পুলওয়ামা হামলার সমুচিত জবাব

ভারতীয় বিমান বাহিনী এ মাসের ২৬ তারিখের ভোরে নিয়ন্ত্রণ রেখার অপর পারে পাকিস্তানের বালাকোট, চাকোথি ও মুজাফফারাবাদে জয়েশ-এ মুহম্মদ-JeM জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাটিঁগুলির ওপর নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানল। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বায়ু সেনার এই জঙ্গি দমন অভিযানের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে অবহিত করলেন; এবং  জানালেন, এই হামলায় জঙ্গি ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে  দেওয়া হয়েছে ও JeM সন্ত্রাসবাদী, তাদের প্রশিক্ষক ও সিনিয়র কম্যান্ডার সহ প্রচূর সংখ্যক জঙ্গি মারা পড়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বিশ্ববাসীর যাবতীয় সংশয় দূর করে বললেন, ভারতের এই অভিযান কোনও সামরিক অভিযান ছিল না;  জঙ্গিঘাঁটিগুলি ধ্বংস করাই ছিল এর একমাত্র লক্ষ্য। এরই সঙ্গে তিনি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন দিল্লির দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করলেন।

উল্লেখ করা যেতে পারে, এ মাসের ১৪ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের লক্ষ্য করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা যে আত্মঘাতী আক্রমণ চালায়, ভারতীয় বায়ু সেনার ১২ টি  মীরাজ ২০০০ বিমান   ২৬’এ ফেব্রুয়ারী তারই যোগ্য জবাব দিল। পাকিস্তান ভিত্তিক JeM জঙ্গি গোষ্ঠী পুলওয়ামা হামলার দায় স্বীকার করায় ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে ইসলামাবাদের প্রশ্রয় দানের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেল। ৪০ জন সি আর পি এফ কর্মীর প্রাণহানিতে দেশব্যাপী  শোকের সময়েও পাক কর্তৃপক্ষ ভারতবাসীর প্রতি সামান্য সহানুভূতি দেখানো তো দূরের কথা, ওই হামলায় সে দেশের হাত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ চাইল নতুন দিল্লির কাছে।

পুলওয়ামা ঘটনার পর থেকেই ভারতের জনগণ ওই বর্বরোচিত হামলার এক যোগ্য জবাব দেবার দাবিতে  ক্রমশ সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এ ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলও সরকারের পাশে দাঁড়ায়।

ভারত এ মাসের ২৬ তারিখে এই বালাকোট অভিযানকে  দ্বিতীয় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বলে বর্ণনা করেছে। অপরদিকে হতচকিত পাকিস্তান ভারতের প্রথম সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পরবর্তী সময়ের মত এবারেও ভারতীয় বায়ু সেনার এই অভিযানের ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করার একটা বেপরোয়া চেষ্টা করল। এমনকি ভারতের এই অভিযান পাক বিমান বাহিনী বানচাল করে দিয়েছে বলেও ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হল। তবে পাকিস্তানে বিভিন্ন বিদেশী সংবাদমাধ্যম এই অভিযানের খবর প্রচার করেছে ; বি বি সি’র সংবাদদাতারাও বালাকোট অঞ্চলের অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে ভারতের এই অভিযানের সত্যতা যাচাই করেছেন।

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ, দেশের মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে ও সরকারের ভাবমূর্তি বজায় রাখার একটা বেপরোয়া প্রচেষ্টা হিসেবে ভারতের এই অভিযানের বিষয়টি যে অস্বীকার করবে সেটাই স্বাভাবিক। অপরদিকে ভারত, এই অভিযানের মাধ্যমে পাক সামরিক বাহিনীর ঔদ্ধত্য  ও ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ওই দেশের ধারাবাহিক প্রশ্রয়দানের এক সমুচিত জবাব দিতে সফল হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারতের অভিযানের  সমর্থনে এগিয়ে এসেছে; যা ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ছায়া যুদ্ধের মোকাবিলায় নতুন দিল্লির মনোবল ও সংকল্প অধিক শক্তিশালী করবে। ২৬’এ ফেব্রুয়ারীর ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের আচরণ কী হবে তা এখন লক্ষ্য করার বিষয়। তবে এই ঘটনা যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি আরও কলুষিত করেছে, তাতে সন্দেহ নেই।

(মূল রচনাঃ- ডঃ  অশোক বেহুরিয়া)