আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা “মসুলের জেলে ৩৯ ভারতীয়, ধারণা সুষমার” শীর্ষক একটি বহু প্রতীক্ষিত খবর প্রকাশ করেছে। ইরাকের মসুলে কর্মরত এই ভারতীয় শ্রমিকদের বিষয়ে এতদিন কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের দেওয়া এই খবরে পরিবারের লোকজন অন্তত কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করতে পারবেন। পত্রিকাটি লিখেছে, “তিন বছর আগে ইরাকে অপহৃত ৩৯ জন ভারতীয় মসুলের জেলে আটক থাকতে পারেন বলে ধারণা বিদেশ মন্ত্রকের। আজ ওই নিখোঁজ ভারতীয়দের আত্মীয়স্বজনের একটি দলকে এ কথা জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

বছর তিনেক আগে ইরাকে আইএসের হাতে বন্দি হন ৪০ জন ভারতীয়। পরে তাঁদের মধ্যে হরজিৎ মাসিহ নামে এক জনের খোঁজ মেলে। তিনি দাবি করেন, বাকি ৩৯ জনকে আইএস জঙ্গিরা খুন করেছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকার সে কথা মানতে রাজি হয়নি। বরং নানা সূত্রে ওই ভারতীয়দের বেঁচে থাকার খবরই পাওয়া গিয়েছে বলে বার বার দাবি করেছে বিদেশ মন্ত্রক। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিম এশিয়া সফরের সময়ে প্যালেস্তাইনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও তাঁকে এমন খবরই জানিয়েছিলেন বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর।

সম্প্রতি ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মসুল দখল করেছে ইরাকি সেনা। তার পরে ইরাকে যান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিংহ। আজ নিখোঁজদের আত্মীয়দের সঙ্গে বৈঠকে সুষমা জানিয়েছেন, ইরাকি সরকারের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর কথা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই ভারতীয়দের প্রথমে একটি হাসপাতাল তৈরির কাজে লাগানো হয়েছিল। পরে তাঁদের একটি খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরে পাঠানো হয় পশ্চিম মসুলের বাদুশ এলাকার একটি জেলে। সুষমা জানিয়েছেন, পূর্ব মসুল ইরাকি সেনা দখল করেছে। সেখানে এখনও বাড়়িঘর থেকে বিস্ফোরক সরানোর কাজ চলছে। পশ্চিম মসুলে লড়াই চলছে। ফলে, এখনও ওই ভারতীয়দের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগামী ২৪ জুলাই ভারতে আসছেন ইরাকের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ইব্রাহিম আল জাফরি। বিদেশমন্ত্রীর আশা, জাফরি ওই ভারতীয়দের সম্পর্কে আরও তথ্য জানাতে পারেন। ওই অঞ্চলের অন্য কয়েকটি দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। অপহৃত ভারতীয়দের খুঁজতে তাঁরাও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন”।

বেশ কিছুদিন ডোকা লা  মালভূমি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েন চলছে। এরই রেশ টেনে  কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আজকাল’ পত্রিকা তার অন লাইন সংস্করণে “ভারতের উন্নতিতে নজর চিনের” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

“ডোকা লা নিয়ে সিকিম সীমান্তে ইন্দো–চীন টানাপোড়েন চলছে। তারইমধ্যে ভারতের ক্ষমতাবৃদ্ধি বেজিংয়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘‌দ্য গ্লোবাল টাইমস’ সেকথা মেনেছে। তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার বদলে রণনীতি পাল্টানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‌অতীতে ভারতের হাতে যথেষ্ট পুঁজি ছিল না। দক্ষ শ্রমিকের অভাব ছিল। যার ফলে উন্নত উৎপাদন ক্ষেত্র ছিল না। কিন্তু মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের জেরে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে। ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উৎপাদন ক্ষমতাও। যা তাদের অর্থব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং শিল্প উন্নয়নের ওপর অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন চীনা সংস্থারও তাদের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দু’‌দশক আগে ঠিক এভাবেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল চীন। তাই ভারতের উন্নতিতে বেজিংয়ের শঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন। আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বদলে ফেলা উচিত রণকৌশল।’‌ ভারতে বিনিয়োগকারী চীনা সংস্থাগুলির একটি তালিকাও সামনে এনেছে তারা। যার মধ্যে রয়েছে ‘‌ওপ্পো,’‌ ‘‌ভিভো,’‌ ‘‌লেনোভো,’‌ এবং ‘‌জিয়াওমি’‌–র মতো স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। রয়েছে ‘‌মিডিয়া গ্রুপ’–এর মতো টিভি, রেফ্রিজারেটর, মিক্সার, জামা–কাপড় কাচার যন্ত্র‌, ইস্ত্রি প্রভৃতি প্রস্তুতকারক সংস্থাও। প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খরচ করে পুণে–তে কারখানা গড়বে বলে সম্প্রতি ঘোষণা কেরছে তারা। ২০১৮ সালের মধ্যে সেটি চালু হয়ে যাবে। যার ফলে পরবর্তী পাঁচ বছরে ৫০০–র বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে”।

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক আস্ফালন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তার অহি নকুল সম্পর্ক এবং আমেরিকাকেও পিয়ংইয়ং’এর হুমকি ভরা বার্তা বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ব সংবাদের শিরোনামে। এরই মধ্যে  বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা একটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত খবর প্রকাশ করল।  পত্রিকাটি “উ. কোরিয়াকে বিরল সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার”  শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

উত্তর কোরিয়ার একেরপর এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণে কোরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা চরম অবস্থায় পোঁছালেও দেশটির সঙ্গে বিরল সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাবে প্রতিবেশী দেশটি সাড়া দিলে, তা হবে ২০১৫ সালের পর এ অঞ্চলের যুদ্ধাবস্থা উত্তেজনা প্রশমনের সবচেয়ে যুগোপযোগী পন্থা।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার ঊর্ধ্বতন এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই কোরিয়ার সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা চরমে নিয়ে যেতে পারে, এমন প্রতিকূল ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করা উচিত। আর এজন্য নিজেদেরই আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে।’ আর এতে করে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনও উদ্ভূত সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে।

 

সম্প্রতি বার্লিনে দেয়া এক বক্তব্যে মুন বলেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচী বন্ধে দেশটিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বা চাপে রেখে কোনো সমাধান সম্ভব হবেনা। তারচেয়ে বরং এ সমস্যার জন্য শান্তি চুক্তি ও বহুপাক্ষিক সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে”।