ISRO’র নতুন সাফল্য গাথা

গতমাসে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’ এক সঙ্গে ১০৪টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস গড়লো। এ পর্যন্ত সর্বাধিক ৩৭টি উপগ্রহ একযোগে মহাকাশে পাঠাতে পেরেছিল রাশিয়া ২০১৪ সালে। ভারতের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে সমগ্র দেশবাসী গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সমগ্র জাতির প্রতিনিধি হিসেবে বিজ্ঞানীদের অভিবাদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ১০৪টি উপগ্রহের মধ্যে ১০৩টি ছিল অতিক্ষুদ্র আকারের; যেগুলির প্রত্যেকটির ওজন সর্বাধিক ১০ কিলোগ্রাম। এগুলির মধ্যে অধিকাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ইসরোর নিজের একটি উপগ্রহ ছিল; যার ওজন ১৫০০ পাউন্ডেরও বেশি।

এই বিরল সাফল্যের পিছনে ছিল বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনা ও কর্তব্য কর্মে নিষ্ঠা। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইসরো মঙ্গলযানটি প্রথম প্রচেষ্টাতেই এই লহিত গ্রহের কক্ষপথে স্থাপনে সফল হয় এবং এক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বে ভারতই একমাত্র দেশ হিসেবে নিজের স্থান করে নেয়। মঙ্গল গ্রহের কক্ষ পথে স্থাপনে সাফল্যের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার পর  ভারত হল চতুর্থ দেশ।

ভারতের আরেকটি সাফল্য হল দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে যথা সম্ভব কম খরচে অত্যাধুনিক উপগ্রহ নির্মাণ। উদাহরণ হিসেবে মঙ্গলযান নির্মাণে খরচ হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার। অপর দিকে ২০১৩ সালে মঙ্গল গ্রহে পাঠানো আমেরিকার মহাকাশ যানটির নির্মাণে খরচ হয় ৬৭ কোটি ১০ লক্ষ ডলার। বর্তমান দিনগুলিতে ইসরো মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে সংবাদপত্রের শিরোনামে এসেছে। সরকারও এক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ দিন দিন বৃদ্ধি করছে। ২০২০’র মধ্যে ইসরোর বছরে ১২ থেকে ১৮টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর যোজনা রয়েছে।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচির একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত উন্নত দেশগুলির প্রাথমিক লক্ষ্য হল মনুষ্য সহ মহাকাশ যান অন্তরীক্ষে পাঠিয়ে ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি রহস্য উদঘাটন। অপর দিকে, ভারতের প্রধান লক্ষ্য হল মহাকাশে উপগ্রহ পাঠিয়ে তার মাধ্যমে মানব সমাজের কল্যাণ সাধন। যেমন আমরা উপগ্রহ পাঠিয়ে ভূ-মানচিত্রের নিখুঁত নক্সা তৈরি করেছি, দেশের কোথায় কেমন ফসল হয়েছে তা জরিপ করতে পেরেছি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ভূমি ক্ষয়ের দরুণ কোথায় কেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সমীক্ষা করে সেই মত ব্যবস্থা গ্রহণের কর্মসূচি রচনা করছি, দেশের টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করতে পারছি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও টেলিভিশন পৌঁছে দিতে পারছি। অর্থাৎ এক কথায় আমরা মহাকাশ কর্মসূচিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেশের সমাজ ও অর্থ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে নিরলস চেষ্টা করে চলেছি।

ইতিমধ্যে ইসরো আরেকটি যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করতে চলেছে এবং তা হল দেশীয় প্রযুক্তিতে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনের উদ্ভাবন। সম্প্রতি এই নতুন ইঞ্জিনের কার্য ক্ষমতার সর্বশেষ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই ইঞ্জিন ব্যবহারে জ্বালানিকে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ সম্ভব হয় এবং তার ফলে এই উপগ্রহের কর্মক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই ক্রায়োজনিক ইঞ্জিন ব্যবহারে সৌর জগতের রহস্য সন্ধানে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে এক নতুন সাফল্য আসবে।