর্থ দফায় পাঠানো হয় ২ লক্ষ ২৫ হাজার কম্বল এবং ২ লক্ষ গরম কাপড়। এছাড়া শরণার্থী শিবিরের জন্য ৫০০ সৌর লন্ঠনও পাঠানো হয়।

ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে শরণার্থী রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সমস্যার কথা মনে রখেই ভারত চতুর্থ দফার ত্রাণ সামগ্রী স্থানীয় মানুষদের মধ্যেও বন্টন করেছে।

বাংলাদেশ ভারতের এই প্রয়াসের প্রশংসা করেছে। তবে শেখ হাসিনা সরকার চায়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত আরো বেশী চাপ সৃষ্টি করুক। এই শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির মতো জঙ্গী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে জড়িত বলে বাংলাদেশের আশঙ্কা।

বাংলাদেশের এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ভারতের বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি কার্যকর করার ওপর  বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি যত শীঘ্র সম্ভব কার্যকর করা সমস্ত পক্ষের স্বার্থের জন্যই জরুরি বলে ভারত মনে করে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরো সহজ করার লক্ষ্যে ভারত ২০১৭’য় মিয়ানমারের সঙ্গে ‘রাখাইন স্টেট বিকাশ কর্মসূচী’ স্বাক্ষর করে। এই কর্মসূচীর অঙ্গ হিসেবে ভারত রাখাইন প্রদেশে বাস্তুচ্যুতদের জন্য বাসগৃহ নির্মাণ করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭’য় রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন সদস্য এবং কয়েকজন রোহিঙ্গা নিহত হয়। এই সংঘর্ষের ফল স্বরূপ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ এবং ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এরপরই নতুন দিল্লি ভারতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবনেশকারী বলে ঘোষণা করে।

( মূল রচনা – দীপঙ্কর চক্রবর্তী )