ভূটান-ভারত সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে

ভুটানের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ড. লোটায় শেরিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে তিন দিনের ভারত সফর করে গেলেন। তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন, ভুটানের বিদেশ মন্ত্রী, অর্থনৈতিক মন্ত্রী এবং উচ্চ পদস্থ আধিকারিকগণ। গতমাসে কার্যভার গ্রহণ করার পর এটাই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। এটি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে এবছরের তৃতীয় ভারত সফরও। দুটি দেশ যখন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ করছে তখন এই সফর হল। ২০১৮র অক্টোবরে ভুটানের তৃতীয় সংসদীয় নির্বাচনে সাফল্যের পর ড.শেরিংকে তাঁর দল ড্রুক নিয়ামরুপ শোগপা (ডি এন টি)র জয় লাভের পর প্রথম বিশ্ব নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনন্দন জানান। এর আগে, প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার নীতির অংগ হিসেবে শ্রী মোদি ২০১৪র মে মাসে কার্যভার গ্রহণ করার পর সবার প্রথমে ভুটান সফরে গিয়েছিলেন।

ভারত ও ভুটানের মধ্যে ১৯৬৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হবার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এটি সফল প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের অন্যতম। এর বৈশিষ্ট হল পারস্পরিক আস্থা, বোঝাপড়া এবং পরিপক্কতা। ১৯৪৯সালে স্বাক্ষরিত ভারত ভুটান বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতা চুক্তি এই সম্পর্কের  স্তম্ভ। এই চুক্তির ফলে উন্মুক্ত সীমান্ত, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখার মত বিশেষ ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়ছে। নানান বৈষম্য সত্বেও উভয় দেশ পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল মনে করে এবং অর্থনৈতিক বিকাশ, গণতন্ত্রকে মজবুত করা এবং আঞ্চলিক শান্তির প্রয়াসে পরস্পরকে সমান অংশীদার হিসেবে স্বীকার করে।

বারবার উচ্চ পর্যায়ে সফরের ফলে দুদেশের বিশেষ সম্পর্ক আরো মজবুত হয়েছে। থিম্পুতে নতুন সরকার গঠিত হবার পরেই ভারতের বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে ভুটান সফর করেন এবং নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভুটানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে ভারত এই সফরকে  উচ্চ অগ্রাধিকার দেয় ।

আধিকারিক পর্যায়ের আলোচনার সময় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক নানান প্রশ্নে বিস্তারিত কথাবার্তা বলে। থিম্পুতে রাজনৈতিক পালা বদলের পর যেহেতু উচ্চ পর্যায়ে এটাই প্রথম মত বিনিময়; নতুন দিল্লী মনে করে দৃষ্টান্তমূলক এবং মৈত্রীর সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ড. শেরিং রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ এবং উপরাষ্ট্রপতি ভেংকাইয়া নাইডুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নে ব্যাপক আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী  শ্রীমতি সুষমা স্বরাজ, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, বাণিজ্য ও শিল্প এবং অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী সুরেশ প্রভূ এবং শক্তি, নতুন এবং নবীকরণযোগ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

ভারত ভুটানের বৃহত্তম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। তাদের তৈরি তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৪১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ ভারতে রপ্তানী করা হয়। ভারত ২০২০র মধ্যে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভুটানকে সহায়তা করতে রাজী হয়েছে।  ভারত ভুটানের পরিকল্পিত উন্নয়নী প্রয়াসে ১৯৬১ থেকে ঐ দেশকে সহায়তা করে আসছে। ভুটানের একাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভারত ৫০০০ কোটি টাকার সহায়তা করেছে। দুটি দেশের মধ্যে জল সম্পদ, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মত ক্ষেত্রে একাধিক দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা  রয়েছে।

স্বর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের অংগ হিসেবে উভয় দেশ একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

ড. শেরিং এর সফর বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো মজবুত করবে। উভয় দেশ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করে। সামনা সামনি বৈঠকে উভয় নেতা বাণিজ্য এবং অর্থনীতি, জল বিদ্যুৎ, শক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত বিষয় এবং দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার জন্য ভুটানকে ভারতের প্রযুক্তিগত-অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়। (মূল রচনাঃ নিহার আর নায়ক)