কাঠমাণ্ডুতে BIMSTEC  সম্মেলন

For Sharing

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ক্ষেত্রীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রয়াস –BIMSTEC সম্মেলন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হোল নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সাতটি সদস্য দেশের এই পঞ্চদশ BIMSTEC সম্মেলনে  ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সহ বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটান, মিয়ানমার, শ্রী লংকা ও থাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীগণ  সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা  আরও  মজবুত করার পন্থা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করলেন।

আয়োজক দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেওবা, দু দিনের এই সম্মেলনে তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারিত্বের আদর্শকে অধিক শক্তিশালী করার এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলির একযোগে মোকাবিলার আহ্বান জানালেন।, বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তেজঃশক্তি, পর্যটন, দারিদ্র দূরীকরণ, পরিবেশ ও সন্ত্রাস দমন সহ  সহযোগিতার ১৪ টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের ওপর আলোচনা হোল। সদস্য দেশগুলির মধ্যে যত শীঘ্র সম্ভব ‘অবাধ বাণিজ্য অঞ্চল চুক্তি’ সম্পাদনের গুরুত্বের কথা বলা হোল।

BIMSTEC  ছাড়াও শ্রীমতী স্বরাজ নেপালী নেতৃত্বের সংগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করলেন। ভারত, নেপাল ও ভূটানের লাগোয়া ডোকলাম এলাকাকে কেন্দ্র করে  ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শ্রীমতী স্বরাজের এই নেপাল সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপুর্ণ। নেপাল এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বলে কাঠমাণ্ডু ইতিমধ্যে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি ও প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেওবার সংগে পরিকাঠামো উন্নয়ন, তেজঃশক্তি, যোগাযোগ, ও জল বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ জড়িত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। সে দেশের উপ প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশ মন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা’র সংগে শ্রীমতী স্বরাজ, নতুন দিল্লির অর্থ সহায়তায় সে দেশে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। নেপালি প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের বিষয়েও সে দেশের কর্তৃপক্ষের সংগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন। শের বাহাদুর দেওবা এ মাসের ২৩ তারিখে নতুন দিল্লি সফরে আসছেন। রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টী নেপাল’এর একটি প্রতিনিধিদলও শ্রীমতী স্বরাজের সংগে কথা বলেছেন। আগামী ১৮’ই সেপ্টেম্বর নেপালে স্থানীয় সংস্থার তৃতীয় পর্যায়ের নির্ধারিত নির্বাচনের আগে এই দল সংবিধান সংশোধনের দাবী জানাচ্ছে। তবে দেশের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই/তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন আদায় করা শের বাহাদুর দেওবা সরকারের পক্ষে প্রকৃতপক্ষে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। নেপাল সরকার দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সংগে নিয়ে, সব জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবিদাওয়ার প্রতি ন্যায় বিচারের মনোভাব নিয়ে এই চালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারবে বলেই নতুন দিল্লি কামনা করে। ভারত সব সময়েই এই ঘনিষ্ট প্রতিবেশী দেশ নেপালকে একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে পাশে পেতে আগ্রহী।(মূল রচনাঃ- রতন সালদি)