আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “সিরিয়া ফের আক্রান্ত হলেই বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা, হুঁশিয়ারি পুতিনের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করে লিখেছে,

“তবে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দরজায় কড়া নাড়ছে? সরাসরি না বললেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নতুন হুঁশিয়ারি থেকে কিন্তু এমন আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে। ক্রেমলিনের তরফ থেকে রবিবার জানানো হয়েছে, ‘‘রাষ্ট্রপুঞ্জকে উপেক্ষা করে পশ্চিমী দেশগুলো ইতিমধ্যেই সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। নতুন করে হামলা হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে রাশিয়া মনে করে।’’ ভেঙে না বলা হলেও ‘বিশ্বব্যাপী বিশৃঙ্খলা’ বলতে পুতিন যে কী বলতে চেয়েছেন, তা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না কারওরই।

পুতিন যেমার্কিন বিরোধী জোট গঠনের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।জানা গিয়েছে, সিরিয়ায় মার্কিন জোটের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানির সঙ্গে কথা বলেছেন পুতিন। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার আনা নিন্দা প্রস্তাবকে তেমন কেউ সমর্থন না করলেও, পাশে এসে দাঁড়িয়েছে চিন। ফলে ধীরে হলেও, সিরিয়া ইস্যুতে যেন আড়াআ়ড়ি দু’ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব।

৭ এপ্রিল দুমায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে নিজের দেশেরই সাধারণ মানুষজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে  সিরিয়ার বাশার আল আসাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আসাদ যতই সে অভিযোগ অস্বীকার করুন না কেন, মানতে রাজি নয় হোয়াইট হাউস। রাশিয়ার উপর চাপ বাড়িয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আসাদকে সাহায্য করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শোনা যাচ্ছে, এ জন্য রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আজকাল’ পত্রিকা “সুর নরম পাকিস্তানের, শান্তি আলোচনার প্রস্তাব পাক সেনাপ্রধানের ” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় পাকিস্তান। সম্প্রতি পাক সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া বলেছেন, ভারত–পাক সমস্যার সমাধান একমাত্র শান্তিপূর্ণ আলোচনাই হতে পারে। এমনকী কাশ্মীর সমস্যার সমাধানও নাকি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।  রবিবার পাকিস্তানের কাকুলে সেনা অ্যাকাডেমিতে পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন পাক সেনা প্রধান। শান্তিপূর্ণ এবং যুক্তিযুক্ত আলোচনাই একমাত্র ভারত পাক সমস্যার সমাধান করতে পারে। পাক সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের পক্ষ থেকেও বিবৃতি জারি করে সেনা প্রধানের এই বক্তব্যটি প্রকাশ করেছে।
সেখানে পাক সেনা প্রধান আরও বলেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের মধ্যস্থতা ছাড়াই দুই দেশকে আলোচনায় বসতে হবে। দুই দেশে শান্তি স্থাপনই হবে আলোচনার মূল লক্ষ্য। পাকিস্তান এই আলোচনায় বসতে সবসময় প্রস্তুত। তবে অবশ্য সেখানে পাকিস্তান তার সম্মান, মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্ব কোনও আঘাত বরদাস্ত করবে না। পাকিস্তান শান্তি প্রিয় দেশ। কোনও রকম হানাহানি, হিংসা, রক্তপাত পছন্দ করে না। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তো নয়ই। তবে এই বক্তব্যে কোনওভাবেই দেশের দুর্বলতা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ আমাদের সেনাবাহিনী যোগ্য জবাব দিতে সবসময় প্রস্তুত।
সেনা প্রধানের এই মন্তব্যে নতুন করে জল্পনা দানা বেঁধেছে। অতদিনে কী তাহলে বোধদয় হল পাকিস্তানের।”

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  “পাকিস্তানে বন্দুক হামলায় হতাহত ৭” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নগরী কোয়েটায় মোটরসাইকেল থেকে বন্দুক হামলায় অন্তত দুই জন নিহত ও অপর পাঁচ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।

কোয়েটা পুলিশ বিভাগের ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক চিমা রবিবার বলেন, অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার ইসা নাগরি এলাকার একটি চার্চে প্রার্থনা শেষে এরা বাড়ি ফিরছিল।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা লাশ ও আহতদের নগরীর বোলান মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাঠায়। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, আহতদের দুইজন নারী। এদের সকলের অবস্থাই স্থিতিশীল রয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, হামলার পরপরই হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকা তার অন লাইন সংস্করণে  “ইন্দোনেশিয়ায় ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ ক’রে লিখেছে, 

“ইন্দোনেশিয়ায় রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির মলুকা সাগর তলদেশে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। আজ সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন সংস্থাটি জানায়, ইন্দোনেশিয়ার কোতা তার্নাতের প্রায় ৮৫ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে সাগর তলদেশের ৩৬.৫ কিলোমিটার গভীরে স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে চারটার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, এতে সুনামির কোনো হুমকি ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে সমুদ্র তলদেশে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পের আঘাতে সৃষ্ট সুনামিতে আচেহ প্রদেশে এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটে।”