আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “মার্কিন সেনা ফিরলে পাক কাঁটাই ভাবনা” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“সদ্য শেষ হয়েছে তালিবানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক শান্তি আলোচনা। কিন্তু কাঁটামুক্ত হয়েছে কি শান্তির পথ?  নিঃসন্দেহ নয় দিল্লি। কূটনীতিকরা অবশ্য একটি বিষয়ে একমত যে, এই পরিস্থিতি একই সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে ভারতকে। তাই দেরি না করে অঙ্ক কষতে শুরু করেছে সাউথ ব্লক।

আমেরিকার সঙ্গে তালিবানের কোনও চুক্তি এখনও হয়নি। যেটা হয়েছে, সেটা হল প্রাথমিক আলোচনা শেষে চুক্তি কাঠামোর খসড়া। তালিবান নেতৃত্ব কথা দিয়েছেন, আফগান ভূখণ্ড আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের (আইএস, আল কায়দা, লস্কর) কাজে ব্যবহার করা হবে না। বিনিময়ে আমেরিকা ধাপে ধাপে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে।

যেটি বলা হচ্ছে না, তা হল আফগানিস্তানে এর পর ভারত ও পাকিস্তানের ভূমিকা কী হবে?

পাকিস্তান বরাবরই বলে এসেছে, আফগানিস্তানে রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকাণ্ডে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, থাকতে পারে না। ভারতও আফগানিস্তানের পরিকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সাহায্যের দিকেই মূলত নজর দিয়ে এসেছে। মার্কিন সেনা সরে যাওয়ার পরেও যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে আগের মতোই সাহায্য করে যাবে ভারত। কিন্তু তার সঙ্গে আফগানিস্তানে পাক ভূমিকা নিয়েও ঢের বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে দিল্লিকে। দেখতে হবে, মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার পরে ইসলামাবাদ যেন ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ছক কষতে না পারে সে দেশে। নতুন কোনও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে না পারে দিল্লিকে। কাজটা জটিল ও কঠিন। সাউথ ব্লকের এক কর্তার কথায়, ‘‘পাকিস্তান যদি আফগান সরকারে নিজেদের লোক বসিয়ে দিতে পারে, তবে ১৭ বছর ধরে পরিকাঠামো ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভারত যে ভাবমূর্তি সেখানে তৈরি করেছে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হবে।’’

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা না থাকলে নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নেও ভারতকে সর্বদা কাঁটার উপরে বসে থাকতে হবে। ইসলামাবাদ যাতে তালিবানকে ভারত-বিরোধিতায় উদ্বুদ্ধ করতে না পারে এবং এ বিষয়ে যাতে তাদের আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে রাখা যায়—সেটাকেও অগ্রাধিকার  দিতে হবে ভারতের বিদেশ নীতিতে।

আর এই সুত্রেই রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ানোরও একটা ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা। মস্কো নিজের নিরাপত্তার কারণেও আফগানিস্তানের দিকে নজর রেখে চলে। আফগানিস্তানে ভারত-বিরোধী ছক কষা রুখতে দিল্লি-মস্কো  কাছাকাছি এলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি মডেল তৈরি করা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সাংহাই কোঅপারেশনের (এসসিও)-র বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত প্রবেশ করেছিল রাশিয়ারই পৃষ্ঠপোষকতায়। এতে আফগানিস্তান নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সাউথ ব্লকের একটি বলার জায়গা তৈরি হয়। কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন ও ইরানের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করা বা চাপ বাড়ানোর জন্য এমনিতেও মধ্য এশিয়ায় বড় ভূমিকায় ভারতকে দেখতে চাইছে রাশিয়া। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এখনও কাবুল প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেনি। মোদী জমানায় রিয়াধ ও আবু ধাবির সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে যে রকম উন্নতি হয়েছে, তাতে আফগানিস্তানের সুস্থিতির বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচিতে সহজেই নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

তালিবানের সঙ্গে মার্কিন বোঝাপড়া যা-ই হোক না কেন, তালিবানের সঙ্গে সংযোগের ‘চ্যানেল’ পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করতে পারবে না ভারত। তালিবান গোষ্ঠী ভোটে লড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শামিল হতে চাইবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয় যে। তবে সাউথ ব্লকের মতে, এই মুহূর্তে ভারতের লক্ষ্য হবে সতর্ক ভাবে কিছু দেশকে সঙ্গে নিয়ে আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার জন্য ঝাঁপানো।”

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ বর্তমান’ পত্রিকা “নো ডিল ব্রেক্সিট প্রস্তাব নাকচ ব্রিটিশ সংসদে” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ব্রেক্সিট নিয়ে টেরিজা মে’র হাত শক্ত করল ব্রিটিশ সংসদ। বুধবার হাউস অব কমন্সে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে ‘নো ডিল’ ব্রেক্সিট প্রস্তাব। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩১৮। বিপক্ষে ৩১০। এবার ব্রেক্সিটের শর্ত নিয়ে নতুন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ২৯ মার্চের মধ্যেই ইইউ থেকে ব্রিটেনকে বেরিয়ে যেতেই হবে। তাই হাতে সময় কম। ব্রেক্সিটের যে সমাধানসূত্র মে এনেছিলেন, তা খারিজ হয়েছে ব্রিটিশ সংসদে। ব্রেক্সিটের শর্ত নিয়ে কোনও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হওয়ায়, ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা চেয়েছিল কোনও চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বেরিয়ে আসুক ব্রিটেন। টেরিজা মে এই মতের বিপক্ষে ছিলেন। বরং যে শর্তে তিনি ইইউ থেকে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন, তার সংশোধনেও আপত্তি ছিল না তাঁর। তবে এত কিছুর পরেও মে কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্রেক্সিটের শর্ত নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার জন্য নতুন করে দরজা খোলা হবে না।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে কাবুল সরকার” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জোর বিমান হামলা এবং তালেবানের সঙ্গে মার্কিন আলোচনা সত্ত্বেও কাবুল সরকার দেশটির বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন সরকারের এক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তালেবানকে অবিলম্বে ১৭ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধের ইতি টানতে বলা হয়েছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো মিশন রেসোল্যুট সাপোর্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ অক্টোবরে কাবুল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে মাত্র ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ আফগান নাগরিক বাস করছে। আগের প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকন্সট্রাকশন (এসআইজিএআর) জানায়, আফগানিস্তানের অঞ্চলগুলোতে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। তিনি তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। এসআইজিএআর জানায়, আফগানিস্তানের ৪০৭টি জেলা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাবুলের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের সংখ্যা এখনো হ্রাস পাচ্ছে। এসআইজিএআর-এর প্রতিবেদনের জবাবে পেন্টাগন জানায়, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধাজনক শর্তের ভিত্তিতে আফগান যুদ্ধের ইতি টানাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

কর্মকর্তারা তালেবান ও মার্কিন বিশেষ দূত জালমাই খালিলজাদের মধ্যে চলমান বৈঠকের কথা তুলে ধরেন। তিনি এই সপ্তাহে শান্তি চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেন।”

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা “শেষ হলো প্রিন্স সালমানের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“শেষ হলো সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের শুরু করা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। আর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত এ অভিযানে জরিমানা হিসেবে ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ও সম্পত্তি রয়েছে। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালের শেষ দিকে এ অভিযান শুরু করেন কাউন প্রিন্স। এ সময় দেশটির কয়েক শ প্রিন্স, ধনকুবের ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় করা হয়। ধৃতদের মধ্যে আনীত অভিযোগ স্বীকার করেন ৮৭ জন। তাদের সঙ্গে ফয়সালার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো হয়েছে। ফয়সালায় রাজি হননি অন্য ৮ জন। পরে তাদের সরকারি কৌঁসুলির জিম্মায় দেওয়া হয়। আর অভিযোগ সাব্যস্ত না হওয়ায় অপর ৫৬টি মামলার নিষ্পত্তি এখনো বাকি আছে।

অভিজাতদের বিরুদ্ধে মূলত অভিযান শুরু হয়। ব্যাপক ধরপাকড় করা হয়। দুইশরও বেশি প্রিন্স, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এদের অনেককে রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন হোটেলে বন্দি করে রাখা হয়। এসব হোটেলের মধ্যে পাঁচ তারকা রিজ-কার্লটন হোটেলেও ছিল।

এ ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসে প্রিন্স সালমান। তবে অভিযান চলাকালীন গত বছরের ২ অক্টোবর তুরস্কে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে খ্যাতিমান সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশুগজি খুন হন। এর ঘটনায় ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েন তিনি।”