রুশ-ভারত-চীন ফরম্যাট জি-২০ শিখর সম্মেলনে সক্রিয়

For Sharing

১২ বছর পর ভারত, রাশিয়া এবং চীন (আর আই সি)’র নেতারা ব্যুয়েনস এ্যায়ার্সে জি-২০ শিখর সম্মেলনের অবসরে মিলিত হয়। রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমীর পুতিনের প্রয়াসে এই বৈঠক হয়।
এই তিনটি দেশ যে সব বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে সেই সব বিষয়ে ভারতীয় প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং রাষ্ট্রপতি পুতিনের মধ্যে আলোচনা হয়। শ্রী মোদি একে এক চমৎকার বৈঠক বলে বর্ণনা করেন এবং মনে করেন যে এর ফলে তিনটি দেশের বন্ধুত্ব আরো মজবুত হবে এবং বিশ্ব শান্তির পথ প্রশস্ত হবে। তিনি এই অভিমতও ব্যক্ত করেন যে তাঁদের সহযোগিতার ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলি মজবুত হবে তাঁদের মধ্যে বৃহত্তর আলোচনায় উৎসাহ প্রদান করবে।
তাঁরা রাষ্ট্রসংঘ, ডব্লু টি ও এবং এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক সহ বিভিন্ন বহু পাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং শক্তিশালী হওয়ার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হন। এই তিন নেতা মনে করেন যে এই বহু পাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা বিশ্ব উপকৃত হয়েছে। তাঁরা বিশ্বের বিকাশ এবং সমৃদ্ধির জন্য বহুজাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং উন্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন।
ব্রিক্স, এস সি ও এবং পূর্ব এশিয়া শিখর সম্মেলনে (ই এ এস) ব্যবস্থাপনার মত বহুপাক্ষিক সংগঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা মজবুত করার লক্ষ্যে এই তিন নেতা নিয়মিত পরামর্শের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তাঁরা মনে করেন সন্ত্রাস বাদ এবং জলব্যয়ু পরিবর্তনের মত আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় এই সব ব্যবস্থা সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের মত বিষয়ে বিকশিত দেশগুলির সংকল্পের অভাবে ধারাবাহিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার শরিকরা সহ পশ্চিমের সন্দেহের নিরসন করতে এই দেশ তিনটি বলেছে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অর্থ কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধাচারণ নয়; বরং বিশ্বের মঙ্গলের জন্য এই একতা। আর আই সির ঐক্যবদ্ধ হওয়া একটি স্বাগতযোগ্য পদক্ষেপ।
তিন নেতা মনে করেন যে তাঁদের শক্তি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে। তাঁদের বিশ্বাস বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রশাসনের চালিকা শক্তি হতে পারে তারা এবং পক্ষান্তরে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষে মঙ্গলদায়ক হবে।
নানান কারণে আর আই সি ধারণা রাষ্ট্র প্রধান এবং সরকার প্রধানদের মধ্যে সক্রিয় ছিল না, যদিও বিদেশ মন্ত্রীরা মিলিত হতেন। গত বৈঠক হয় ২০১৮র জুন মাসে।
এই তিন নেতা আর আই সি ফরম্যাটে সহযোগিতার গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং এবং এই ধরণের আরো ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করার বিষয়ে রাজী হন। তারা বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য ত্রিপাক্ষিকভাবে সহযোগিতা মজবুত করতে এবং ঐকমত্য গড়ে তুলতে একমত হয়েছেন।
জি-২০ বৈঠকের সময় ভারত এযাবৎ কালের প্রথম ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করেছে। কৌশলগত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীণের পেশী প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ।
দ্রুত পরিবর্তনশীল ভৌগলিক-রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে বড় বড় শক্তিগুলির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ভারতের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (মূল রচনাঃ ড.ইন্দ্রানি তেন্দুলকর)