আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয়  প্রকাশ পেলেও বেশিরভাগ পত্রিকায় জাপানের সহায়তায় আমেদাবাদে ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পের শিলান্যাস বিষয়ক খবরটি প্রাধান্য পেয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “ ‘বন্ধু’ জাপানের হাত ধরে বুলেট পথে ভারতীয় রেল” শীর্ষক খবর  প্রকাশ করে  লিখেছে,
“অপেক্ষার অবসান। বৃহস্পতিবার আমদাবাদে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। আমদাবাদ-মুম্বই বুলেট ট্রেনটি ২০২২-এর ১৫ অগস্ট থেকে এ দেশে চলবে বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রক। রেলমন্ত্রী পিযূষ গয়াল জানিয়েছেন, ২০২২ সালের মধ্যেই মুম্বই থেকে আমদাবাদ পর্যন্ত দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

স্বাধীনতা দিবসের দিনই দেশের দ্রুততম এই ট্রেনের চাকা প্রথম গড়াবে। সে বছর আবার স্বাধীনতা দিবসের ৭৫তম বর্ষ। পরিকল্পনামাফিক প্রাথমিক স্তরে মুম্বই থেকে আমদাবাদের মধ্যে বসবে বুলেট ট্রেনের লাইন। মুম্বই থেকে আমদাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করবে এই ট্রেন। গড়ে ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে চলবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ভারতের যে কোনও দ্রুততম ট্রেনের থেকে যা অনেক বেশি।

পরিকল্পনামাফিক প্রাথমিক স্তরে মুম্বই থেকে আমদাবাদের মধ্যে বসবে বুলেট ট্রেনের লাইন। মুম্বই থেকে আমদাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করবে এই ট্রেন। গড়ে ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে চলবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ভারতের যে কোনও দ্রুততম ট্রেনের থেকে যা অনেক বেশি। ফলে ৫০৮ কিলোমিটার যে পথ অতিক্রম করতে এখন সময় লাগে সাত ঘণ্টা মতো, সেটাই কমে দাঁড়াবে দু’ঘণ্টায়। গোটা পথটিতে থাকবে ১২টি স্টেশন। বান্দ্রা থেকে কুরলা পর্যন্ত এই ট্রেন সমুদ্রের নীচ দিয়ে যাবে। প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ৮১ শতাংশ অনুদান দেবে জাপান। চুক্তি অনুযায়ী ৫০ বছরে ০.১ শতাংশ সুদের হারে এই টাকা ফেরত দিতে হবে ভারতকে”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘বাংলদেশ প্রতিদিন’ পত্রিকাও ঐ একই খবর প্রকাশ করেছে। “জাপানের সাহায্যে প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন ভারতের” শীর্ষক এই খবরটি প্রকাশ করে লিখেছে,

“জাপানের সহযোগিতায় দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে ভারত।  ঘণ্টায় ৫০৮ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন এ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থই দিচ্ছে জাপান।

৭৫০ আসন বিশিষ্ট এ ট্রেনটি ২০২২ সালের আগস্ট থেকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের মধ্যে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।  আজ বৃহস্পতিবার সকালে গুজরাটের আহমেদাবাদে দুই প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।  জাপান এ প্রকল্পের জন্য ভারতকে মোট ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে।

ট্রেনটি চালু হলে মাত্র তিন ঘণ্টায় গুজরাটের আহমেদাবাদ শহর থেকে মুম্বাই পৌঁছানো সম্ভব হবে।  এখন এক শহর থেকে আরেক শহরে পৌঁছাতে আট ঘণ্টা সময় লাগে।

ভারতীয় রেলওয়ে প্রতিদিন ২২ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহণ করে।  দেশটির রেলওয়ের বেশিরভাগ যন্ত্রই বিকল এবং ব্যবহারের অযোগ্য।  এর ফলে হরহামেশাই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।  বুলেট ট্রেন চালু হলে রেলওয়ে পরিবহনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা ভারতের”।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত  ‘সংবাদ প্রতিদিন’ “শিশু নিগ্রহের বিরুদ্ধে সরব  সত্যার্থী” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“দেশের বিভিন্ন স্কুলে শিশুহত্যার ঘটনা চলছে। তাতে উদ্বিগ্ন নোবেলজয়ী সমাজকর্মী কৈলাস সত্যার্থী। রাজনীতিকদের স্কুলে ফিরে যেতে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। সাধারণ মা–বাবার মতো স্কুলঘুলি ঘুরে দেখতে বলেছেন। যাতে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় খামতি খুঁজে বের করা যায়। এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়। দেশ জুড়ে শিশুদের ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর কন্যাকুমারীতে তিন বছর ব্যাপী ‘‌ভারত যাত্রা মিছিল’–এর সূত্রপাত করেন তিনি। বুধবার তা চেন্নাই পৌঁছয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘‌রাজনৈতিক মহলের কাছে আমার অনুরোধ যে, দয়া করে সাধারণ মা–বাবাদের মতো স্কুলগুলি একবার ঘুরে দেখুন। নিজের চোখে সেখানকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থআ দেখে আসুন। খামতি চোখে পড়লে প্রশ্ন করুন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের আদর্শ জায়গা। সেখানে নৃশংসতা কাম্য নয়। পরপর এই ধরনের ঘটনায় এবার অন্তত ঘুম ভাঙুক। নইলে আমাদের নিরীহ শিশুদের নির্যাতন সয়ে যেতে হবে। দেশে তাদের নিরাপত্তা বলে কিছুই থাকবে না।’‌ শিশুশ্রম ও শিশু নিগ্রহের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন কৈলাস সত্যার্থী। ১৯৮০ সালে ‘‌বচপন বাঁচাও আন্দলন’‌–এর সূত্রপাত ঘটান তিনি। ২০১৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  মিয়ানমারে রোহিঙ্গা উপজাতিদের দুর্দশা নিরসনের লক্ষ্যে সেদেশের সরকারের গৃহীত একটি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি “মিয়ানমারে ১৫  সদস্যের কমিটি  গঠন কফি আনান কমিশনের সুপারিশ” শীর্ষক একটি খবরে  লিখেছে,

“রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করেছে মিয়ানমার সরকার। মঙ্গলবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট অফিসের এক বিবৃতিতে এই তথ্য  জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ১৫ সদস্যের এই কমিটি রোহিঙ্গা এলাকার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি দেখবে। কমিটি জাতিগত সংখ্যালঘুদের গ্রামে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও কাজ করবে। এছাড়া কমিটি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টিও বিবেচনা করবে এবং এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করবে।

গত মাসে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন কমিশন রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তদন্ত করে সুপারিশ পেশ করে। গত বছর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চি কফি আনান কমিশন গঠন করেন। কিন্তু কফি আনান কমিশন রিপোর্ট প্রদানের পরপরই একটি সন্ত্রাসী হামলায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার জের ধরে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এতে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয় অনেকে। নির্যাতন ও মৃত্যুর ভয়ে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এ নিয়ে মিয়ানমারের সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল জরুরি বৈঠকে বসেছে। এদিকে আসিয়ান সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি যাতে উত্থাপন করা না হয় সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। আগামী নভেম্বরে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে”।