ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয় সভ্যতার মজবুত সম্পর্ক

For Sharing

দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি কিম জাং-সুক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ভারত সফর করে গেলেন। ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যেকার ঐতিহাসি,সভ্যতাগত এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উদযাপনে শ্রীমতী কিম জাং-সুক দীপোৎসবের শোভাবর্দ্ধন করেন এবং  উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রানী সুরিরত্ন স্মারক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অযোধ্যার রাজকুমারী সুরিরত্ন কোরিয়ার রাজা কিম-সুরোর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রীমতী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভাগ করে নিতে একাধিক বৈঠক করেন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির বিষয়টিকে উৎসাহিত করেন।

বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ উপাদন হল ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সভ্যতাগত, ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক যোগাযোগ বিকশিত করা। কোরিয় যুদ্ধের পর শান্তি স্থাপনে ভারতের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। বিশিষ্ট ভারতীয় কূটনীতিবিদ কে পি এস মেমন কোরিয়ার নির্বাচনের জন্য ১৯৪৭ সালে গঠিত ৯ সদস্যের রাষ্ট্রসঙ্ঘ কমিশনের সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া, কোরিয়া যুদ্ধের সময় বিবদমান পক্ষগুলি ভারতের উত্থাপিত প্রস্তাব স্বীকার করে এবং ১৯৫৩ সালের ২৭শে জুলাই যুদ্ধ বিরতিতে রাজী হয়। এছাড়াও ভারতীয় সেনা বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান জেনারেল কে পি এস থিমায়া নিউট্রাল ন্যাশন্স রিপার্ট্রিয়েশন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মানবতা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন।

আজ, দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন দক্ষিণী নীতি এবং ভারতের পূবে কাজ করার নীতির ভিত্তি হল গণতন্ত্রের চিরন্তন মূল্যবোধ, মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং আইনের শাসন। এর আগে জুলাই ২০১৮তে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জায় ইন ভারত সফরে আসেন। তখন জনগণের অংশীদারিত্ব, সমৃদ্ধি এবং শান্তির জন্য ভবিষ্যৎ রুপরেখার পক্ষে উভয় দেশ মত পোষণ করে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রধানমন্ত্রী মোদির পূবে কাজ করার নীতির মূল অংশীদার।

ভারতের বিকাশ সম্ভাবনা এবং দক্ষ শ্রমশক্তি  আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উৎপাদন ক্ষমতা এবং উন্নয়নী উপলব্ধির অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সুবিধা দুটি দেশকে অংশীদার হিসেবে অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এর লক্ষ্য হল পারস্পরিক অর্থনৈতিক বিকাশ।  ভারতের সম্ভাব্য পরিকাঠামো বাজারের দরুণ উভয় পক্ষ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল- ই ডি সি এফ এবং এক্সপোর্ট ক্রেডিটের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় প্রকল্পের অনুসন্ধান করছে। ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া, স্কিল ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া এবং স্মার্ট সিটি  সহ নানান উল্লেখযোগ্য প্রয়াসগুলির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হল দক্ষিণ কোরিয়া।

এছাড়া ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামরিক বিনিময়, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সহ একাধিক ক্ষেত্রে অভিনব প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে সহযোগিতাকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই দিশায়, ২০১৭  সালে ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়া জাহাজ নির্মাণের জন্য আন্তঃসরকারী সমঝোতা স্মারক পত্র স্বাক্ষর করেছে। উভয় পক্ষ শিপইয়ার্ড এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উন্নত সহযোগিতার লক্ষ্যে কাজ করছে।

দুটি দেশ সন্ত্রাসবাদ, হিংসাত্মক চরমপন্থা এবং মৌলবাদ, গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং ডেলিভারী ব্যবস্থায় একাধিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের নিরসনেও কাজ করে  চলেছে। কোরিয় উপদ্বীপে পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মুন জায় ইনের প্রয়াসের একনিষ্ঠ সমর্থক হল ভারত।  কৌশলগত আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে ভারত এই ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ‘মোদিনোমিক্স’ ত্বরান্বিত করা এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান কম করার জন্য সোল শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত হন। ১৯৭৩ সালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়েছে। উন্নত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং মজবুত নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে প্রভূত অবদান জুগিয়েছে।(মূল রচনাঃ ড. তিতলি বসু)