ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বাণিজ্য নীতি

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, দেশের আইন সভা-কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে তুরস্ক ও ভারতের জন্য অনুকূল বাণিজ্যিক সংস্থান অবসানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বিকাশশীল দেশ হিসেবে সাধারণ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বাণিজ্য প্রণালী-GSP’র আওতায় ভারতের অবস্থানই সূচিত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ও সর্বপ্রাচীন বাণিজ্য অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে এই GSP’র আওতায় সুবিধাভোগী কয়েকটি দেশ থেকে বিনা শুল্কে হাজার হাজার পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ভারত  ছিল এই ধরণের সুবিধাভোগী দেশগুলির অন্যতম এবং মোট রপ্তানির প্রায় এক চতুর্থাংশ পণ্য বিনা শুল্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে পারত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গত বছর ভারত থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক ধার্য সহ ভারতকে প্রদত্ত GSP’র সুবিধা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর থেকে   দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, মার্কিন পণ্যের জন্য ভারত বাজারের উপযুক্ত সুবিধা দিচ্ছে না বলে সে দেশের কয়েকটি শিল্পের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠায় মার্কিন প্রশাসন ভারতকে প্রদত্ত GSP’র সুবিধা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়।  স্বয়ং মার্কিন রাষ্ট্রপতিও দেশের একটি রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর  ভাষণে ভারতকে অতি উচ্চহারে আমদানি শুল্ক ধার্যকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নত্তি সাধন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তাঁর দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দান ও দেশে যথাসম্ভব অধিক কর্মসংস্থানের  প্রতিশ্রুতি দিয়েই দেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারভিযানের মূল বক্তব্যই ছিল এই বিষয়। এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই  তিনি দেশের অর্থব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর স্বপ্ন ব্যক্ত করেছিলেন।  এ ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা হলেও সফল হয়েছেন বলে অনুমান। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমেরিকার বাণিজ্য নীতিতে সংরক্ষণবাদ অনুসরণের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। কেবল আমেরিকাই নয়,  বিশ্বব্যাপি এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করেই ভারতকে তার নিজ স্বার্থের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

ভারতের বাণিজ্য সচিব অনূপ বর্ধমান বলেছেন, ভারত, তার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক বৈষম্যের অভিযোগ নিরসনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার বার অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং বেশ কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক রেহাই দিতে সম্মতি জানিয়েছে। এ ছাড়া ভারত আরও বলেছে,আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের  বাণিজ্য সম্পর্ক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায়  GSP’র আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের প্রাপ্ত বাণিজ্য সুবিধা একান্তই সামান্য। ভারতের এই বক্তব্য সত্বেও ওয়াশিংটনের মনোভাবে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এদিকে বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান, ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তে, বিশেষ করে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্ভবত এই আশংকার প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার আগামী ৬০ দিন সময়ের মধ্যে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে GSP সহ বাণিজ্য সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ৬০ দিন সময়ের পরেই ভারতের ওপর থেকে GSP’র সুবিধা প্রত্যাহার সংক্রান্ত  মার্কিন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবার কথা। (মূল রচনাঃ- ডঃ স্তুত্তি ব্যানার্জী)