ভারত-কোরিয়া সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হচ্ছে

২০১৪ সালে যে উৎসাহ নিয়ে ভারতের পূবে কাজ করার নীতি চালু করা হয়েছিল তা যে কেবল মজবুত রয়েছে তাই নয় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল অবধি তা আরো গভীরভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামনে থেকে পূবে কাজ করার নীতির নেতৃত্ব দেন, তাঁর সাম্প্রতিক সিওল সফরে তা প্রদর্শিত হয়েছে।

শ্রী মোদি দুদিনের সফরে সিওল গিয়েছিলেন, এ বছরে তাঁর এটাই ছিল প্রথম বিদেশ সফর। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক আলোচনা এবং দুটি দেশের মধ্যে মজবুত বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।

তাঁর সফরের সময় বিশ্ব শান্তির প্রসঙ্গও দুটি বিষয়ে উত্থাপিত হয়েছে। ২০১৯ সাল জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্ম বার্ষিকী, শান্তিপ্রেমী গণতান্ত্রিক দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত। এই উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি সিওলের ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাপুর আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন।

সফরকালে শ্রী মোদি সিওল শান্তি পুরস্কার ফাউন্ডেশনের সিওল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিশ্ব অর্থনৈতিক বিকাশ, মানব সম্পদ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং দুর্নীতি দমন ও সামাজিক সংহতি সাধনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিকাশের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।  স্পষ্টতই বাপু ভারত এবং তার জনগণকে যে মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন সেটাই ভারতের পরিচয় এবং দুটি বিষয়েই গান্ধীজীর গুরুত্ব এবং তাঁর শান্তি, ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং অহিংসার মূল্যবোদের প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ছ’টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ‘স্টার্ট আপ’ এর বিষয়ে একটি চুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখনীয়। এই চুক্তির আওতায় কোরিয়া স্টার্ট আপ সেন্টার ভারতে স্থাপিত হবে। কোরিয়া অভিনব প্রযুক্তির দেশ এবং ভারতের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী। ভারতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের ফলে মেক ইন ইন্ডিয়া অভিযানের গতি অনেকাংশে উর্ধমুখি। গত চার বছরে দক্ষিণ কোরিয়া ভারতে ২৫০বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

২০১৫র মে মাসে শ্রী মোদির দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুটি দেশের মধ্যে সাক্ষরিত হয়। বিভিন্ন দিক থেকে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। পুলওয়ামা আক্রমণের পর ভারতীয় প্রধান মন্ত্রীর এটাই প্রথম বিদেশ সফর এবং ২০১৯এর মে মাসে সাধারণ নির্বাচনের আগে সম্ভবত এটাই শেষ সফর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে দক্ষিন কোরিয়ার সমর্থনের দিক থেকেও এই সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বিবৃতিতে সর্বদাই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার উল্লেখ রয়েছে।

ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত সম্পর্কের আর একটি দিক হল নিয়মিত আলোচনা এবং সফর বিনিময়। গত চার বছরে এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় দক্ষিণ কোরিয়া সফর।

ভারত সমস্ত পূর্ব এশিয় দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা মজবুত করছে। ভারত এবং জাপান সর্বদাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, ভারত-চীন সম্পর্ক উহান পরবর্তী সময়ে অনেকটাই উন্নত হয়ছে।

ভারত এই অঞ্চলের সকল বড় অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছে। ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার মত দেশগুলির সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে আগ্রহী এবং ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উন্নতি চায় এই অঞ্চলে অবিচ্ছিন্ন শান্তি স্থাপনের জন্য।

ভারতের পূবে কাজ করার নীতি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন দক্ষিণের নীতি স্বাভাবিকভাবেই পরস্পরের পরিপূরক। দক্ষিণ কোরিয়া ভারতের সক্রিয়তাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে। শ্রী মোদির সফর ভারত-কোরিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর একটি মাইল ফলক। (মূল রচনা ড. রাহুল মিশ্র)