আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ “ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণা: জেরুসালেম ইজরায়েলের রাজধানী” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“কথা রাখতে গিয়ে আরও এক বার পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে কাঁপন ধরিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ জেরুসালেমকে ইজরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘বাস্তবকে স্বীকার করাই ভালো।’’

বছর খানেক আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হয়ে এলে জেরুসালেমকেই ইজরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন। তেল আভিভ থেকে সরিয়ে নেবেন মার্কিন দূতাবাসও। হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, দূতাবাস স্থানান্তরের আগেই আজ সেই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ফুঁসছে প্যালেস্তাইন। ক্ষোভ জমছে গোটা আরব দুনিয়ায়। এমনকী আমেরিকার ‘বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবও বলছে, ‘‘প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্ত পুরো মুসলিম বিশ্বের কাছেই এক চরম উস্কানি।’’ যুযুধান দু’দেশের মধ্যে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর ডাক দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জেরুসালেমে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিসও। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবশ্য আজ দিনভর মুখে কুলুপ এঁটেই রইলেন…।

ট্রাম্প যে এমন একটা কিছু করতে পারেন, কয়েক দিন ধরেই তার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। অভিন্ন জেরুসালেমকে চিরদিনই নিজেদের রাজধানী বলে দাবি করে এসেছে ইজরায়েল। কিন্তু ১৯৬৭ সালে ইজরায়েল যে ভাবে পূর্ব জেরুসালেমের দখল নেয়, তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে প্যালেস্তাইনের। সেখানে ইহুদিদের কয়েক ডজন ‘অবৈধ’ বসতি সত্ত্বেও, এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ প্যালেস্তাইনিরাই। বরাবর তারা বলে আসছে, পূর্ব জেরুসালেমই হবে স্বাধীন প্যালেস্তাইনি রাষ্ট্রের রাজধানী। তাদের আশঙ্কা, গোটা জেরুসালেমটাই ইজরায়েলের নামে করে দিয়ে আমেরিকা এখন স্বাধীন প্যালেস্তাইনের সম্ভাবনাটাই নস্যাৎ করে দিতে চাইছে।

কিন্তু দূতাবাস সরানোর কী হবে? হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ট্রাম্প আজ হয়তো এ নিয়েও নির্দেশ জারি করতে পারেন। ১৯৯৩ সালে ইজরায়েল-প্যালেস্তাইনের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি হয়েছিল, তাকে সম্মান জানাতেই এত দিন সব দেশ তেল আভিভেই নিজেদের দূতাবাস রেখেছে। ব্যতিক্রম নয় আমেরিকাও। সেখান থেকে দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নেওয়া হবে না বলে প্রতি ছ’মাস অন্তর সম্মতি জানিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে। এ দফায় ট্রাম্পের সইয়ের তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে দু’দিন আগে। তাই দূতাবাস আদৌ তেল আভিভে থাকবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা হলেও, তা কার্যকর হতে হতে অন্তত বছর চারেক লেগে যাবে বলে জানাচ্ছেন কূটনীতিকেরা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় যে নতুন ভাবে হিংসার সম্ভাবনা তৈরি হল তা মেনে নিচ্ছেন কূটনীতিকেরা। সিরিয়ার পরিস্থিতির ফলে ওই অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে। এই ঘোষণার ফলে প্যালেস্তাইনে ফের আগুন জ্বলতে পারে”।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আজকাল’ পত্রিকাও  “ ট্রাম্পের জেরুজালেম সিদ্ধান্ত উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব” শীর্ষকে  ঐ একই খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

“হুমকি উড়িয়ে নিজের অবস্থানেই অনড় থাকলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে এক ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেরুজালেম–কেই ইজরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে দিলেন। পাশাপাশি জানালেন, ইজরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ইজরায়েলের শান্তি প্রক্রিয়ায় এটা একটা বড় ধাপ বলে দাবি করেছেন তিনি। এই দাবি কার্যত ফিলিস্তিনিদের সমর্থন জানাল। ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘‌মধ্য প্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। এবার শান্তি দ্রুই আসবে। যদিও বিক্ষোভ যে আছড়ে পড়বে সেটা বুঝতে পারছেন ফিলিস্তিনি শিবিরের নেতারা। তাঁদের এক মুখপাত্র বলেন, ‘‌আমাদের হুঁশিয়ার থাকতে হবে।’‌ অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রত্যাশিতভাবেই ট্রাম্পের ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছেন প্যালেস্তাইনের নেতা মেহমুদ আব্বাস এটিকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হামাসের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, ‘‌এই সিদ্ধান্ত এই অঞ্চলক নরক বানিয়ে দেবে।’‌ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব। ব্রিটেনের
প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় বলেছেন, ‘‌শান্তিপ্রক্রিয়ার পথে এই সিদ্ধান্ত কোনও উপকার করবে না।’‌ এছাড়া ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেদেরিকা মোগেরিনি–ও বিষয়টিকে উদ্বেগের বলেই মন্তব্য করেছেন”।‌

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘প্রথম আলো’ “পর্যটকদের কাছে দ্বিতীয় পছন্দ তাজমহল” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি  লিখেছে,

“ইউনেসকো–ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা স্থানগুলোর মধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তাজমহল। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম আগ্রার তাজমহল।

ভারতের অনলাইন ট্রাভেল পোর্টাল ‘ট্রিপ অ্যাডভাইজর’-এর এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে আসে।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ তাজমহল দেখতে যায়।

বিশ্বে ভ্রমণপিপাসুদের কাছ থেকে দেওয়া নম্বর ও মতামতের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়। ইউনেসকোর কালচারাল অ্যান্ড ন্যাচারাল হেরিটেজ তালিকাভুক্ত স্থানগুলোর ওপর এ সমীক্ষা চালানো হয়।

মুঘল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিতে আগ্রায় যমুনার তীরে এই স্মৃতিসৌধ তৈরি করেছিলেন। তাজমহল এখন বিশ্বে প্রেমের চিরন্তন প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি ১৬৩১ থেকে ১৬৪৮ সালের মধ্যে তৈরি হয়। আর ১৯৮৩ সালে এটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত হয়।

ট্রিপ অ্যাডভাইজারের তৈরি করা এই সমীক্ষায় প্রথম স্থানে রয়েছে কম্বোডিয়ার অ্যাঙ্করভাট মন্দির। আরও রয়েছে চীনের প্রাচীর, পেরুর মাচুপিচু, ব্রাজিলের ইগুয়াজোর নামও”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকা  “রোহিঙ্গাদের ওপর বল প্রয়োগ নয়: জাতিসংঘ” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ ক’রে লিখেছে,

 “বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ না করার বিষয়ে জোর দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফানি ডুজারিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজ দেশে তাদের (রোহিঙ্গা) ফেরত যাওয়া উচিত। যখনই ফেরত যাওয়াকে নিরাপদ মনে হয় তখনই রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের বল প্রয়োগ ছাড়াই নিজেদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া উচিত… ।

জাতিসংঘ বলছে, নির্যাতনে রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ছাড়াও ধর্ষণ ও বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী; এ নিধনযজ্ঞে তাদের সহযোগিতা করছে স্থানী মগরা।

এরপর থেকেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢল নামে। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত সাড়ে তিন মাসে এ পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও প্রতিদিনই কোনো না কোনা রোহিঙ্গা নর-নারী নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে”।