বৃহত্তর সহযোগিতার লক্ষ্যে রুশ-চীন-ভারত বৈঠক

রাশিয়া, ভারত এবং চীন RIC দেশগোষ্ঠীর বিদেশ মন্ত্রীদের ষোড়শ বৈঠক য়ুজেনে হয়ে গেল। পঞ্চদশ বৈঠক হয়ছিল ২০১৭র ডিসেম্বরে ভারত ও চীনের মধ্যে ডোকলাম অচলাবস্থার ঠিক পরেই। তিনটি দেশের নেতারা ২০১৮র নভেম্বরে ব্যুয়েনস এ্যারিসে জি ২০ শিখর সম্মেলনের অবসরে  মিলিত হয়েছিলেন।

ষোড়শ  আর আই সি বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে মূল আলোচনা হয়। ভারতের পররাষ্টমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান স্বীকার করতে চায়না যে তাদের দেশ  সন্ত্রাসবাদের ধাত্রীভূমি  এবং পাকিস্তান থেকে উৎপন্ন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোট অঞ্চলে জয়েশ-এ-মহম্মদের জঙ্গী ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রতিরোধমূলক হানার বিষয়ে তিনি চীন এবং রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রীদের জানিয়ে দেন।

RIC যৌথ বিবৃতিতে সকল ধরণের সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করা হয়। যৌথ বিবৃতিতে রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য জঙ্গী গোষ্ঠীগুলির ব্যবহার এবং তাদের প্রতি সমর্থন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং যারা জঙ্গীদের কার্যকলাপ সমর্থন করে ও তাদের মদত দেয় তাদের দায়ী করতে হবে বলে জানানো হয়। এ থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে চীন এবং রাশিয়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে রয়েছে। তিনটি দেশই সন্ত্রাসবাদের ধাত্রীভূমিকে নির্মূল করার জন্য ঘনিষ্ট নীতি সমন্বয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে। চীনের বিদেশ মন্ত্রী যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার কথা জোর দিয়ে বলেছেন।

যেহেতু চীন জায়েশ-এ-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রসংঘের  সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণায় বাধা দিচ্ছে সেই কারণে ভারতের জন্য এটি খুব ইতিবাচক ঘটনা।

যৌথ বিবৃতিতে তিনটি দেশের মধ্যে ঘনিষ্ট সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে এবং তারা পরস্পরের উদ্বেগ উপলব্ধি  করতে সক্ষম হয়েছে। ভারত-চীনের সম্পর্ক ২০১৭র ডোকলাম থেকে ২০১৮র এপ্রিলে হুহান শিখর সম্মেলন পর্যন্ত অনেকটা পথ অতিক্রম করেছে। চীনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং য়ি ও ২০১৮র ডিসেম্বরে ভারত সফর করে গেছেন। ভারতও চীনের সঙ্গে সম্পর্কে একটা ভারসাম্য গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে।

ভারত, চীন এবং রাশিয়ার পক্ষে এখন RIC অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। ইউরেশিয়া অঞ্চলের তিনটি বড় অর্থনীতিকে নিয়ে গঠিত অন্যতম ত্রিপাক্ষিক গোষ্ঠী এটি। এই দেশগুলি BRICS, পূর্ব এশিয়া সামিট ই এ এস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংগঠনের মত মঞ্চে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলেছ এবং আর আই সি পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়ে মত বিনিময়ের একটি একান্ত মঞ্চ। চীন এবং রাশিয়া এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক পর্যায়ে এই সব দেশের সঙ্গে ভারতের অংশগ্রহণ তাদের কৌশলগত স্বশাসনের পরিচায়ক।

চীনের পক্ষে বেল্ট এবং রোড ইনিসিয়েটিভ বি আর আই বর্তমান বিদেশ নীতির মূল বিষয়। গত কয়েকমাসে বি আর আই-এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয় অর্থনীতির মধ্যে কেবলমাত্র ভারত এবং জাপান চীনের বি আর আই সমর্থন করে না। রাশিয়া সক্রিয়ভাবে বি আর আই তে অংশ নেয়। তাই চীন অন্যদেশগুলিকেও বি আর আই তে যোগদানের  জন্য সব প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে।

রুশ, চীন এবং ভারতের ত্রিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব ভালো। ভারত উভয় দেশের সঙ্গে ঘরোয়া শিখর বৈঠক করেছে। আই আই সি পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়ে তিনটি দেশকে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ হিসেবে আর আই সি বৃহত্তর ইউরেশিয়া অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য খুব তাৎপর্যপূর্ণ।  (মূল রচনাঃ সানা হাশমি)