আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন  বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা  “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করবে এই ওমান সফর: প্রধানমন্ত্রী মোদি” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আমার ওমান সফর ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। তেল সমৃদ্ধ দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। পাশাপাশি, দু’দিনের এই ওমান সফর তাঁর কাছে বহু প্রতীক্ষিত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ত্রিদেশীয় সফরের শেষ লগ্নে রবিবার রাতে দুবাই থেকে ওমানে আসেন মোদি। সেখানে সুলতান কাবুসের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সহ দুই দেশের মধ্যে আটটি চুক্তি সম্পন্ন করেন তিনি। বলেন, ‘আমার এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সহ ওমান-ভারতের শতাব্দী প্রাচীন সম্পর্ক মজবুত হবে।’ আতিথেয়তার জন্য সুলতান কাবুসকে (বিন সইদ আল সইদ) ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘ওমান হল আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় সফর।’
দুই দেশের প্রধানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, খাদ্য সুরক্ষা, কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুষ্ঠু ও মজবুত রাখা যায় ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়। সুলতান কাবুসও ওমানের উন্নয়নে ভারতীয়দের সততা, কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। এর পরেই ভিসা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, সামরিক সহযোগিতা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আটটি মউ স্বাক্ষরিত হয়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার ট্যুইট করে একথা জানিয়েছেন। প্রশাসনিক শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, ওমানে উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়ার প্রথম সারির শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। সেখানে ভারতকে বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু বলে উল্লেখ করেন তিনি। রবীশ কুমারের কথায়, ‘চার দিনে চার দেশে সফর উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের ভিত্তি মজবুত করছে। মাসকাটে ওমান-ভারত বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে চারদিনের সফর শুরু করেছেন নরেন্দ্র মোদি।’
এরপরেই মাসকাটের ১২৫ বছরের পুরনো শিব মন্দির দর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে পুণ্য আরতির পাশাপাশি মন্দির কমিটির কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মাতরায় অবস্থিত ওই মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ট্যুইট, ‘মাসকাটের শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’ এছাড়া, ২০০১ সালে তৈরি হওয়া ওমানের সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদেরও যান মোদি। প্রসঙ্গত, গুজরাতের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় ১২৫ বছর আগে মাসকাটের ওই শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরবর্তীকালে ১৯৯৯ সালে তার সংস্কার করা হয়। মন্দিরে শ্রীআদি মতীশ্বর মহাদেব, শ্রীমতীশ্বর মহাদেব ও হনুমানের মুর্তি রয়েছে”।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত  পত্রিকা ‘সংবাদ প্রতিদিন’ “মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা পাকিস্তানের” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“অবশেষে হাফিজ সইদকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করল পাকিস্তান। পাক রাষ্ট্রপতি এই মর্মে একটি অর্ডিন্যান্সে সই করার পর জামাত-উদ-দাওয়া আপাতত পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনই। এবং হাফিজ সইদ সন্ত্রাসী।

জঙ্গি সইদকে নিয়ে রীতিমতো লুকোচুরি খেলা চলছিল পাকিস্তানে। হাফিজ সইদ যে জঙ্গি ও মুম্বই হামলার মূলচক্রী, এ কথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিকবার বলেছে ভারত। যদিও ভারতের সে অভিযোগে কর্ণপাত করেনি পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘের চাপে অবশ্য সইদকে নজরবন্দি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে আদালতে প্রমাণের অভাবে কৌশলে সইদকে মুক্ত পরে পাকিস্তান। ফলত ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থান নিয়েই সইদ তাস খেলে চলেছিল পাকিস্তান। এদিকে সন্ত্রাস ইস্যুতে মার্কিন মুলুকেরও সুনজরে নেই পাকিস্তান। এ ব্যাপারে বছরের গোড়াতেই পাকিস্তানের প্রতি সবরকম আর্থিক সহায়তা বন্ধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর পাকিস্তান আত্মপক্ষ সমর্থনে নানা কথা বললেও, যথেষ্ট চাপেই ছিল। সইদকে আরও একবার কোণঠাসা করায় তা প্রমাণিত হল।

সম্প্রতি পাক প্রেসিডেন্ট একটি অর্ডিন্যান্সে সই করেছেন। ইউ এন সিকিউরিটি কাউন্সিল যে সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সেগুলিই আছে এই তালিকায়। পাকিস্তানি ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম অথরিটি জানিয়েছে, এই তালিকায় আছে জামাত-উদ-দাওয়া এবং হাফিজ সইদও। ফলত পাকিস্তানের চোখেও এখন সইদ জঙ্গি। তার সংগঠনও নিষিদ্ধ। এই পদক্ষেপের ফলে এই ধরনের সমস্ত সংগঠনের গতিবিধি বন্ধ করতে পারবে পাকিস্তান। ফ্রিজ করে দেওয়া হবে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এছাড়া আরও কিছু চরম পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। ফলে এতদিন সইদকে কৌশলে বাঁচিয়ে দিলেও, রাষ্ট্রপতি নির্দেশের পর আর তা সহজ হবে না। এতদিন ধরে পাক মুলুকে বসেই ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদ্গার করে চলেছিল সইদ। কাশ্মীরে নাশকতাও ছড়িয়ে চলেছে তার জঙ্গি সংগঠন। তবে নিজের দেশেই জঙ্গি সাব্যস্ত হওয়ার পর এবার এই কাজকর্মে লাগাম পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা”।

বাংলাদেশ  থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’  পত্রিকা  “দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশংসায় কিম উন” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে।  পত্রিকাটি  লিখেছে,

“শীতকালীন অলিম্পিক আসরে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দলকে ‘চিত্তাকর্ষক’ সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রশংসা করেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিম্পিক গেমসে উত্তর কোরিয়ার উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং দারুণ আতিথেয়তার জন্য দক্ষিণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিম।

কিমের ছোট বোন কিম ইয়ো জং এর নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় যায়। সফর শেষে তারা উত্তরে ফিরে গেছেন।

সফরের বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই কিম এসব মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই কিম জং উন ওই বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিম উনের বক্তব্য কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার এই ইতিবাচক মনভাবনা আগামীতে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে…”।

বাংলাদেশ  থেকে প্রকাশিত  ‘কালের কন্ঠ’  পত্রিকা “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে অস্ট্রেলিয়া” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“অস্ট্রেলিয়া জাতীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে। সোমবার দেশটির ফেডারেল সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপিত হয়। এই বিলে এমপিরা সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার দেশটির সংসদে লেবার দলের এমপি ম্যাট থিসলেথওয়ে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটিতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ভাষাভাষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন ম্যাট। ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সংরক্ষণার্থে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস জাতীয়ভাবে পালন করার কথা উত্থাপন করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়…”।