আজকের সংবাদপত্র থেকে

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা  আজ একটি ভিন্ন স্বাদের খবর ছেপেছে। এক তরুণীর সততার পরিচায়ক “ রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিলেন তরুণী” শীর্ষক খবরে পত্রিকাটি লিখেছে,
“টানাটানির সংসার। কিন্তু তাতে কী? রাস্তায় পড়ে থাকা এক লক্ষ টাকা-সমেত একটি ব্যাগ কুড়িয়ে পেয়ে, তরুণী তা ফিরিয়ে দিলেন ব্যাগের মালিককে। শনিবার বিকেলে শান্তিপুরের ফুলিয়া মাঠপাড়ার ঘটনা।
বাবা টোটো চালান। তাতে সংসার টেনে দুই ভাইবোনের স্কুল-কলেজের খরচ মেটে না। কন্যাশ্রীর এককালীন ২৫ হাজার টাকাটা হাতে পেতেই তাই পড়াশুনার পাশাপাশি ব্যবসা করার কথা মাথায় আসে তাঁর। সেই মতো মাসখানেক আগে জেরক্স, মোবাইল রিচার্জের দোকান খুলে বসেন শান্তিপুর কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী কুহেলি বসাক।
এ দিনও দোকানেই ছিলেন কুহেলি। হঠাৎই লক্ষ করেন দোকানের সামনে রাস্তায় একটি ব্যাগ পড়ে রয়েছে। পরিচিত আর এক যুবক প্রতুল বসাকও দেখতে পান ব্যাগটি। দু’জনে মিলে সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাগটি রেখে দেওয়া হয় কুহেলির দোকানে।
এ দিকের ব্যাগ না পেয়ে হন্যে হয়ে বিভিন্ন দোকানে খোঁজ করছিলেন উজ্জ্বল হালদার। শেষে কুহেলির দোকানেও আসেন তিনি।
এ দিন উজ্জ্বলবাবু বলেন, “বাজার থেকে ফেরার পথে মোটরবাইক থেকে ব্যাগটা পড়ে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমি কুহেলির কাছে এলে আমাকে পুরো টাকা সমেত ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়েছে।”
উজ্জ্বলবাবুর বাড়ি ফুলিয়া লাগোয়া কালীপুরে। তিনি পেশায় তাঁতশিল্পী। বাড়িতে রাজমিস্ত্রি কাজ করছে। তাই শনিবার ফুলিয়াতে তাঁর মহাজনের কাছ থেকে আর ব্যাঙ্ক থেকে কিছু টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সব মিলিয়ে ব্যাগে মোট এক লক্ষ টাকা ছিল। পরে ফুলিয়ায় একটি ওষুধের দোকান থেকে ওষুধও কেনেন। এর পরে দুপুরে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় ফুলিয়া মাঠপাড়ায় কুহেলির দোকানে সামনে ব্যাগটি পড়ে যায়।
কিছু দূর যাওয়ার পর উজ্জ্বলবাবু টের পান, মোটরবাইকের পিছনে ব্যাগ নেই। এর পর সারা দুপুর তিনি ফুলিয়ার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে খোঁজ করেন। পরে শনিবার বিকেলে জানতে পারেন কুহেলির দোকানে একটি ব্যাগ রয়েছে। ব্যাগে কী কী রয়েছে বলতেই কুহেলি টাকা সমেত ব্যাগ উজ্জ্বলবাবুর হাতে তুলে দেন। উজ্বলবাবু বলেন, ‘‘টাকাটা না পেলে আমি চরম সমস্যায় পড়তাম।’’
কুহেলির কথায়, “আমার যদি এ রকম হতো, আমিও কষ্ট পেতাম। টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। উনি না এলে থানায় জানাতে হতো।” কুহেলির সততার পরিচয় পেয়ে খুশি হয়ে উজ্জ্বল হালদার তাঁকে এবং প্রতুলবাবুকে দু’হাজার করে মোট চার হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত আজকাল পত্রিকাটিও একটি মানবিক খবর ছেপেছে। পত্রিকাটি “অরুণাচলে আটক ১২৭ ভ্রমণার্থীকে উদ্ধার” শীর্ষক খবরে লিখেছে,
“প্রবল তুষার ঝড়ে অরুণাচলপ্রদেশের তাওয়াং এলাকায় আটকে পড়েছিলেন ১২৭ জন পর্যটক। তাদের উদ্ধার করল সেনা। ওই পর্যটকদের মধ্যে পাঁচ জন বিদেশি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার রাত থেকেই তাঁরা আটকে ছিলেন সেখানে। খবর পাওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ে সেনাবাহিনী সেখানে পৌঁছায়। রাতের অন্ধকারেই শুরু হয় উদ্ধার কাজ। সোমবার ভোরে তা শেষ হয়েছে।  সেনা আধিকারিক এস এস বিরদি বলেছেন, ‘‌১২৭ জন পর্যটকের উদ্ধারকাজ সফল ভাবেই শেষ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পর্যটকের মধ্যে জাপান, নিউজিল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার পাঁচজন পর্যটকও ছিলেন।’‌ সেনার তরফে জানানো হয়েছে, অভিযানের শেষে এক বিদেশি পর্যটকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। বুলগেরিয়ার ওই নাগরিক পা ফসকে খাদে পড়ে যান। সেখান থেকে তিনি নিজেকে বের করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে মাঝরাতের দিকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পর্যটকদের উদ্ধারের পর পর্যটকদের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হয়।“
বাংলাদেশের ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  “অবৈধদের দেশ ছাড়তে ৯০ দিন সময় দিল সৌদি সরকার” শীর্ষক খবরে লিখেছে,
সৌদি আরবে অবৈধভাবে বসবাস করা অন্য দেশের নাগরিক ও শ্রমিকদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য বা নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য ৯০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ।
 সৌদি সরকার প্রকাশিত এক গেজেটে বলা হয়, সৌদি আরবের উপ প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ মুহাম্মদ বিন নায়িফ রবিবার ‘এ নেশন উইদাউট ভায়োলেটরস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিন মাসের এই ‘সাধারণ ক্ষমার’ ঘোষণা দেন।
 গেজেটে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন নায়িফ জানান, অনুমতি ছাড়া বসবাস, ইকামা ছাড়াই অবস্থান, সরকারি অনুমতি না নিয়ে কাজ করা এবং সৌদি আরবে অবৈধ অনুপ্রবেশের মত অপরাধের ক্ষেত্রে আগামী ২৯ মার্চ থেকে সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য হবে। যারা এই সুযোগ নেবেন, তাদের কোন শাস্তি ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হবে। এমনকি ভবিষ্যতে কাজ নিয়ে আবারো বৈধভাবে সৌদি আরবে আসার সুযোগ থাকবে তাদের।
 উল্লেখ্য, সৌদি আরবের নিয়ম অনুসারে অবৈধভাবে বসবাস বা কাজ করা কোন বিদেশী নাগরিক ধরা পড়লে তাকে জরিমানা, কারাগার বা উভয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। সেই সঙ্গে এই নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে আঙুলের ছাপ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে আর সৌদি আরবে কাজের জন্য আসার অনুমতি প্রদান করা হয় না।
 কিন্তু তিন মাসের এই সাধারণ ক্ষমার সুযোগ যারা নেবেন, তাদের আঙুলের ছাপ নেয়া হবে না। সেই সঙ্গে পরবর্তীতে তারা চাইলে সৌদি আরবে আবারো কাজের জন্য আসতে পারবেন বলে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল মনসুর আল জানান।
  বাংলাদেশের ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা “ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানে বৈশ্বিকসূচকে বাংলাদেশের সাফল্য” শীর্ষক খবরে লিখেছে,
‘তামাকজাত পণ্যে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশের অবস্থান এখন সারাবিশ্বে ৫৭তম। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ৪র্থ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১০তম।
কানাডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটি সারা বিশ্বে তামাকপণ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের অবস্থা নিয়ে তাদের ৫ম প্রতিবেদনে সূচকে বাংলাদেশের এই সাফল্যের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ।  বাংলাদেশে তামাকপণ্যে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করার এক বছর পূর্ণ হয়েছে শনিবার ১৯ মার্চ। ২০১৬ সালের এদিন থেকে সকল তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উপরিভাগের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কিত রঙ্গিন ছবি ও লেখা সম্বলিত স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়…………” ।
পত্রিকাটি আরও লিখেছে,”প্রতিবেদনে যৌথভাবে প্রথমস্থানে রয়েছে নেপাল এবং ভানুয়াতু। এই দুইটি দেশ তামাকপণ্যের মোড়কের উভয় পার্শ্বের ৯০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী চালু করেছে। ৮৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত এবং থাইল্যান্ড………”।