আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত  ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “প্রথম উপরাষ্ট্রপতির শপথ, যিনি স্বাধীন ভারতে জন্মেছেন” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

“উপরাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং শীর্ষ বিজেপি নেতা এম বেঙ্কাইয়া নায়ডু। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে ১৩তম উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিলেন তিনি। বেঙ্কাইয়া প্রথম উপরাষ্ট্রপতি যিনি স্বাধীন ভারতে জন্মেছেন………। “গত ৫ অগস্ট দেশের ১৩তম উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন বেঙ্কাইয়া। এই পদের জন্য তাঁর বিরোধী প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গাঁধীকে পরাস্ত করেন। এ দিন নরেন্দ্র মোদী রাজ্যসভায় বলেন, “কৃষক পরিবারের সন্তান বেঙ্কাইয়া নায়ডু। রাজ্য এবং কেন্দ্রের হয়ে কাজ করেছেন। ফলে গ্রামীণ ও মফফসল এলাকা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট ধারণা আছে। নায়ডুর প্রশংসা করে মোদী আরও জানান, দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যসভায় আছেন বেঙ্কাইয়া। সুতরাং উচ্চকক্ষের কাজকর্ম সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। এ দিন নতুন উপরাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে কংগ্রেসও।

দক্ষিণের মাটিতে নিজেদের ভিত শক্ত করতেই উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য বেঙ্কাইয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি। সেই অনুযায়ী তাঁকে গোপালকৃষ্ণ গাঁধীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করানো হয়। রাজ্যসভা সুষ্ঠু ভাবে চালাতে পারবেন, আর সব দলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে— এই শর্তেই উঠে আসে তাঁর নাম”।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘সংবাদ প্রতিদিন’ পত্রিকা তার অন লাইন সংস্করণে “পাকিস্তানে বহাল তবিয়তেই দায়ুদ! ফোনে ধরা পড়ল কন্ঠস্বর” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, “পাকিস্তানে বহাল তবিয়তেই রয়েছে কুখ্যাত মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম। নতুন করে এই ইস্যুতে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা সামনে এসেছে। জাতীয় স্তরের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধরা পড়েছে দাউদের কন্ঠস্বর। সেই গলার আওয়াজ মিলিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তারা নিশ্চিত, ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন দাউদ স্বয়ং। কারণ সন্দেহজনক সেই কন্ঠস্বর মিলছে দাউদের সঙ্গেই।

অন্ধকার জগতের বেতাজ বাদশা দাউদকে নিয়ে জল্পনার যেমন শেষ নেই। তেমনই শেষ নেই তদন্তেরও। বিভিন্ন সংবাদ হাওয়ায় ভাসে তাকে নিয়ে। সম্প্রতি জানা গিয়েছিল, মারণ রোগে আক্রান্ত এই ডন। হয়তো বেঁচেও নেই। কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে, টেলিফোনের কথোপকথনে স্পষ্ট, শুধু বেঁচে নয়, রমরমিয়ে চলছে ডি কোম্পানি। পাকিস্তান প্রশাসন ও সরকারি মদতে চলছে ডনের কারবার। এই প্রথম,হয়তো দুর্ঘটনাবশতই টেলিফোনে কোনও সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা হল দাউদের। রিপোর্ট অনুযায়ী, গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে থাকা দাউদের কন্ঠস্বর মিলে গিয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলা স্বরের সঙ্গে। তবে তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। কন্ঠস্বরের নমুনা আরও ভালও ভাবে খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারী আধিকারিকরা। করাচির অনতিদূরেই একটি প্রাসাদপ্রতীম বাংলোতে বাস”………।।“ প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মুম্বই স্টক এক্সচেঞ্জে একটি ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে প্রায় ৩১৫ জন মারা যান। এই বিস্ফোরণের মাস্টার মাইন্ড দাউদ। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে একাধিক ঘাঁটি আছে দাউদ ইব্রাহিমের। পরিস্থিতি অনুসারে নিয়মিত জায়গা বদল করে এই মাফিয়া ডন। বিভিন্ন এজেন্সি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পরিসংখ্যান রয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা তার অন লাইন সংস্করণে “আফগানিস্তানে বিষ্ফোরণে ৩০ তালেবান জঙ্গি নিহত” শীর্ষকে একটি  খবর ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারাহ প্রদেশে আকস্মিক বিস্ফোরণে ৩০ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। প্রাদেশিক সরকারের এক মূখপাত্র শুক্রবার সিনহুয়াকে একথা জানায়।
বিস্ফোরণটি ঘটে বৃহস্পতিবার ফারাহ শহরের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বালা বুলকের পিওয়া পেসাওয়ে। এর আগে জঙ্গিরা সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালায়।

তিনি বলেন, আত্মঘাতি বোমা হামলাকারীরা জ্যাকেট পরে প্রস্তুতি নেয়ার সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ৩০ জঙ্গি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়। এ বিষয়ে তালেবান জঙ্গি গ্রুপ তাৎক্ষনিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকা একটি ভিন্ন স্বাদের খবর ছেপেছে। “ ৯১ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করলেন এই বৃদ্ধা” শীর্ষক একটি খবরে পত্রিকাটি লিখেছে, “বয়স ৯১ বছর। তাতে কী এসে যায়! জানার কোনো বয়স নেই- এমনই মত থাইল্যান্ডের বাসিন্দা কিমলান জিনাকুলের। তাই এই বয়সেই ফের একবার পড়াশোনার ইচ্ছা জেগেছিল এই বৃদ্ধার। ১০ বছর ধরে গভীর মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনাও করেছেন। শেষে গত ৯ অগাস্ট সুখোথাই থাম্মাথিরাট ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন ৯১ বছরের কিমলান।

কিমলানের কথায়, ‘যদি আমরা না পড়ি, না লিখি, কিছুই না জানি, তাহলে কী ভাবে কথা বলব। আর তার যথাযথ মানেও বোঝাও যাবে না।

কিমলান লামপাং প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে তিনি উত্তর ব্যাংককের ফায়াও প্রদেশে বসবাস করেন। কিমলানের ছেলে মঙ্কল জিনাকুল জানিয়েছেন, শরীরের জন্য মাঝে মধ্যে পড়াশোনায় বিরতি দিতে হতো তাঁদের মাকে। কিন্তু তাঁরা সব সময় কিমলানকে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন।

তাঁর কথায়, ‘আমরা ছেলে-মেয়েরা সব সময় মাকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিতাম। তাঁর অদম্য মনোবল। জানতাম এক দিন তিনি সফল হবেনই।

থাম্মাথিরাট ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ‘হিউম্যান অ্যান্ড ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন কিমলান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এই বছরে ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১৯৯ জন পড়ুয়া পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সফল ভাবে উত্তীর্ণ কিমলান। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে তাঁর হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন দেশের রাজা ভাজিরালংকর্ন”।