রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে ভারতের অবস্থান

For Sharing

মানবাধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘ হাই কমিশনার জেঈদ আল হুসেন সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে সেদেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সুচিন্তিত ভাবে নিধনের অভিযোগ এনেছেন। নির্যাতনের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নতুন দিল্লির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।  নতুন দিল্লি এই অভিযোগ জোরালো ভাবে খন্ডন করেছে।

একথা সত্য যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মিয়ানমারের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও ১৯৮২ সাল থেকে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সেদেশের নাগরিকত্বের অধিকারহীন এবং তারা  ক্রমাগত নির্যাতন ও শোষণের স্বীকার হচ্ছে। বৌদ্ধ সংখ্যা গরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বাঙালি হিসেবে অভিহিত। সেকারণেই তাদের মূলত বাংলাদেশী বলেই আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই জন্ম নেওয়া কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠীর বাংলাদেশ সংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদী হামলা দমনের জন্য সেদেশের সামরিক বাহিনীর অভিযানে প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ সহ বেশ কয়েকটি দেশ সন্ত্রাসদমনের নামে মিয়ানমার সেনার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। তাদের হিসাব মত গত ১ সপ্তাহে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদিকে, ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী, সেদেশে ইতিপূর্বেই ৪ লক্ষ রোহিঙ্গা উপজাতি আশ্রয় নিয়ে আছে এবং শরণার্থীদের এই ক্রমবর্ধমান চাপ সেদেশে অর্থনৈতিক তথা সামাজিক ছাড়াও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে নতুন দিল্লির বিরুদ্ধে শরণার্থী সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘ হাইকমিশনারের কিছু বক্তব্যকে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অন্তঃসার শূন্য বলে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শরণার্থীদের সমস্যার বিষয়ে ভারত সহানুভূতিশীল। তবে, বে-আইনী ভাবে প্রবেশ করা এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থী দেশের নিরাপত্তার সামনেও এক বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেছেন, নতুন দিল্লি ইতিপূর্বেই মিয়ানমার সরকারকে সেদেশের রাখাইন প্রদেশে অসামরিক মানুষদের স্বার্থ রক্ষায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের এবং সেখানে হিংসার অবিলম্বে অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে নতুন দিল্লি রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলারও নিন্দা করেছে।

প্রকৃত পক্ষে ভারত যেকোনও ধরণের সন্ত্রাসবাদ দমনে সংকল্পবদ্ধ। তবে, সাধারণ নিরীহ মানুষের ওপর যাতে সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে অত্যাচার না হয় তা সুনিশ্চিত করতেও নতুন দিল্লি অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি তাঁর মিয়ানমার সফরে আন্তর্জাতিক মহলকে এই বার্তাই দিয়েছেন। শ্রী মোদি শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায় বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হতে সেদেশের সরকারকে অনুরোধ করেছেন। তিনি রাখাইন প্রদেশ উন্নয়ন কর্মসূচি রূপায়ণে নতুন দিল্লির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছেন।

নতুন দিল্লি বলেছে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, তীব্বত ও আফগানিস্তান সহ বহু দেশ থেকে আগত শরণার্থীরা ভারতে  আশ্রয় পেয়েছে; তবে রোহিঙ্গা সমস্যা যে ভয়াবহ মানবিক সংকটের রূপ নিয়েছে,  তা সমাধানের জন্য সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই এখন এগিয়ে আসতে হবে।

(মূল রচনা : – যোগেশ সুদ)