আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত  ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “আইএস ঘাঁটি থেকে উদ্ধার ভারতীয় পাদ্রি” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করে  লিখেছে,

“অপহৃত হওয়ার ১৮ মাস বাদে ইয়েমেনের আইএস জঙ্গিদের হাত থেকে উদ্ধার করা হলো ভারতীয় পাদ্রি টম উঝুন্নালিলকে। এক বছর আগে ইয়েমেনের আদেনে মিশনারিজ অব চ্যারিটির একটি বৃদ্ধাশ্রমে হামলা চালিয়ে কেরলের ওই ফাদারকে অপহরণ করে জঙ্গিরা। মঙ্গলবার তাঁর উদ্ধারের খবর জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

এ দিন সুষমা টুইট করেছেন, ‘‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি ফাদার উঝুন্নালিলকে উদ্ধার করা হয়েছে।’’ বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর, ওমান সরকারের মধ্যস্থতায় উদ্ধার হয়েছেন বছর পঞ্চাশের ওই ফাদার। ইয়েমেন থেকে আজই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাস্কাটে। সেখান থেকে বিমানে কেরল ফিরে যাওয়ার কথা তাঁর। ওমান সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘‘সুলতান কাবুস বিন সৈয়দের (ওমানের সুলতান) নির্দেশে ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভ্যাটিকানের এক কর্মীকে উদ্ধার করেছি। আজ সকালে মাস্কাট পাঠানো হয়েছে তাঁকে। সেখান থেকে ভারতে নিজের বাড়ি ফিরে যাবেন তিনি।’’

২০১০ সালে মিশনারিজ অব চ্যারিটি থেকে আদেনের এক বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয় কেরলের কোট্টায়াম জেলার বাসিন্দা ফাদার টমকে। পাঁচ বছর বাদে তাঁর কাজের সময়সীমা ফুরিয়ে গেলেও অন্য কেউ দায়িত্ব নেওয়ার আগে পর্যন্ত চার্চের নির্দেশে ইয়েমেনেই থেকে যান তিনি। ২০১৬-র ৪ মার্চ ওই বৃদ্ধাশ্রমে হানা দিয়ে চার সন্ন্যাসিনী-সহ ১৬ জনকে হত্যা করে আইএস। অপহরণ করে নিয়ে যায় এই ক্যাথলিক যাজককে। এর কিছু দিনের মধ্যেই শোনা যায়, ফাদার টমকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যার হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা। যদিও পরে ক্যাথলিক সংগঠন ‘দ্য ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া জানায়, এই খবর ভুয়ো। ফাদারের মুক্তির জন্য অপহরণকারীদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেয় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

গত ডিসেম্বরে আইএস ডেরা থেকে তাঁকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পোপ ফ্রান্সিসের কাছে একটি ভিডিও মারফত আবেদন জানান ফাদার টম। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘ইউরোপীয় যাজক হলে আমায় আগেই উদ্ধারের চেষ্টা করা হতো। ভারতীয় বলেই আমায় গুরুত্ব দিচ্ছে না ভ্যাটিকান।’’ চলতি বছর মে-মাসে ফের একটি ভিডিওয় উদ্ধারের আর্জি জানান ফাদার। বলেন, ‘‘আমার শরীর খারাপ। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দরকার। দয়া করে আমায় সাহায্য করুন।’’ আজ ফাদার টম উঝুন্নালিলের একটি ছবি প্রকাশ করেছে ওমানের সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় পোশাক পরে সুলতান কাবুসের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। সাদা লম্বা দাড়ি-গোঁফে মুখ ঢাকা। এক বছরে চেহারাও ভেঙে গিয়েছে অনেকটাই। জঙ্গি ডেরা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আজ পরিবার-বন্ধু ও ক্যাথলিক ভাই-বোনদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওই যাজক”।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আজকাল’ পত্রিকা “বাজারে আসছে ১০০ টাকার কয়েন” শীর্ষক খবরে লিখেছে,

“এবার ১০০ টাকার কয়েন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। খুব শীঘ্রই তা নিয়ে  আসা হবে বলে খবর। এআইএডিএমকে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ডঃ এমজি রামচন্দ্রনের জন্মবার্ষিকীর দিন এই কয়েন চালু করা হবে বলে খবর। ১১ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছিল। হঠাৎ এই ১০০ টাকার কয়েন নিয়ে আসার কারণ কী তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। একই দিনে নতুন ৫ টাকার কয়েনও চালু করা হবে বলে নোটিফিকেশনে উল্লেখ রয়েছে…।

এই ১০০ টাকার কয়েনের সামনের অংশে থাকবে সিংহের অশোকস্তম্ভ। যার মাঝে দেবনাগরি অক্ষরে লেখা থাকবে সত্যমেব জয়তে। আর টাকার চিহ্ন দিয়ে লেখা থাকবে ১০০। ঠিক তার পিছনের দিকে ছবি থাকবে ডঃ এমজি রামচন্দ্রনের। এই ১০০ টাকার কয়েনের ওজন হচ্ছে ৩৫ গ্রাম।
আর নতুন ৫ টাকার কয়েনটি হচ্ছে আড়াই সেন্টিমিটার বৃত্তাকার। সেখানে থাকছে ৭৫ শতাংশ তামা, ২০ শতাংশ জিঙ্ক এবং নিকেল ৫ শতাংশ। এই কয়েনটির ওজন ৬ গ্রাম। তামিলনাড়ুর সরকার আগে কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছিল ভারতরত্ন প্রাপককে যথাযথ শ্রদ্ধা জানিয়ে এম জি রামচন্দ্রনের জন্মশতবার্ষিকী হিসাবে স্মারক মুদ্রা এবং বিশেষ ডাক টিকিট চালু করতে। তামিলনাড়ু সরকারের আর্জি বাস্তবে রূপ পেতে চলেছে বলে অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর”।

 বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা “সিঙ্গাপুরের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন হালিমা ইয়াকুব” শীর্ষকে একটি  খবর ছেপেছে। পত্রিকাটি  লিখেছে,

“নগর রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি মালয় সম্প্রদায়ের ৬২ বছর বয়স্ক হালিমা ইয়াকুব। যিনি দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সোমবার দেশটির নির্বাচন বিভাগ তাকে প্রেসিডেন্ট পদে একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

স্থানীয় দৈনিক নিউ স্ট্রেইট টাইমস গতকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, অন্য সব প্রার্থী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় তিনিই এখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশটির প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনে আর কোনো যোগ্য প্রার্থী না থাকায় হালিমা ইয়াকুবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সিঙ্গাপুরের অষ্টম এবং প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন হালিমা। যিনি বাণিজ্য সমৃদ্ধ দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবেন। জানা গেছে, কুইন স্ট্রিটে ১৯৫৪ সালের ২৩ আগস্ট হালিমা’র জন্ম। ১৯৭০ সালে তানজং ক্যানটং গার্লস স্কুলে এবং পরে সিঙ্গাপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এরপর ১৯৭৮ সালে ন্যাশনাল ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসে (এনটিইউসি) একজন আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর তাকে ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০১১ সালে তিনি সামাজিক উন্নয়ন, যুব ও খেলাধুলা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। এর দু’বছর বাদে তিনি দেশটির সংসদে প্রথম নারী স্পিকার নিযুক্ত হন”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকাটি “রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে হোয়াইট হাউজের উদ্বেগ” শীর্ষক খবর প্রকাশ করে  লিখেছে,

“মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে যে সহিংসতা চলছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আজ বুধবার এক বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ বলছে, গত ২৫ আগস্ট বার্মার নিরাপত্তা পোস্টগুলোতে হামলার জের ধরে কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আমরা আবারো নিন্দা জানাচ্ছি এইসব হামলার যা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষদের তাদের আবাসসস্থল থেকে উচ্ছেদ হওয়া ও তাদের ওপর নির্যাতন এটাই প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারছে না। এছাড়া হত্যা, নির্যাতন, গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া ও ধর্ষণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘণের যে অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাতেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ।

মিয়ানমার সরকার যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সহিংসতা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা দেয়া সে আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যেভাবে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার সে উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউজ”।