ICJ’র আদেশ ভারতের পক্ষে

For Sharing

কূলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ডের ওপর আন্তর্জাতিক আদালত ICJ’র স্থগিতাদেশ, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানকেই সমর্থন করেছে। ICJ চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত কূলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার জন্য পাকিস্তানকে বলা হয়েছে। পাকিস্তানের একটি সামরিক আদালত ১০ই এপ্রিল যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। কূলভূষণ যাদবের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হবার ২২ দিন পর পাকিস্তান তা ভারতকে জানায়। ভারত কূলভূষণ যাদবের সঙ্গে ১৩ বার কথা বলার অনুমতি চাইলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তা দেওয়া হয় নি।

পাকিস্তান কূলভূষণ যাদবের যথাযথ বিচার না করে তাঁকে ফাঁসি দিতে পারে এই আশঙ্কায় ভারত আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়। ভারত বলে, ভিয়েনা চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে কূলভূষণ যাদবের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভারত আদালতকে আরও বলে, আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কূলভূষণ যাদবকে যেন ফাঁসি দেওয়া না হয়।

এদিকে, পাকিস্তান ICJ’তে জানিয়েছে, পাক সামরিক আদালতের শাস্তি  ঘোষণার অন্তত ১৫০ দিনের মধ্যে যাদবকে ফাঁসি দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক আদালতের প্রধান রনি আব্রাহাম তাঁর রায়ে বলেন, এ বিষয়ে শুনানির এক্তিয়ার আদালতের রয়েছে।

আদালত আরও বলে, পাকিস্তান ভিয়েনা চুক্তির ৩৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে; কারণ চুক্তির সংস্থান অনুযায়ী কূলভূষণ যাদবের সঙ্গে কথা  বলার অনুমতি ভারতকে দেওয়া হয় নি।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত ৪০ দিনের মধ্যে কূলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড ইসলামাবাদ পুনর্বিবেচনা করবে বলে মনে হয় না। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতের রায় কতটা মেনে চলে সেটাও দেখার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে পাকিস্তান বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে যাবে বলেই মনে হয়।

তবে অন্তত আন্তর্জাতিক আদালত চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান কূলভূষণ যাদবকে ফাঁসি দেবে না বলে আশা করা যায়। এটাই তাঁর পরিবার ও সমব্যথিদের আশা। ( মূল রচনাঃ ডঃ অশোক বেহুরিয়া)