পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও পানামা পেপার্স

For Sharing

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আজ সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তাঁর সন্তানদের জড়িয়ে পানামা গেট মামলার রায় দিয়েছেন। ৩-২ বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে পানামা গেট মামলায় আবার তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত এই বিষয়ে রায়দান স্থগিত রাখে।

পাক সুপ্রীম কোর্ট তদন্তের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ তদন্তকারি দল-JIT গঠনের আদেশ দেন এবং দু সপ্তাহ অন্তর আদালতের বেঞ্চের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলেন। নওয়াজ শরিফ  ও তাঁর দুই পুত্রকে JIT’র সামনে  হাজির হবারও নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্ত দলে থাকবেন- যুক্তরাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থা,জাতীয় দায়বদ্ধতা ব্যুরো, সিকিউরিটি  অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা-MI’এর  আধিকারিকগণ।

উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি সম্পূর্ণ করার ৫৭ দিন পর সর্বোচ্চ আদালত এই রায় দিলেন।

নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে কালো টাকার বৈধকরণের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাটি গত বছর তেসরা নভেম্বর পাক সুপ্রিম কোর্টে  দায়ের করা হয় এবং ৩৫টি শুনানির পর গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি এই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়। মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার একটি আইনি সংস্থা, মোসাক ফানসেকারের তথ্য বিশ্ব প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাতে উল্লেখ আছে, ৯০এর দশকে নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানে দুবার প্রধানমন্ত্রী   থাকাকালে লন্ডনে প্রচুর সম্পত্তি কেনেন এবং বিদেশের বহু কোম্পানির মালিকানা স্বত্ব ক্রয় করে শরিফের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে  তিনজন। তবে শরিফ পরিবার এই  অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশের বিরোধী নেতা ইমরান খানও শরিফ পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিচারের দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

উল্লেখ্য, পানামা পেপার্স নামে এই নথিতে সারা বিশ্বের বহু রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতা ও ধনকুবেরদের বেআইনি আর্থিক কাজকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের মতে, সুপ্রিম কোর্টের গতকালের রায়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সাময়িক রেহাই মিললেও পরবর্তী তদন্তে তাঁর রাজনৈতিক জীবন অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে, পাকিস্তানে আগামী বছর সাধারণ নির্বাচন। ইমরান খান ও অন্যান্য বিরোধী  দলগুলি এর রাজনৈতিক লাভ  উঠাতে চাইবে। পাক সেনাবাহিনীও ঘটনাক্রমের ওপর নজর রাখছে। প্রাক্তন সেনাধ্যক্ষ জেনারেল রহিল শরিফ দেশে বেশ জনপ্রিয় এবং তিনিও  পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক  মঞ্চে প্রবেশ করতে পারেন। নওয়াজ শরিফের একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাকলেও বিরোধী পক্ষ এখন তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির স্লোগান তুলছে। আগামী নির্বাচনে দুর্নীতির প্রসঙ্গটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে চাপান উতোর যে বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই।  এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় কি হবে তার ওপর বহুলাংশে  এখন নওয়াজ শরিফের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ভর করছে। (মূল রচনাঃ ডঃ স্মিতা)