২০১৮তে ভারতের বিদেশ নীতির সাফল্য

২০১৮সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৫৮টি দেশে ৭৩বার সফর করেন।  অন্যদিকে, ৪৪জন বিশ্ব নেতা ভারত সফর করেন। এ সবের বেশিরভাগ আলোচনায় এশিয়ার ওপর আলোকপাত করা হয় এবং ভারতের বিদেশ নীতির জন্য উপমহাদেশের অগ্রাধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ প্রকল্পগুলির ওপর গুরুত্ব প্রদান থেকে বোঝা যায় যে ভারত পারস্পরিক উপকারের জন্য, জনমুখী এবং স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক কাঠামো সৃষ্টিতে আগ্রহী। অরুণ III জল-বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নেপাল-ভারত সার্কিট মে মাসে চালু করা হয়; সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের  সঙ্গে তিনটি রেল এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুচনা হয়েছে; ডিসেম্বরে ইরানের চাবাহার বন্দর পরিচালনার  দায়িত্ব নেয় ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড কম্পানী।

মালদ্বীপ এবং ভুটানের  নব নির্বাচিত নেতাগণ নির্বাচিত হবার পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে আসেন, এটি ভারতের প্রতিবেশীর প্রতি অগ্রাধিকার নীতির পারস্পরিক দেওয়া নেওয়ার  দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচায়ক।

সিঙ্গাপুরে জুন মাসে অনুষ্ঠিত সাংরিলা আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গৃহীত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কাঠামোয় ভারত সমস্ত অঞ্চলে সঙ্গে ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তা এবং বিকাশের লক্ষ্যে সংহতি সাধন করেছে। অক্টোবরে ভারত-জাপান শিখর বৈঠকে ভারত-আফ্রিকা সম্পর্ককে জাপানের সম্প্রসারিত অংশীদারিত্বের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জুলাই মাসে  উগান্ডার সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদির ঐতিহাসিক ভাষণে দশ দফা নীতির ভিত্তিতে আফ্রিকার সঙ্গে আলোচনার নতুন গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। আফ্রিকার সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

ভারতের থিংক ওয়েস্ট নীতি, তাদের শক্তি এবং নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সমন্বিত  এবং এর ফলে এই অঞ্চলে ভাল ফল হয়েছে। বিশেষ করে ওপেক ভুক্ত দেশ গোষ্ঠীর ভারতে তেল রপ্তানীর ক্ষেত্রে এই সুফল লক্ষ্যনীয়। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলি এবং ইরান ভারতের জ্বালানী শক্তি আমদানির অনেকটাই মিটিয়ে থাকে। ৮ মিলিয়ন ভারতীয় এই অঞ্চলে কাজ করছে এবং তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধিতে অবদান জুগিয়ে আসছে।

উহানে চীনের সঙ্গে এবং সোচিতে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সফল ঘরোয়া আলোচনা এক বড় ধরণের অভিববত্ব। এই শিখর আলোচনার ফলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নেতাদের মধ্যে মত বিমিময় সম্ভব হয়েছে। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  সেপ্টেম্বরে তাদের মধ্যে প্রথম ২+২ আলোচনা করে বিদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ে। ফলে আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব মজবুত হবে।

আন্তর্জাতিক সৌর জোটের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় মার্চ মাসে। এই আন্তঃসরকারী রাষ্ট্র সংঘ অনুমোদিত সংগঠনের সদর দপ্তর ভারতে অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী মোদি সেপ্টেম্বর মাসে সাহসী পরিবেশ নেতৃত্বের জন্য আর্থ এ্যাওয়ার্ড পান।

ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে  কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার লক্ষ্যে উপযুক্ত অবস্থা সৃষ্টি করার প্রতি আলোকপাত করা হয়। রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর এবং জানুয়ারীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ব অর্থ নৈতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ, এপ্রিলে লন্ডন কমনওয়েলথ সামিট এবং ভারত-নরডিক শিখর সম্মেলন, জুনে সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন শীর্ষ বৈঠক, জুলাই’এ ব্রিক্স সম্মেলন, অগাস্টে বিমস্টেক বৈঠক, নভেম্বরে আসিয়ান এবং পূর্ব এশিয় শিখর বৈঠক এবং ডিসেম্বরে জি-২০ বৈঠকে যোগদান ভারতকে এই লক্ষ্য অর্জনের উপযুক্ত বাতাবরণ তৈরি করতে সহায়তা করেছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভারতের সভ্যতাগত মূল্যবোধের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং  বসুদৈব কুটুম্বকমের মূল ধারণা ১২৪টি দেশের শিল্পীদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই শিল্পীরা আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসে বিশ্ব দর্শকের জন্য গান্ধীজীর প্রিয় ভজন বৈষ্ণব জন তু উপস্থাপন করেন।

(মূল রচনাঃ অশোক কুমার মুখার্জী)