প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য প্রকল্প চালু করলেন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের বৃহত্তম রাজ্য উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে ১০ মিলিয়ন কৃষকের প্রত্যেকের কাছে ২০০০টাকার প্রথম কিস্তি হস্তান্তর করে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (পিএম-কিষান) প্রকল্প চালু করলেন। কিষান সম্মান নিধির বৈদ্যুতিন হস্তান্তর চালু করে শ্রী মোদি বলেন এই প্রকল্প সম্পূর্ণ প্রামান্য এবং পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে রুপায়িত হবে। তিনি বিভিন্ন রাজ্যকে উপযুক্ত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ করতে বলেন। শ্রী মোদি আরো বলেন ৭৫,০০০ কোটির এই প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভারতের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক। সর্বাধিক কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয় এই দেশে। ভারত চাল ও গমের বৃহৎ রপ্তানীকারী দেশ হিসেবেও পরিচিত। কৃষি ৫৫ শতাংশ জনসংখ্যার জীবিকা এবং জি ডি পিতে কৃষির অবদান ১৪ শতাংশ। তবে অন্য ক্ষেত্রের সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রের বিকাশ সংগতিবিহীন। গত দশকে কৃষির বিকাশ হার ছিল বছরে ৩ থেকে ৪ শতাংশ। কৃষকরা তাদের উৎপন্ন ফসলের উপযুক্ত মূল্যও পান না।

সরকার একাধিক সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কৃষকদের পরিপোষণ মূল্য এম এস পি বৃদ্ধির জন্য যাতে কৃষক সম্প্রদায়ের আয় বাড়ে। বিভিন্ন রাজ্যও কৃষকদের আয় বৃদ্ধির জন্য নানান প্রকল্প শুরু করেছে। পি এম কিষান প্রকল্প তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে কিছুটা সহায়তা করবে বলে বিশ্বাস। এটি কৃষকদের বোনাস বলে ধরা হচ্ছে।

সরকার ঋণ মুকুবের প্রস্তাব সঠিক বিকল্প বলে বিবেচনা করে নি কারণ অর্থনীতির ওপর এটি বিপূল বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। প্রধান মন্ত্রী বলেন ২০০৮ সালে কৃষকদের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৭,৫০,০০০ কোটি; এর মধ্যে তৎকালীন সরকার কেবল ৫২,০০০কোটি মুকুব করে।

সরকার ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে বদ্ধপরিকর। কৃষকদের সংকট মোকাবিলার জন্য এই প্রকল্প সরকারের একটি প্রয়াস। ২০১৯-২০ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে কেন্দ্র সরকার পি এম- কিষান প্রকল্প ঘোষণা করে, এর আওতায় ১২০ মিলিয়ন ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষক যাদের ২ হেক্টর পর্যন্ত জমি আছে তাদের তিন কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এই অর্থ বছর থেকেই এই কর্মসূচি কার্যকর হয়ছে ফলে এবছর মার্চের আগেই কৃষকরা প্রথম কিস্তি পেয়ে যাবেন।

এই প্রকল্পের পুরো টাকা দেবে কেন্দ্র সরকার। টাকা হস্তান্তরের জন্য কেন্দ্র সরকারের পি এম কিষান পোর্টালে রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিকে জেলা-ওয়াড়ি সুবিধাভোগীদের অনুমোদিত তালিকা আপলোড করতে হবে।

পি এম কিষান প্রকল্প কেবল দুর্বল কৃষক পরিবারদের অতিরিক্ত আয়ই সুনিশ্চিত করবে না, ফসল তোলার মরসুমের আগে তাদের বিশেষভাবে সাহায্য করবে। বস্তুতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে তার সরকারের পক্ষে ঋণ মুকুব সহজ এবং সুবিধাজনক হতো। কিন্তু তিনি বলেন সরকার কৃষকদের একটি অভূতপূর্ব সুবিধা দিতে চেয়েছিল। পি এম কিষান নিধি প্রকল্প প্রাকৃতিক বিপর্যয় গ্রস্ত ক্ষুদ্র এবং মাঝারী কৃষকদের উৎসাহিত করতে সঠিক পদক্ষেপ বলে গন্য করা হচ্ছে। সরকারের অভিপ্রায় হল দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা, এর পেছনে কোনো নির্বাচনী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ধরে নিলে ভুল করা হবে। (মূল রচনাঃ যোগেশ সুদ)