আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা  “কিমকে রুখতে বৈঠক ট্রাম্পের” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

“গত সপ্তাহেই ইঙ্গিতটা দিয়ে রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইট করে বলেছিলেন, ‘একটা জিনিসেই এখন কাজ হবে’। উত্তর কোরিয়ার প্রতি বার্তাটা তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সরাসরি না বললেও তিনি যে তলে তলে যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছেন, পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল অনেকের কাছেই। এ বার আক্ষরিক অর্থে সেই প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষাসচিব জেমস ম্যাটিস-সহ কয়েক জন শীর্ষ স্থানীয় সামরিক উপদেষ্টার সঙ্গে গত কাল বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। যার বিষয়বস্তু ছিল, উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন এবং আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলিকে হুমকি দেওয়া থেকে আটকাতে এই মূহূর্তে ঠিক কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ম্যাটিস ছাড়াও কালকের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড…।

এত দিন শুধু মুখে যুদ্ধের কথা বললেও এ বার সরাসরি সে নিয়েই ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছেন ট্রাম্প।

একই সঙ্গে কাল থেকে কোরীয় উপসাগরে বেড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তৎপরতাও। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পিয়ং ইয়ংকে শক্তি প্রদর্শন করতে কাল কোরীয় উপসাগরের উপর দিয়ে উড়েছে দু’টি মার্কিন সুপারসনিক বোমারু বিমান। শুধু তা-ই নয়, জাপান সাগরে কাল আমেরিকার সঙ্গে যৌথ মহড়া দিয়েছে জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনীও। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই মহড়ার মাধ্যমে আমেরিকা ও তার বন্ধুপক্ষ উত্তর কোরিয়াকে দেখাতে চায়, তারা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত..”।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘সংবাদ প্রতিদিন’ পত্রিকাটি “চাপে পড়ে ভোলবদল,  ভারতকে শান্তির বার্তা পাক সেনাপ্রধানের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করে  লিখেছে,

“তর্জন-গর্জন করে ঢোঁক গিলল পাকিস্তান। হল না ছিঁটেফোঁটা বর্ষণ। ভারতের বিরুদ্ধে চিরকাল বিষোদ্গার করতেই অভ্যস্ত ওই দেশ। তবে এবার প্রবল চাপের মুখে পড়ে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তানের মুখেই শোনা যাচ্ছে সন্ধির বাণী।এতদিন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আস্ফালন করে এলেও বুধবার সুর নরম করে শান্তি আলোচনার পক্ষেই সওয়াল করেন পাক সেনপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া।

করাচিতে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনার জন্য অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাজওয়া। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। সীমান্ত বিবাদ সমাধানে আলোচনার পক্ষেই মত আমাদের।” দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, সুনিশ্চিত পরিকল্পনা মাফিক চলতে হবে দেশকে। নিরাপত্তায় থাকা ছোট ছোট গলদ খুঁজে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করার আহেই নির্মূল করতে হবে।

সম্প্রতি, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে চরমে উঠে ভারত-পাক দ্বৈরথ। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়াদিল্লির সামনে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে ইসলামাবাদ। এমনকী ‘পরম বন্ধু’ চিনও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়নি। তার উপর রয়েছে মার্কিন চাপ। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই শান্তির বুলি আওড়াচ্ছে পাকিস্তান বলে মত ওয়াকিবহল মহলের। তবে শান্তির কথা বললেও, ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেন পাক সেনাপ্রধান। তাঁর দাবি, শান্তি আলোচনায় সায় নেই নয়াদিল্লির। তবে সীমান্তে লাগাতার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

পাক সেনাপ্রধানের বয়ানকে চাপের মুখে নতিস্বীকার বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তবে তাঁদের একাংশ মনে করছেন, শান্তির কথা বললেও কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাবে পাক সেনা ও আইএসআই। ফলে তৈরি থাকতে হবে ভারতকেও। উল্লেখ্য, সদ্য এক রিপোর্ট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে নয়াদিল্লির কাছেই গোপন সুড়ঙ্গ তৈরি করছে পাক সেনা। ওই সুড়ঙ্গে থাকবে পারমাণবিক মিসাইল ও বোমা। এই পদক্ষেপেই  নিজেদের অভিসন্ধি স্পষ্ট করে দিয়েছে সে দেশ”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’’ পত্রিকা  “কাতালান সরকারকে ৮ দিন  সময় দিল স্পেন” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

“স্বাধীনতার ডাক বর্জন করতে কাতালোনিয়ার সরকারকে আট দিনের সময় দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়। কাতালোনিয়ার সরকার এতে ব্যর্থ হলে অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন স্থগিত করে সরাসরি অঞ্চলটির শাসনভার গ্রহণ করার দিকে যাবেন বলে বুধবার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তার এই পদক্ষেপে মাদ্রিদের সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওই সমৃদ্ধ অঞ্চলটির বিরোধ আরো গভীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এতে ১৯৮১ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যূত্থানের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের একটি সমাধানেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

স্পেনের সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ কার্যকর করলে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষমতা পাবেন রাখয়, এরপর তিনি সম্ভবত ওই অঞ্চলটিতে নির্বাচনের ডাক দেবেন। মঙ্গলবার রাতে কাতালোনিয়া আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট কর্লোস পুজদেমন প্রতীকী স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা স্থগিত করে মাদ্রিদের সঙ্গে আলোচনার ডাক দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে স্পেন সরকারের পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সকালে বৈঠকে বসে স্পেনের মন্ত্রিসভা।

পরে স্পেনের পার্লামেন্টকে তিনি জানান, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কাতালান সরকারের সমানে ১৬ অক্টোবর, সোমবার ০৮০০ জিএমটি পর্যন্ত সময় আছে। স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, পুজদেমন যদি এটি নিশ্চিত করেন তাহলে তা সংশোধন করার জন্য ১৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ০৮০০ জিএমটি পর্যন্ত আরো তিন দিন সময় পাবেন তিনি। এতে ব্যর্থ হলে অনুচ্ছেদ ১৫৫ কার্যকর করা হবে। কাতালান সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের এই অনুরোধের উত্তর দেবে কি-না তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি, কিন্তু এখন তাদের একটি সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা…”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা “ভিয়েতনামে বন্যা ও ভূমিধসে ৩৭ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৪০” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

“ভিয়েতনামের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে চারদিনের প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরো ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছে। মঙ্গলবার ভিয়েতনামের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি একথা জানায়।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ২১ জন আহত, ১৬ হাজার ৭শ’র বেশী ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, দু’টি বাঁধ বিধ্বস্ত ও ৩৯ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এছাড়া এতে প্রায় ১ হাজার ২শ’ গবাদি পশু, ৪০ হাজার হাঁস-মুরগি এবং অনেক রাস্তা ভেসে গেছে।

নিহত ৩৭ জনের মধ্যে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় হোয়া বিন প্রদেশের ১১ জন, মধ্যাঞ্চলীয় নঘি অ্যান প্রদেশে ৮ জন ও থান হোয়া প্রদেশে ৮ জন, উত্তরাঞ্চলীয় সন লা প্রদেশে ৫ জন, ইয়েন বাই প্রদেশে ৪ জন ও রাজধানী হ্যানয়ের একজন রয়েছে। এছাড়াও সন লা, ইয়েনবাই, হোয়াবিন, থান হোয়া ও মধ্যাঞ্চলীয় কুয়াং ত্রি প্রদেশের আরো ৪০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে”।