ভারতের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী জবাব

২৬শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ভোরে ভারত পাকিস্তানের বালাকোটে অবস্থিত জঙ্গী গোষ্ঠী জায়েশ-এ-মহম্মদ (JeM) এর বৃহত্তম ঘাঁটির ওপর হানা দেয়। JeM  ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯এ পুলওয়ামায় জঙ্গী আক্রমনের দায়িত্ব দাবী করেছিল। ঐ আক্রমণে ৪০জন ভারতীয় পুলিশকর্মী প্রাণ হারান। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ প্রস্তাবের আওতায় বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ভারত বারংবার পাকিস্তানকে JeM এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানোর পর জঙ্গী বিরোধী এই বড় পদক্ষেপ নেয়। স্মরণ করা যেতে পারে যে রাষ্ট্রসংঘ JeMকে জঙ্গী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ২০০১  সাল থেকে সদস্যদের প্রতি এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শাস্তি ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

JeM এর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ শক্তিধর দেশগুলি অনুমোদন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘনিষ্ট নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব  ও এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার অভিন্ন লক্ষ্যের প্রতি জোর দেন। তিনি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী কুরেশীর সঙ্গেও কথা বলেন। বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রতি অগ্রাধিকার দেবার কথা বলা হয় এবং পাকিস্তানকে তাদের ভূখন্ডে সক্রিয় জঙ্গীগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা  নিতে বলেন। তিনি উভয় মন্ত্রীকে জানান যে ওয়াশিংটন চায় ভারত ও পাকিস্তান সহিষ্ণুতা বজায়  রাখবে এবং সর্বোতভাবে পরিস্থিতিকে উত্তেজনা মুক্ত করার প্রতি দৃষ্টি দেবে। তিনি উভয় মন্ত্রীকে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে বলেন এবং আর কোনো সামরিক তৎপরতা এড়ানোর প্রতি অগ্রাধিকার দিতে বলেন।

ভারত, চীন এবং রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠক হয় চীনের উজেনে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়ে দেন যে এটি সামরিক অভিযান নয়। কোনো সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয় নি। এই প্রতিরোধমূলক হানার সীমিত লক্ষ্য ছিল ভারতের বিরুদ্ধে আরো কোনো আক্রমণ প্রতিরোধ করতে JeM এর সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠমোতে আঘাত করা। তিন বিদেশ মন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যে রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক-রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য জঙ্গী গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার বা সমর্থন করা যাবে না।

সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ এড়ানোর আহ্বান সত্বেও পাকিস্তান ২৭শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ বিনাপ্ররোচনায় আগ্রাসন চালায় এবং ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাতে ভারতীয় আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে। তবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান এই বিমানগুলিকে বাধা দেয় এবং তাদের পরিকল্পনা বিফল করে। বিমান সংঘর্ষে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৬কে ভারতীয় বিমান বাইনীর এম আই জি -২১ বাইসন গুলি করে নামায়। এই বিমানের পাইলট নিরাপদে নামতে সক্ষম হয়, তবে তার প্যারাশুট পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে গিয়ে নামে, সেখানে পাকিস্তানী সেনা তাকে যুদ্ধ বন্দী হিসেবে হেফাজতে নেয় । জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় বিমানের পাইলটকে ভারতে ফেরত  পাঠানো হচ্ছে। স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় ভারত যুদ্ধ বন্দী ৯৩,০০০ পাকিস্তানী সৈন্যকে বিনাশর্তে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছিল।

এটি উল্লেখ করা জরুরী  পাকিস্তানের তিনটি প্রতিবেশী ভারত, আফগানিস্তান এবং ইরান পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানী ভূখন্ড থেকে ভারত, আফগানিস্তান এবং ইরানের বিরুদ্ধে যে জঙ্গী আক্রমণ হয় সে বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থান সুদৃঢ় এবং সর্বসম্মত। এই ধরণের প্রতিটি ঘটনায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন যে এই সব আক্রমনের ষড়যন্ত্রকারী, সংঘঠন, অর্থ যোগানদার এবং স্পনসরদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে এবং দায়বদ্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রসংঘ সনদের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদের সংস্থান অনুযায়ী পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করা এখন নিরাপত্তা পরিষদের কাজ। (মূল রচনাঃ অশোক মুখার্জী)