সম্পূর্ণ বৈদ্যুতকরণে ভারতের দ্রুত প্রগতি

সকলের জন্য সর্বাত্মক বিকাশের কথা মাথায় রেখে সাম্প্রতিক অতীতে সরকার নানান উন্নয়নী কাজ হাতে নিয়েছে এবং এগুলি এখন দ্রুত সুফল দিতে শুরু করেছে।

এর অন্যতম সৌভাগ্য, প্রধানমন্ত্রী (সহজ বিজলী হর ঘর যোজনা)। এর লক্ষ্য হল প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। ভারত ইতিমধ্যে ২.৪৯ কোটি পরিবারের মধ্যে ২.৩৯ কোটি বাড়িতে এই যোজনার আওতায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। আসলে গত বছর ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ২৫টি রাজ্যে ১০০শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। আসাম, রাজস্থান, মেঘালয় এবং ছত্তিসগড়ে এখনও ১০.৪৮ লক্ষ বাড়িতে বিদ্যুতায়নের কাজ বাকি।

২০১১র জনগণনার ভিত্তিতে আর্থ-সামাজিক এবং জাতিগত ভাবে চিহ্নিত পরিবারগুলিকে এই যোজনার আওতায় নিঃশুল্ক বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে এবং অন্যদের কাছ থকে ৫০০টাকার শুল্ক নেওয়া হয়। যোজনার লক্ষ্য হল অবশিষ্ট সমস্ত বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা।

দারিদ্র সীমার ওপরের পরিবারগুলিকে ৫০০ টাকার বিনিময় বিদ্যুৎ সংযোগ দেবার সংস্থান রয়েছে যা দশটি সমান মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারীরা নিঃশুল্ক এই সংযোগ পাবেন। প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকায় অবস্থিত বিদ্যুৎ বিহীন পরিবারদের বৈদ্যুতিকরণের আওতায় আনার জ্ন্য ২০০-৩০০ ওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ প্যাক দেওয়া হবে। এতে থাকবে ৫টি এল ই ডি লাইট, ১টি ডি সি ফ্যান, ১ ডি সি পাওয়ার প্লাক সহ একটি  ব্যাটারী ব্যাংক। এতে পাঁচ বছরের জন্য মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের সংস্থান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পরিকল্পনার মোট বরাদ্দ ১৬,৩২০ কোটি এবং মোট বাজেট বরাদ্দ ১২,৩২০ কোটি টকা। কেন্দ্র সরকার এই যোজনার জন্য সব রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলকে অর্থ দিচ্ছে।  এই যোজনার ফলে উন্নত স্বাস্থ্য পরষেবা, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, ক্রবর্ধমান অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এবং কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা হবে বলে আশা করা হয়। এতে বিশেষ করে মহিলাদের জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে, রেডিও, টেলিভিসন, মোবাইল পরিষেবার উন্নতি ঘটবে এবং কেরোসিনের বদলে বিদ্যুতের ব্যবহারের ফলে পরিবেশে ব্যবস্থারও উন্নয়ন হবে।

এই প্রয়াসের ফলে  সহজে বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের ক্রমমানে ২০১৮য় দেশ ২৪তম স্থানে উঠে এসেছে। ২০১৪তে এই স্থান ছিল ১১১তম।  প্রতিদিন একলক্ষ হারে গ্রাহক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অর্থনীতির উন্নতি হচ্ছে। বেশ কিছু দিন থেকে ১০ শতাংশ হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা আই ই এ একে ভারতের এবছরের সাফল্যের কাহিনী বলে উল্লেখ করেছে। ভারত এই প্রথম বিদ্যুৎ রপ্তানী করতে শুরু করছে। নেপাল, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে বিদ্যুৎ রপ্তানী করা হচ্ছে।

নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে ২০২২এর মধ্যে এই ক্ষেত্রে ১৭৫ জি ডব্লু ক্ষমতা অর্জন করতে করা হবে।   এর মধ্যে রয়েছে ১০০ জি ডব্লু সৌর শক্তি এবং    ৬০ জি ডব্লু বায়ু শক্তি। গত চার বছরে নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষমতা দ্বিগুণ বেড়েছে, সৌর শক্তির ক্ষমতা বেড়েছে ৮ গুণ।

ভারত বর্তমানে নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে এবং বায়ু শক্তিতে বিশ্বের চার নম্বরে এবং সৌর শক্তিতে দেশের স্থান বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম। গত সাড়ে চার বছরে পর্যাপ্ত সৌর শক্তি চালিত পথ বাতি লাগানো হয়েছে। ৪২ লক্ষ সৌর ল্যম্প বিতরণ করা হয়েছে, ১২ লক্ষ সৌরশক্তি চালিত জলের পাম্প বসানো হয়েছে এবং আড়াই লক্ষ জৈব গ্যাস প্রকল্প বসানো হয়েছে। প্রথম সৌর বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সোলার এ্যালায়েন্স গঠিত হয়েছে। এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদর দপ্তর ভারতে স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ক্ষত্রে বিকাশের কাহিনী কেবল শুরুই হয় নি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।  (মূল রচনাঃ বিনীত ওয়াহি)