আজকের সংবাদপত্র থেকে 

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “খাশোগি হত্যায় কাঠগড়ায় সেই যুবরাজ সলমন”  শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুনের তদন্তে সিআইএ যে প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছে, কার্যত তা উড়িয়েই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তদন্ত এখনও বিস্তর বাকি। সাংবাদিক খুনে সৌদি রাজ পরিবারের যোগ তেমন পোক্ত নয়। মার্কিন সেনেটের একটা বড় অংশ কিন্তু নিশ্চিত— ইস্তানবুলের সৌদি কনসুলেটে খাশোগিকে মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনই (এমবিএস)। গত কাল সিআইএ প্রধান জিনা হ্যাসপেলের দেওয়া তদন্ত-ব্রিফিং শোনার পরেই এমনটাই মনে হয়েছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সেনেটরদের।

সৌদি রাজ পরিবারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত খাশোগি ২ অক্টোবর খুন হয়েছিলেন। দু’মাস পরেও তাঁর দেহ মেলেনি। এই খুনের পিছনে যুবরাজের হাত আছে বলে গোড়া থেকেই সুর চড়িয়ে আসছে তুরস্ক। এ নিয়ে বেশ কিছু প্রামাণ্য অডিয়ো-নথিও তারা তুলে দিয়েছে আমেরিকা, কানাডার মতো বেশ কিছু দেশের হাতে। সূত্রের খবর, সিআইএ-র হাতে প্রমাণ আছে, সে দিন হিট স্কোয়াডের মাথা সৌদ আল-কাহতানির সঙ্গে বেশ কিছু বার্তা চালাচালি হয়েছিল সৌদি যুবরাজের। খুনের পরে ইস্তানবুল কনসুলেট থেকে রিয়াধে ফোন গিয়েছিল— ‘কাজ খতম, বসকে জানিয়ে দিন।’

কে এই ‘বস’? রিপাবলিকান সেনেটর বব কর্কার বললেন, ‘‘বস যে সৌদি যুবরাজ, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কাঠগড়ায় তুললে আধ ঘণ্টাতেই সব ফয়সালা হয়ে যাবে।’’ আলাবামা থেকে কংগ্রেসে আসা রিপাবলিকান রিচার্ড শেলবিরও দাবি, তথ্যপ্রমাণ যুবরাজের বিরুদ্ধেই আঙুল তুলছে। সিআইএ প্রধান জানান, তাদের হাতে থাকা বেশির ভাগ তথ্যপ্রমাণই প্রেসিডেন্ট দেখেছেন বা শুনেছেন। তার পরেও ট্রাম্প কেন  এমবিএসের পিঠ বাঁচাতে চাইছেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন সেনেটেরদের অনেকে। গত সপ্তাহে বিদেশ সচিব মাইক পম্পেয়ো ও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসও দাবি করেন, খাশোগি-খুনে যুবরাজের জড়িত থাকার প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। সেনেটররা তাই মুখিয়ে ছিলেন সিআইএ প্রধান হ্যাসপেল কী বলেন”!

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা  “ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ইরানের, রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে ইরান। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রস্তাবনা ভঙ্গের শামিল বলে আখ্যা দিয়ে এই ঘটনার নিন্দায় সরব হওয়ার জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বার্তা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ‘ইরান যেভাবে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, তা বিপজ্জনক ও চিন্তার। কিন্তু এনিয়ে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নেই। প্রতিবার ইরান রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রস্তাবনা ভঙ্গ করবে এবং তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল মুখ ফিরিয়ে থাকবে, এমনটা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ যদি এই ঘটনার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে, তবে আমাদের একজোট হয়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা করা উচিত।’
মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের কড়া সমালোচনা করেছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। তাদের দাবিতেই বিষয়টি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এদিকে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি ইরান।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা  “সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান  হামলা; নিহত ৪” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“সোমালিয়ার মার্কিন বিমান হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। নিহত ব্যক্তিরা আল শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য ছিল।

মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, সোমালিয়ার সরকারের পক্ষ হয়ে জঙ্গিদের দমন করার জন্য এই হামলা চালায় তারা।

আফ্রিকম এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর ওই হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্রবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালানোর জবাবে মার্কিনবাহিনী এই বিমান হামলা চালায়। এতে ৪ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে কোনো বেসামরিক নাগরিকের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রসঙ্গত, সোমালিয়ায় আল শাবাব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সমর্থিত সরকারের পক্ষ হয়ে লড়াই করছে মার্কিন বাহিনী”।

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘দৈনিক ইত্তেফাক’  “অ্যাঞ্জেলা মের্কেলের উত্তরসূরী হতে যাচ্ছেন অ্যানেগ্রেট” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেলের উত্তরসূরী নির্বাচনে ভোট হতে যাচ্ছে শুক্রবার। ওই দিন তার দলের পরবর্তী প্রধান নির্বাচন করতে ভোটাভুটি হবে। ধারণা করা হচ্ছে অ্যানেগ্রেট ক্রাম্প কারেনব্যুয়ার হতে যাচ্ছেন পরবর্তী নেতা। অ্যাঞ্জেলা মের্কেল সুদীর্ঘ ১৮ বছর দলটির হাল ধরে আছেন। জার্মানীর জাতীয় নির্বাচনে মের্কেল নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) বিগত নির্বাচনের চেয়ে অনেক কম ভোট পাওয়ায় অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী এই নেতা তার দলের প্রধান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দেন।

দলের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা বিশৃঙ্খলা এবং ১০ লাখের বেশি অভিবাসন প্রত্যার্শীদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার মের্কেলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর ভোটাভুটির পর তিনি ২০২১ সালে তার মেয়াদ পূর্ণ হলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানান।

শেমনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এখার্ড জেসে বলেন, ‘আজ অথবা কাল যেই জার্মানীর এই বৃহত্তম দলটির প্রধান হন না কেন, তিনিই হবেন জার্মানির চ্যান্সেলর।’

ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে অ্যানেগ্রেট ক্রাম্প কারেনব্যুয়ার (৫৬) ই হতে যাচ্ছেন সিডিইউ’এর পরবর্তী প্রধান। একেকে নামে পরিচিত এই নারী নেত্রী সিডিইউ’র মহাসচিব ও সারল্যান্ড রাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। জরিপে দেখা গেছে যে তিনি জার্মান ভোটারদেরও পছন্দ।

তবে তিনি দলের ১ হাজার ১ প্রতিনিধিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইডরিচ মারজের বিরুদ্ধে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এরা দলের প্রধান নির্বাচনে ভোট দিবেন। বাণিজ্যিক আইনজীবী ৬৩ বছর বয়সী মারজ ২০০২ সালে মের্কেলের সাথে দলীয় ক্ষমতার লড়াইয়ে হেরে যান”।