আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। তবে অধিকাংশ সংবাদপত্রেই কুলভূষণ যাদবের ফাঁসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ও ভারতের কূটনৈতিক বিজয় সংক্রান্ত খবরটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা  “ কুলভূষণের ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ,আন্তর্জাতিক আদালতে বড় জয় ভারতের” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আন্তর্জাতিক আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা না করা পর্যন্ত কুলভূষণ যাদবকে ফাঁসিতে ঝোলাতে পারবে না পাকিস্তান। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, ইসলামাবাদকে তা জানাতে হবে। কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস কর্মীদের দেখা করতে দেয়নি পাকিস্তান। ফলে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষের আগেই কুলভূষণের প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে। একের পর এক অস্বস্তি। দ্য হেগ-এর আন্তর্জাতিক আদালতে আজ এ ভাবেই ধাক্কা খেল পাকিস্তান। অন্তর্বর্তী রায়ে আদালতের প্রেসিডেন্ট-বিচারপতি রনি আব্রাহাম যা বললেন, তার নির্যাস উপরের লাইনগুলো। যেখানে কুলভূষণের ফাঁসির উপরে শুধু যে স্থগিতাদেশ বসেছে তা-ই নয়, মান্যতা পেয়েছে ভারতের যাবতীয় অভিযোগ। এই রায়ে উৎফুল্ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশংসা করেছেন ভারতের আইনজীবী হরিশ সালভের। টুইটারে সুষমা লিখেছেন, ‘‘কুলভূষণকে বাঁচাতে চেষ্টার কসুর করব না আমরা। আন্তর্জাতিক আদালতের ঘোষণা পাকিস্তানের স্বরূপ চিনিয়ে দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, চূড়ান্ত রায়ও আমাদের পক্ষে যাবে।’’

ভারতের অভিযোগ, ১৬ বার আর্জি সত্ত্বেও কুলভূষণের সঙ্গে তাঁর দেশের কূটনীতিকদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সেই অভিযোগে সিলমোহর দিয়ে আজ আন্তর্জাতিক আদালতের ১১ জন বিচারক একমত হয়েছেন যে, এই মামলার আশু শুনানির প্রয়োজন ছিল। কারণ পাকিস্তান কোথাও বলেনি, আন্তর্জাতিক আদালতে রায় ঘোষণার আগে কুলভূষণকে ফাঁসি দেওয়া হবে না। তা ছাড়া, বিতর্ক আছে তাঁর গ্রেফতারি নিয়েও।

পাকিস্তানের যদিও যুক্তি, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধৃতকে কূটনৈতিক সাহায্য দেওয়া যায় না। পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে ভারত নিজের আসল চেহারাটা লুকোতে চাইছে।’’ জাকারিয়া আরও বলেছেন, এই রায় তাঁরা মানেন না। বিষয়টি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার। তা আন্তর্জাতিক আদালতের এক্তিয়ারে পড়ে না। আদালতের পাল্টা দাবি, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী সেই এক্তিয়ার তাদের রয়েছে।

পাকিস্তান কি রায় অগ্রাহ্য করবে? কূটনীতিকরা বলছেন, সম্ভাবনা কম। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। তারা জানে, কুলভূষণকে তড়িঘড়ি ফাঁসি দেওয়া হলে সেই পথ বন্ধ হতে পারে। তা ছাড়া নওয়াজ শরিফ সরকারের সঙ্গে তলায় তলায় কথা চালাচ্ছে মোদী সরকার। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পাকিস্তান আজ বলেছে, কুলভূষণের বিরুদ্ধে আরও জোরদার প্রমাণ দেবে তারা। অর্থাৎ, ভারত কিছুটা সময় পেল। আর রাজনীতিতে মুখরক্ষা হল মোদীর……………”।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আজকাল’ পত্রিকা  “ কুলভূষণ নিয়ে ঘরেই চাপে পাকিস্তান” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে।

পত্রিকাটি লিখেছে, “কুলভূষণ যাদব মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে আগেই হার হয়েছে পাকিস্তানের। এবার পাকিস্তানের ভিতরেই কুলভূষণ বিষয়ে দেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন আধিকারি কূলভূষণ যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। সেনা আদালতের বিচারে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। কুলভূষণের সঙ্গে অন্তত ১৬ বার যোগাযোগের আবেদন করেছে ভারতীয় দূতাবাস। পাকিস্তান অনুমতি দেয়নি। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক রনি অ্যাব্রাহামও এই প্রশ্নই তুলেছেন। তাঁর কথায় দূতাবাসকে যোগাযোগ করতে না দেওয়ায় ভিয়েনা চুক্তি ভঙ্গ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সাধারণ মানুষও এখন বলছেন, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীর বলেছেন, ‘‌যাদবের সঙ্গে দূতাবাসকে দেখা করতে না দেওয়ার মতামত কে দিল?‌ ভারতের জেলে আটকদের কি বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হল না?‌ কেউ কি আন্তর্জাতিক নিয়ম বদলাতে পারে?‌’‌ পাকিস্তানের প্রবীণ আইনজীবী ইয়াসের লতিফ হামদানিও বলেছেন, ‘‌প্রথম থেকেই কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসকে যোগাযোগ করতে দেওয়া উচিত ছিল। আইসিজে কখনও বলতে পারে না যে বন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না”।‌

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকা “কুলভূষণের ফাঁসি স্থগিত আন্তর্জাতিক আদালতে”শীর্ষক একটি খবর ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ভারতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালত ভারতীয় সাবেক নৌসেনা কুলভূষণ যাদব আদৌ দোষী কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এসংক্রান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর না করতে পাকিস্তানের প্রতি আদেশ দিয়েছেন।

এ রায়ের ফলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে এ বিষয়ে যেন হস্তক্ষেপ না করার যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা নাকচ হয়ে গেলে। আন্তর্জাতিক আদালত বলেছেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ীই কুলভূষণ যাদবের মামলায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন আন্তর্জাতিক আদালত।

গুপ্তচরগিরির অভিযোগে পাকিস্তানে আটক ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া কুলভূষণ যাদবকে দেশটিতে ভারতকে কনসুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক আদালত বলেছেন, ভিয়েনা কনভেনশনের শর্ত অনুযায়ী কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে ভারতীয় দূতাবাসের। কোন পরিস্থিতিতে কুলভূষণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাও স্পষ্ট নয়। সোমবার আন্তর্জাতিক আদালতে এসংক্রান্ত জরুরি শুনানিতে ভারত ও পাকিস্তান দুই পক্ষই হাজির ছিল। এতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পাকিস্তানের সামরিক আদালত ‘গুপ্তচরগিরি ও সন্দেহজনক কার্যকলাপ’-এর দায়ে গত মাসে কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

দিল্লি জানিয়েছে, তারা ১৬ বার পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছিল বন্দি কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হোক। কিন্তু প্রতিবারই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ”।