মাইক পম্পেও’র অঘোষিত আফগানিস্তান সফর

For Sharing

মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও এ সপ্তাহে হঠাৎই আফগানিস্তান  সফর করেন। তিনি সেখানে আফগান রাষ্ট্রপতি আশরফ গনি এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়া সফরশেষে তিনি আফগানিস্তান যান। এপ্রিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণের পর এটাই তাঁর প্রথম  আফগানিস্তান সফর। তিনি তালিবানদেরকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য আফগান রাষ্ট্রপতির প্রয়াসকে সমর্থন দানের কথা বলেন  এবং ওয়াশিংটন, আফগানের শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবরকম সহায়তাদানে প্রস্তুত বলে জানান।

মাইক পম্পেও বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন, তালিবানদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আগস্ট মাসে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন আফগান নীতির ঘোষণা করেন, তাতে বিমান হামলা বাড়ানো, ৩ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন সহ সন্ত্রাস দমনে একাধিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়।

আফগান রাষ্ট্রপতি ২০১৮’র ফেব্রুয়ারিতে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে  আলোচনায় নিয়ে আসার জন্য যুদ্ধ অপরাধীদের ক্ষমা প্রদর্শন এবং তালিবানদের রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।  তিনি কোনো রকম পূর্বশর্ত ছাড়াই শান্তি আলোচনা কথা বলেন। গত মাসে ঈদ উল-ফিতরের সময় প্রথমবার আফগান সরকার ও তালিবান উভয়পক্ষ থেকেই সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা করা হয়। তবে তার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তলিবানরা সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে। তারা আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে রাষ্ট্রপতি গনির শান্তি আলোচনা প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে। তালিবানরা আফগান সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে কেবলমাত্র মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানায়।

আফগানিস্তানের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির পটভূমিতেই মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর। সেখানে সংঘর্ষের ফলে বিপুল সংখ্যায় সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানি হয়ে চলেছে, বহু স্থান এখনও তালিবানদের দখলে।

পম্পেও জানান, আফগানিস্তানের নেতৃত্বেই শান্তি প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্ততা করতে প্রস্তুত। তিনি আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলিরও সমর্থন প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শান্তি আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা গ্রহণকারী পাকিস্তানের সঙ্গেও নতুন করে শুরু করার প্রয়াস  ফলপ্রসূ হয় নি। যদিও গতমাসে মার্কিন ড্রোন হামলায় পাকিস্তানী তালিবান মোল্লা ফজলুল্লাহ’র নিহত হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ পাক আধিকারিকরা তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি এখনও বিবেচ্য বিষয় বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। তালিবান ও দায়েশ জঙ্গীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং শান্তি  আলোচনা প্রসঙ্গ ছাড়াও মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আফগানিস্তানের আসন্ন সংসদীয় এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়েও আলোচনা করেন।  ২০১৪’য় সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলে। দেশে রাজনৈতিক এবং গোষ্ঠী দ্বন্দ্বেরও অবসান হয় নি।

সৌদি আরবে ইসলাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রাক্‌কালেই মাইক পম্পেও’র এই আফগানিস্তান সফর। এই সম্মেলনে  তালিবানদের ধর্মের নামে হিংসা পরিত্যাগ করা এবং আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধের অবসানের জন্য আহ্বান জানানো হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে তালিবানরা একে আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েনের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা প্রদানের মার্কিন অভিসন্ধি বলে জানিয়েছে এবং জেড্ডায় নির্ধারিত এই সম্মেলনকে খারিজ করে দিয়েছে।

(মূল রচনাঃ ডঃ স্মিতা)