আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত  ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’  “সরলেন না শরিফ, ফের পানামা তদন্ত” শীর্ষক খবরটি প্রকাশ করে লিখেছে,

“দুর্নীতির দায়ে গদি হারানো থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। আজ সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে শরিফ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য যৌথ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে পাক সুপ্রিম কোর্ট। শরিফ শিবির এই রায়কে নিজেদের জয় বলে দাবি করলেও তিনি রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেন বলেই ধারণা কূটনীতিকদের।

২০১৫ সালে পানামার একটি ল’ ফার্ম থেকে ফাঁস হওয়া নথি তোলপাড় ফেলে দেয় বিশ্বের নানা প্রান্তে। তাতে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থায় রাজনীতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রথম সারির ব্যক্তিত্বদের বিনিয়োগ নিয়ে তথ্য ছিল। কর ফাঁকি দিতেই ওই ব্যক্তিত্বরা বিদেশি সংস্থায় বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই তালিকায় নাম ছিল নওয়াজ শরিফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও। অভিযোগ ওঠে, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে লন্ডনে প্রচুর সম্পত্তি কিনেছেন শরিফরা।

এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে শরিফ সরকারকে প্যাঁচে ফেলতে আসরে নেমে পড়ে বিরোধী দলগুলি। সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা আবেদনে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ জানায়, শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করা উচিত।

আজ সেই মামলারই রায় ঘোষণা করেছে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। দুই বিচারপতি শরিফকে সরানোর পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু তিন বিচারপতি সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে সরানোর মতো তথ্যপ্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের জন্য যৌথ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। সেই কমিটিতে অন্য তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে থাকবেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অফিসারও।

বিষয়টিকে নিজেদের ‘জয়’ হিসেবেই দেখাতে চাইছে শরিফের দল পিএমএল (এন)। দলের তরফে জানানো হয়েছে, শরিফ ইস্তফা দেবেন না। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই নেই। তদন্তেই সেটা প্রমাণ হবে। তবে ইমরান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির আসিফ আলি জারদারির মতো বিরোধী নেতাদের দাবি, শরিফের এখনই ইস্তফা দেওয়া উচিত। কারণ, তাঁর আইনজীবীরা ওই বিনিয়োগ নিয়ে যে ‘কাহিনি’ আদালতে পেশ করেছেন তা বেঞ্চ পুরোপুরি খারিজ করেছে। এক ধাপ এগিয়ে কোর্টের রায়ের নিন্দাও করেছেন জারদারি।

ঘটনায় কড়া নজর রাখছে দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের কর্তাদের মতে, এই রায়ে শরিফ কিছুটা দুর্বল হলেন। তাতে খুশি হবে পাক সেনা। এ ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটিতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার থাকায় সেনা শরিফের উপরে চাপ বাড়ানোর বাড়তি সুযোগ পাবে বলেও ধারণা কূটনীতিকদের। তবে এখনই ভারত-পাক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তাঁরা।”

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আজকাল’ সংবাদপত্র “মার্কিন ভিসা নীতি শিথিলের দাবি জেটলির” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতির জেরে বিপদে পড়েছেন ভারতীয়রা। মার্কিন সফরে গিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ওয়াশিংটনে বাণিজ্যিক সচিব উইলবার রসের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তিনি। সেখানেই এইচওয়ানবি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প সরকারের নীতি শিথিল করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন অর্থনীতিকে মজবুত করতে সেখানে কর্মরত ভারতীয়দেরও সমান অবদান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা কাজ করছেন সেখানে। রয়েছে বিভিন্ন ভারতী সংস্থাও। এতে দুই দেশই লাভবান হয়েছে। কড়া ভিসা নীতি এনে তাতে খামোখা বাগড়া না দিলেই হয়। তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন উইলবার। জানিয়েছেন, ভিসা নীতি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে মার্কিন সরকার ‘‌আমেরিকা ফার্স্ট’‌ নীতি থেকে একচুল সরবে না। ভিসা নীতিতে যাই বদল আসুক না কেন, দক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দেবে ট্রাম্প সরকার। যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই মার্কিন মুলুকে কাজের সুযোগ পাবেন।

আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার (‌আইএমএফ)‌‌ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে বিশেষ প্রতিনিধি দল নিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন জেটলি। ভিসা নীতির পাশাপাশি, দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও উইলবারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। নোট বাতিলের পর বছর ভারতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মোদি সরকার কী কী পরিকল্পনা নিতে চলেছে তা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। আগামী কয়েকবছরে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ যাতে ৫০০০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়ায় সে প্রস্তাবও রেখেছেন। আগামী দু’‌দিন আমেরিকা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সুইডেনের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক করবেন জেটলি। দেখা করবেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গেও। ভিসা সমস্যা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করবেন।”

ঢাকা থেকে প্রকাশিত “কালের কন্ঠ”  পত্রিকাটি তার অনলাইন সংস্করণে “চীনকে মুখের উপর জাবাব দিলো ভারত” শিরোনামে লিখেছে,

“ভারতের মানচিত্রে থাকা জায়গার নামকরণ করে বেশ হম্বিতম্বি করছিল চীন। ভারতের সীমান্তের এপারে দখল করার সেই স্বপ্নকে একেবারে মুখের উপর জবাব দিয়ে দিল ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কয়েকটা জায়গার নামকরণ করেই প্রতিবেশী দেশ যেন না ভাবে যে অবৈধ অধিকারকে বৈধ বলে দাবি না করে। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

দালাইলামার অরুণাচল প্রদেশ সফরের জবাবে যেভাবে সেখানকার ৬টি জায়গার নাম চীন বদলে দিয়েছে, তাতে তীব্র আপত্তি জানাল নয়াদিল্লি। তিব্বতী ধর্মগুরুকে অরুণাচলে যাতে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়, তার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল চীন। কিন্তু তাতে পাত্তা না দিয়ে দালাইকে দেওয়া অনুমতি বহাল রাখে কেন্দ্র। এরই পাল্টা, চীন ঘোষণা করে, তারা ভারতের উত্তরপূর্বের ওই প্রদেশের ৬টি জায়গার সরকারি নাম বদলে নতুন নাম দিয়েছে। তাদের দাবি, অরুণাচল যেহেতু তিব্বতের অংশ, তাই সেখানকার জায়গার নাম বদলের পদক্ষেপে কোনও অন্যায়ই নেই।

কিন্তু ভারত যে প্রতিবেশীর এই আচরণ বরদাস্ত করতে তৈরি নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়ে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে জানান, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি চিনের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার প্রতিবেশী দেশের জায়গার নাম বদলে বা সেখানকার নতুন নাম আবিষ্কার করলেই সেই জায়গা বেআইনি ভাবে দখল করে রাখাটা বৈধ হয়ে যায় না।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু জানিয়ে দেন, নাম বদলে কোনও প্রভাবই পড়বে না ভারতের ওপর। বলেন, কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনও জায়গার নাম পরিবর্তনের বিন্দুমাত্র অধিকার নেই।

তিনি আরও বলেন, অরুণাচলের প্রতিটি ইঞ্চি ভারতের। ওরা নাম বদলাক না, কী আসে যায় তাতে।”