ভারত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ডোকালাম সমস্যার মোকাবিলা করবে

For Sharing

ভুটানের কাছে ডোকালাম এলাকায় চীন ও ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকাটা উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকগণ মনে করেন, চীনের প্রচার মাধ্যম অকারণে যে কঠোর ভাষা ব্যবহার করছে তা নজীরবিহীন।

গত ১৬ই জুন চীনের সেনা বাহিনী রাস্তা তৈরির সাজসরঞ্জাম নিয়ে ভুটান সংলগ্ন ডোকালাম এলাকায় ঢুকে পড়ে। ভুটানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন রয়েছে। ঐ দেশের আবেদনে সাড়া দিয়ে  চীনের অগ্রগতি প্রতিহত করতে ভারত সেখানে সেনা পাঠায়।

চীনের শাসক দলের সমর্থনে সে দেশের সংবাদ মাধ্যম ভারত বিরোধী প্রচার  চালাচ্ছে। তবে ভারতের প্রতিক্রিয়া অনমনীয় হলেও উত্তেজনা প্রশমনের জন্য  ভারত সচেষ্ট রয়েছে।

চীন বিভিন্ন বিষয়ে তার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে  সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে চলেছে। দক্ষিণ চীন সমুদ্রে পেইচিং তার উপস্থিতি বাড়ানোয় প্রতিবেশী দেশগুলিতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিষয়েও চীনের অবস্থা ভাল নয়। চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

চীনের প্রচার মাধ্যমের প্ররোচনা সত্বেও ভারত অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে তার মোকাবিলা করেছে। ভারতের প্রচার মাধ্যমেও শালীনতা বজায় রাখা হয়েছে।

ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্তে এধরণের ঘটনা বিরল নয়। অতীতেও এধরণের ঘটনা ঘটেছে তবে দুটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আপোশে সমস্যার   সমাধান করেছেন। উভয় দেশ সীমান্তে দীর্ঘ দিন ধরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করও সম্প্রতি বলেছেন, দুটি দেশের এই সঙ্কট কাটিয়ে না ওঠার কোন কারণ নেই। তিনি বলেছেন, দুটি দেশের মতপার্থক্য  যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সিন হুয়াতে  মন্তব্য করা হয়েছে ভারতীয় সেনা বাহিনী সরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত আলোচনার কোন সম্ভাবনা নেই।  এ ধরণের মন্তব্য কোন বিষয়ের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হয় না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হামবুর্গে শিখর সম্মেলনের অবকাশে রাষ্ট্রপতি শি চিনফিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও BRICS জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেইচিং-এ যাবেন।

ভারত সরকার  ধৈর্য ধরে ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে বলে বিরোধীদের আশ্বাস দিয়েছে।  (মূল রচনাঃ আশ নারায়ণ রায়)