আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “নিষেধাজ্ঞা ইরানের উপরে, ছাড় ভারত-সহ আট-কে” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“আগেভাগে ঘোষণা করা ছিলই। সেই মতো আজ থেকে ইরানের তেল, আর্থিক আর ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের উপরে কড়া আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল মার্কিন প্রশাসন। সেই সঙ্গে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ৬০০ জন ইরানি নাগরিককে। আটটি দেশ সাময়িক ভাবে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেয়েছে। আজ মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেয়ো জানান, ভারত, চিন, তুরস্ক, জাপান, ইটালি, গ্রিস, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানকে ইরান থেকে তেল আমদানির বিষয়ে আগামী মার্চ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে, ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে করা চুক্তি মে মাসে বাতিল করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তি একপেশে। এই চুক্তির আড়ালে ব্যালিস্টিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে সাইবার হানা ও বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে মদত দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। ট্রাম্পের যাবতীয় যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য বলছে, এই চুক্তির ফলে ইরানের পরমাণু নীতির উপর কড়া নজরদারি রাখা সম্ভব হয়েছিল। ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে সরে আসায় ইরানের পরমাণু নীতি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
ইরান থেকে তেল আমদানি করা নিয়ে বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করেছিল আমেরিকা। তাদের দাবি ছিল, তেহরানের কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ যে দেশের যা-ই থাকুক না কেন, তা অবিলম্বে শূন্যে নামাতে হবে। না হলে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকেও নিষেধাজ্ঞার বোঝা বইতে হবে। আজ যে আটটি দেশকে সাময়িক ভাবে ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন পম্পেয়ো, তাদের মধ্যে নিজেদের অবস্থানে অনড় চিন। চিনা বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরান থেকে চিনের তেল কেনা কেউ আটকাতে পারবে না। তারা যা করার আইন মেনেই করছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া আর জাপান ইতিমধ্যেই ইরান থেকে তেল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। একই পথে হাঁটছে ইউরোপের দেশগুলিও। তবে কিছু ইউরোপীয় সংস্থা এখনও ইরানে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইজ়রায়েল।
ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার জেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। মুদ্রাস্ফীতিতে জেরবার সে দেশের মানুষ। হু হু করে পড়ছে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দাম। একে একে দেশ ছাড়ছে বহু বহুজাতিক সংস্থা। কাল ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন ইরানের সাধারণ মানুষ। মিছিলের স্লোগান ছিল, ‘আমেরিকার মৃত্যু’। সেখানে পোড়ানো হয়েছে ট্রাম্পের ছবি, মার্কিন পতাকা। হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খোমেনেই-ও। তাঁর কথায়, ‘‘ট্রাম্পের পতনের এই সবে শুরু”।’’

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা “প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনা স্মরণে মূর্তির উন্মোচন হল ইংল্যান্ডে” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“ভারতীয় শিখ সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার পাশাপাশি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষ স্মরণে স্মিথউইক শহরের প্রাণকেন্দ্রে এক শিখ সৈনিকের আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করল ব্রিটিশ প্রশাসন। রবিবার পশ্চিম মিডল্যান্ডসের হাই স্ট্রিটে উদ্বোধন হয় মূর্তিটির। ব্ল্যাক কাউন্টির শিল্পী লিউক পেরির তৈরি এই ভাস্কর্য দেখতে এলাকায় ভিড় জমিয়েছিলেন অগণিত মানুষ।
দুই বিশ্বযুদ্ধে শামিল ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার আর্মির কয়েক লক্ষ সৈনিককে শ্রদ্ধা জানাতেই স্থাপন করা হয়েছে মূর্তিটি। নাম দেওয়া হয়েছে ‘লায়নস অব গ্রেট ওয়ার’। স্মিথউইকের গুরু নানক গুরুদ্বার এবং স্থানীয় স্যান্ডওয়েল কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে এটি। হাই স্ট্রিট এবং টলহাউস ওয়ের মধ্যবর্তী স্থানে বসানো হয়েছে মূর্তিটি। এ প্রসঙ্গে গুরুদ্বারের সভাপতি যতীন্দর সিং বলেন, ‘আজ আমি অত্যন্ত গর্বিত। শিখ সম্প্রদায় তথা দক্ষিণ এশিয়ার অবদান অতুলনীয়। এই মূর্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে নয়া যোগসূত্র স্থাপিত হল। এতদিন পর্যন্ত বিশ্বযুদ্ধে শিখ তথা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অবদান ইংল্যান্ডের ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু, এবার তা ব্রিটিশ ইতিহাসে স্থান পেল।’
বিশ্বযুদ্ধে শিখ সৈনিকদের আত্মত্যাগের অবদান এই মূর্তির মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে বলেও জানিয়েছেন এজবাস্টনের বার্মিংহাম কেন্দ্রের এমপি প্রীত কাউর গিল। তাঁর কথায়, ‘ব্রিটিশ ভারতের একটা ছোট্ট অংশ হয়েও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল শিখ জনগোষ্ঠী।’ অন্যদিকে, স্থানীয় কাউন্সিলার তথা স্যান্ডওয়েল কাউন্সিলের নেতা স্টিভ এলিং বলেছেন, ‘দেশবাসীর আত্মবলিদানকে স্মরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আর মূর্তি প্রসঙ্গে ভাস্কর পেরি কী বলছেন? তাঁর কথায়, ‘যখন দেখি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১০ লক্ষ ৫০ হাজার ভারতীয় সেনাকে পাঠানো হয়েছিল, তখন ভাবতেও অবাক লাগে যে এতদিন তাঁদের অবদানই আমাদের দেশে উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে।’ প্রসঙ্গত, মূর্তিটির নির্মাণে ২০ হাজার পাউন্ড অর্থ দান করছে গুরুদ্বার। মূর্তির নীচের গ্রানাইটের ভিত্তির উপর খোদাই করে লেখা রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শামিল হওয়া সেনাদলের নাম”।
বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা “আফগানিস্তানে তালেবান হামলা; ১৩ সেনা ও পুলিশ নিহত” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“আফগানিস্তানে একটি চেক পয়েন্টে হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গীরা। দেশটির গজনী প্রদেশে সোমবার সকালে এ হামলা চালানো হয়। এতে আফগান সামরিক বাহিনী ও পুলিশের অন্তত ১৩ সদস্য নিহত হয়েছে।
গজনীর প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র আরিফ নূরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ নূরী জানান, ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে সাতজন সেনাসদস্য বাকি ছয়জন পুলিশ সদস্য।
তিনি জানান, তিন ঘণ্টার লড়াইয়ে ছয় তালেবান সদস্যও নিহত হয়েছে।সরকারি বাহিনীর হামলায় ১০ তালেবান সদস্য আহত হয়।
এদিকে, তালেবানের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে”।
বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা “মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“দীর্ঘদিনের বাকযুদ্ধের প্রচারণা শেষে আজ মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে। প্রচারণায় এক দল আরেক দলকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছে। প্রচারণায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও গতকাল কয়েকটি মার্কিন মিডিয়া জানিয়েছে, দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে কমেছে। আবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি মানুষের সমর্থনও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৪ মিলিয়ন ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ৫০০ কোটি ডলারের নির্বাচনে জয়ের আশা করছে দুই দলই।
রবিবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। গতকাল তারা শেষ দিনের প্রচারণায় নামেন। দুইজনই নিজ দলের ভোটারদের কেন্দ্রে আসার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রচারণায় সমপ্রতি অভিবাসন ইস্যুকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে সীমান্তের অপরাধ বেড়ে যাবে। আমেরিকার বাইরের মানুষই আমেরিকায় কর্তৃত্ব চালাবে। আর ওবামা বলেছেন, আমেরিকাকে বিভক্ত করবেন না। অনেকবার এমন চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিবাসন এবং স্বাস্থ্য বিল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের নিন্দা জানান। তিনি আমেরিকার চরিত্র কেমন হবে তা ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, অভিবাসন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান তরুণদের ভোট টানতে সহায়তা করবে”।