ভারতের সফল মহাকাশ অভিযান অব্যাহত

সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ভারতের মহাকাশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই পর্যায়ে সর্বশেষ হল মাইক্রোস্যাট আর এবং কালামস্যাট ভারতীয় মহাকাশ গবেষনা সংস্থার মেরু উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান (পি এস এল ভি) সি ৪৪ বৃহস্পতিবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে ভারতের মিলিটারী উপগ্রহ মাইক্রোস্যাট আর এবং ছাত্রদের পেলোড কালামস্যাট বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ওয়ার্কহর্স পোলার রকেট ২৮ ঘন্টা ফিরতি গণনার শেষে রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে প্রথম উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এটি ২০১৯এ ইসরোর প্রথম মিশন।

৪৬তম উড়ানে পোলার উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান ( পি এস এল ভি-সি৪৪) ৭৪০  কেজির প্রাথমিক উপগ্রহ মাইক্রোস্যাট –আর  উৎক্ষেপণের ১৪মিনিটের মাথায় সূর্য সমলয় কক্ষে স্থাপন করবে বলে ইসরো জানিয়েছে।

রকেটের চতুর্থ পর্যায়ে  একটি দশ সেন্টিমিটার আকারের কিউব এবং  ১.২ কেজি ওজন বিশিষ্টি কালামস্যাটকে উচ্চ সার্কুলার কক্ষে স্থাপন করা হবে যাতে ছোট পেলোড ব্যবহার করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যায়। কালামস্যাট ভারতের সবচেয়ে হাল্কা উপগ্রহ বলে জানানো হয়েছে।

কালামস্যাট একটি ফেমটো উপগ্রহ। ১০০গ্রামের কম ওজন বিশিষ্ট কৃত্রিম উপগ্রহকে ফেমটো উপগ্রহ বলা হয়। ভূপৃষ্টের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য একটি বড় মাদার উপগ্রহের দরকার হয় ফেমটো উপগ্রহের ক্ষেত্রে। ২০১১র মে মাসে চূড়ান্তে মিশনে মহাকাশ ফেরি যান এন্ডেভরে তিনটি নমুনা চিপ উপগ্রহকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেগুলিকে আই এস এস বাহ্যিক প্লাটফর্মের ম্যাটেরিয়াল আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের পরিক্ষা নিরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

কালামস্যাট নাম করণ করা হয় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালামের নামে এবং তামিল নাডুর একটি ভারতীয় হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের দল এইটি নির্মাণ করেছে। এর নেতৃত্ব দেন রিফাথ শারুক নামের ১৮ বছর বয়সের একটি ছেলে। তার বাড়ী তামিল নাডুর পাল্লাপাট্টি শহরে। হাই স্কুল দল  আইডুডল লার্নিং ইঙ্ক এবং নাসার আয়োজিত ওয়ার্ক শপ এবং শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিযোগী হিসেবে এই দল নাসা রকেটে মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ পান। নাসা  ২০১৭র ২২শে জুন ভার্জিনিয়ায় ওয়ালোপ্স আইল্যান্ড উড়ান স্থল থেকে টেরিয়ার ওরিওন সাউন্ডিং রকেটে অন্যান্য কয়েকটি এক্সপেরিমেন্টের সঙ্গে কালামস্যাটকে উৎক্ষেপণ করে।

ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিবান বলেছেন পি এস-৪ কালামস্যাট পরীক্ষা স্বল্পস্থায়ী হবে।  উৎক্ষেপণের দেড় ঘন্টার মধ্যে এটি শুরু হয় এবং ১৪ ঘন্টা অর্থাৎ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চলবে।

মাইক্রোস্যাট আর এবং তার পেলোড প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে এ্যাসেম্বল করা হয় এবং এর ব্যবহার সামরিক উদ্দেশ্য করা হয়। এই উপগ্রহ বাইরে এ্যাসেম্বল করা হয় এবং ইসরো কেবল তার নিজের ব্যবস্থা এবং উৎক্ষেপণ যানের সঙ্গে  ইন্টারফেস করে।

এবছর ইসরো ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্র অভিযান চন্দ্রায়ন ২ এর উৎক্ষেপণ নিয়েও ব্যস্ত থাকবে। ইসরো তাদের নতুন ক্ষুদ্র উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান ( এস এস এল ভি) রকেটও উৎক্ষেপণ করবে। আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ মিশন ভারতীয় রিলে উপগ্রহ ব্যবস্থার দুটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ। এগুলির মধ্যে একটি ২০১৯এ পাঠানো হবে। এটি ভারতের দূর সংবেদী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহগুলি এবং ভূসময়লয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান মার্ক IIIর সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ বজায় রাখবে। এতে তিনজন নভোশ্চর ২০২২এ মহাকাশে পাড়ি দেবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৮র ১৫ই অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ঘোষণা করেন যে ২০২২ নাগাদ ভারত যখন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ করবে তখন একটি ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা হাতে করে একজন ভারতীয় মহাকাশে যাবেন। ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানীগণ কেবল গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশনের নেতৃত্বই দিচ্ছেন না মহাকাশ নকশার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভারত থেকেই নতুন এবং ক্ষুদ্র উপগ্রহের নকশা  আত্মপ্রকাশ করেছে। (মূল রচনাঃ পদম সিং)