আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ “নতুন বছরে ইসরোর উপহার, সফল উৎক্ষেপণ ১০০তম উপগ্রহের” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“মহাকাশে পাড়ি দিল ইসরো’র ১০০তম উপগ্রহ।

শুক্রবার সকাল ৯টা ২৮ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সফল উত্‌ক্ষেপণ হয় উপগ্রহ বহনকারী রকেট পিএসএলভি-সি ৪০-র। ৬টি দেশের ৩১টি উপগ্রহ নিয়ে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে পিএসএলভি-সি ৪০।

ইসরো সূত্রে খবর, ৩১টি উপগ্রহের মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী ভারতের ‘কার্টোস্যাট-২’ সিরিজের একটি উপগ্রহ। এ ছাড়া ১০০ কেজি ওজনের একটি মাইক্রো এবং ১০ কেজি ওজনের একটি ন্যানো উপগ্রহও পাঠানো হয়েছে। বাকি ২৮টির মধ্যে রয়েছে কানাডা, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, কোরিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকার উপগ্রহ। ৩১টি উপগ্রহের মোট ওজন ১, ৩২৩ কিলোগ্রাম।

এটি পিএসএলভি-র ৪২তম মিশন। উত্‌ক্ষেপণ থেকে শুরু করে কক্ষে পৌঁছতে পিএসএলভি-সি ৪০-র সময় লাগবে ২ ঘণ্টা ২১ মিনিটের মতো, জানিয়েছে ইসরো। দু’টি কক্ষপথে পাঠানো হবে উপগ্রহগুলোকে। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দূরত্বে ৩০টি এবং ৩৫৯ কিলোমিটার দূরত্বে আর একটি উপগ্রহকে পাঠানো হবে। তাই এই মিশনটাকে চ্যালেঞ্জিং বলছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। শুধু তাই নয়, ইসরোর দীর্ঘতম মিশনগুলোর মধ্যে অন্যতম এই মিশন।

২০১৭-র অগস্টে পিএসএলভি-সি ৩৯ রকেটের মাধ্যমে নেভিগেশন উপগ্রহ আইআরএনএসএস-১ এইচ পাঠিয়েছিল ইসরো। কিন্তু সেই মিশন ব্যর্থ হয়। সেই মিশনের ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা মাথায় রেখেই এ বার আরও ভাল ভাবে তৈরি হয়ে এই মিশন সফল করতে উদ্যোগী হয়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।

ইসরোর চেয়ারম্যান এস কিরণ এ দিনের মিশন প্রসঙ্গে বলেন, “গত বছরে পিএসএলভি উত্‌ক্ষেপণে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজকের এই সফল উত্‌ক্ষেপণ প্রমাণ করে দিল যে আমরা সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসেছি। দেশকে নতুন বছরের উপহার দিতে পেরে আনন্দিত।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ দিন টুইট করে ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান।”

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা “ভারতের মতো দেশের সঙ্গে কাজ অত্যন্ত ভালো ব্যাপারঃ ট্রাম্প”  শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“মস্কোর সঙ্গে সুসম্পর্কের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, ভারত, রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভালো। একইসঙ্গে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সমস্যাকে তিনি খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। এই সমস্যা অনেক বছর আগেই সমাধান করা যেতে পারত। কিন্তু তা না করে খুঁচিয়ে ঘা করা হয়েছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া নিয়ে আমরা চীনের সঙ্গে কাজ করছি। আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। আমার মতে, খুব ভালোই করছি।”

বাংলাদেশ  থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’  পত্রিকা  “মেয়ে কোলে নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে।  পত্রিকাটি  লিখেছে,

“পাকিস্তানের কাসুর শহরে সম্প্রতি জয়নাব নামের আট বছরের একটি মেয়ে শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল পুরো দেশ। গত দুই বছরে একই কায়দায় ১২টি মেয়ে শিশু যৌন নির্যাতন ও হত্যার শিকার হওয়ার পরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে দুই জন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিন্দার ঝড় বইছে।

তবে জয়নাব ইস্যুতে অভিনব প্রতিবাদ করে বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলেছেন পাকিস্তানের সামা টেলিভিশনের উপস্থাপিকা কিরন নাজ। জয়নাব হত্যার প্রতিবাদ জানাতে তিনি এদিন খবর পড়েছেন নিজের ছোট্ট মেয়েকে কোলে বসিয়ে। খবর পড়ার শুরুতেই কিরন নাজ বলেন, আজ আমি কিরন নাজ নই। আজ আমি একজন মা। এ কারণেই আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এখানে বসেছি। এই ধরনের নির্মমতা একজন মায়ের জন্য কতটা হতাশার সেটা বোঝাতেই তিনি এটা করেন।…”

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত  ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা   “মহাকাশে নতুন ৩১ উপগ্রহ পাঠিয়েছে ভারতের ইসরো” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো ৩১টি কৃত্রিম উপগ্রহ একসঙ্গে মহাকাশে পাঠিয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়।

জানা গেছে কৃত্রিম উপগ্রহগুলো মহাকাশে পাঠানো হয়েছে পিএসএলভি (পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল) সি-৪০/কার্টোস্যাট ২ সিরিজের মাধ্যমে।

এই রকেট ব্যবহার করে ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্যর্থ হয়েছিল ইসরো। পরে জোর প্রস্তুতির পর এবার উপগ্রহ পাঠালো সংস্থাটি। মোদির দেশ কার্টোস্যাট ২ সিরিজের স্যাটেলাইট ছাড়ল মহাকাশে নজরদারি চালানোর জন্য।

কক্ষপথে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা ২১ মিনিট সময় লেগেছে বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে ২৮টি বিদেশি। কানাডা, ফিনল্যান্ড, কোরিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিলে রয়েছে ২৮টি। সবগুলো স্যাটেলাইট মিলে এক হাজার তিনশ ২৩ কিলোগ্রাম ওজন।”