ব্রেক্সিট- টেরিজা মে সরকারের সামনে এক চ্যালেঞ্জ

For Sharing

ব্রিটেনে সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র পক্ষে হাউস অফ কমন্স’এ ব্রেক্সিট বিষয়টির অনুমোদন লাভ বিশেষ সহজ হবে না বলেই আশংকা রয়ে গেছে। ব্রিটেনের সংসদে এ সপ্তাহে বিপুল সংখ্যাধিক্যে একটি অর্থ বিলের ওপর সংশোধনী পাশ করা হল, যা ব্রেক্সিট অনুমোদন না হলে কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা বিশেষভাবে সীমিত করবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ইউরোপীয় সঙ্ঘ থেকে বেরিয়ে যাবার লক্ষ্যে ব্রেক্সিট বিষয়ে সংসদের নিম্ন কক্ষের অনুমোদন পাওয়া সহজ হবে না বলেই এর আগে ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত ভোট গ্রহণ পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এখন এ মাসের ১৫ তারিখে এই ভোট নেবার কথা।
পরিস্থিতি বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী ব্রেক্সিটের অনুমোদন পাবার লক্ষ্যে নিজের দলের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলগুলি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সঙ্ঘ ও লেবার পার্টীর সাংসদদের কাছ থেকে সমর্থন চাইছেন। তিনি এর বিনিময়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও শ্রমিক অধিকার অধিক মাত্রায় সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ব্রেক্সিট বিষয়ে রক্ষণশীল দল ছাড়াও সরকারকে সমর্থনকারী উত্তরাঞ্চলীয় আইরিশ ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টী’-ইউ ডি পি’র মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। ইউ ডি পি ব্রেক্সিটে একাধিক পরিবর্তনের দাবী জানাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আর নতুন করে কোনও আলাপ আলোচনা হবে না বলেই ইউরোপীয় সঙ্ঘ জানিয়ে দিয়েছে। সমগ্র ঘটনাক্রমের প্রেক্ষিতে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, মে সরকার এ সংক্রান্ত ভোটে হেরে গেলে পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে। ইতিমধ্যে তার পর্যাপ্ত সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে। লেবার পার্টী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকি দিয়েছে। বিরোধী নেতা জেরেমি করবিন নতুন করে নির্বাচনেরও দাবি জানিয়েছেন। নতুন করে গণভোটের সম্ভাবনাও খারিজ করা যায় না।
ব্রিটেনের এই সমগ্র ঘটনাক্রমের ওপর ভারত গভীর নজর রাখছে। রাজ্য সভায় এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সদস্যদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতীয়দের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না। ব্রিটেনে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার রুচি ঘনশ্যাম ভারত- ব্রিটেন অংশীদারিত্বকে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্রেক্সিটের ফলাফল যাই হোক না কেন, এই অংশীদারিত্ব অটুট থাকবে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উন্নতিশীল দেশগুলির অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত ভারতের সঙ্গে ব্রিটেন, নিজ স্বার্থেই আগামী দিনে তার অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমাগত ঘনিষ্ঠ করবে। ভারত, ব্রিটেনে চতুর্থ সর্ববৃহৎ লগ্নীকারক দেশ। উচ্চ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা, উদ্ভাবন ও মেধা স্বত্ত্বের মত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রেক্সিট চুক্তি কার্যকর হলে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় সংঘের মধ্যে প্রায় চার দশক ব্যাপী সম্পর্কে এক গুণগত পরিবর্তন ঘটবে। ২০১৬ সালে টেরিজা মে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবার পরেই এই চুক্তি রূপায়ণে তাঁর সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন। প্রকৃত অর্থে শ্রীমতী মে এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় সঙ্ঘ থেকে বেরিয়ে গিয়েও এর সঙ্গে তাঁর দেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে সমগ্র বিষয়টিতে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদের অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে দেশে এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য লক্ষ্য করা যাবে। ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। (মূল রচনাঃ- দিনোজ কুমার উপাধ্যায়)