আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “চাইছি আমেরিকার বন্ধুত্ব, ট্রাম্পকে চিঠি চিনা প্রেসিডেন্টের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আমেরিকার বন্ধুত্ব চাইলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। চাইলেন, দু’দেশের মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয়ে যায় ব্যবসা সংক্রান্ত বকেয়া চুক্তিগুলি।

চিন ও আমেরিকার ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদলের মধ্যে যখন বৈঠক চলছে ওয়াশিংটনে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখে এই আর্জি জানালেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং।

দু’দেশের এখনকার সম্পর্ককে ‘গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ আখ্যা দিয়ে শি লিখেছেন, ‘‘এই সম্পর্ককে জোরদার করতে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তিগুলি তাড়াতাড়ি সেরে ফেলা হোক। তা হলেই দু’দেশের মানুষ ও বিশ্ববাসীর কাছে সদর্থক বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে। সেটা যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই মঙ্গল।’’ চিঠি পেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

গত সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় ঢোকা চিনা পণ্যসামগ্রীর উপর শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হুমকি দেন, নতুন বছরের প্রথম দিনটি থেকেই ওই শুল্কের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেবেন। তার ফলে, চিন্তায় পড়ে যান চিনা শিল্পপতি, ব্যবসায়ীরা। সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় দু’দেশের মধ্যে। এ সবের মধ্যেই গত ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে জি-২০ জোটের দেশগুলির বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা হয় চিনা প্রেসিডেন্টের। তাতে দু’পক্ষই রফায় রাজি হয়। ঠিক হয়, নতুন বছরের প্রথম দিনটি থেকেই আমেরিকায় ঢোকা চিনা পণ্যের উপর আর নতুন করে শুল্ক বসাবে না ট্রাম্প প্রশাসন। আরও বেশি পরিমাণে, আরও বেশি রকমের চিনা পণ্যকে আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তার জন্য মার্কিন শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে চিনে ব্যবসা করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে বেজিংকে। তাদের মেধাসত্ত্ব যাতে চুরি না হয়, তাদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেটাও বেজিংকে নিশ্চিত করতে হবে। এও ঠিক হয়, বেজিং এই সব শর্ত মেনে চলতে না পারলে আগামী ১ মার্চ থেকেই মার্কিন মুলুকে ঢোকা চিনা পণ্যসামগ্রীর উপর বাড়তি শুল্ক বসাবে ট্রাম্প সরকার।

তার আগেই ট্রাম্পকে লেখা চিঠিতে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’ বার্তা দিলেন শি। জানালেন, তিনি চাইছেন দু’দেশের নিখাদ বন্ধুত্ব। দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার শক্তপোক্ত সম্পর্ক।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে শির লেখা সেই চিঠিটি পড়ে শোনান চিনা প্রতিনিধিদলের এক সদস্য।

চিঠিতে চিনা প্রেসিডেন্ট বুয়েনস আইরেসে গত মাসের বৈঠকে তাঁদের মধ্যে কী কী কথা হয়েছিল, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পকে। লিখেছেন, ‘‘গত মাসে আর্জেন্টিনায় আমাদের বৈঠকটা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। যেখানে আমরা বোঝাপড়া, আদানপ্রদান, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছিলাম। তার আগেও অবশ্য আমরা একে অন্যের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনে একে অন্যকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি লিখেছি, চিঠির জবাব দিয়েছি।’’

তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ বারও দু’দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদলের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে, এই আশা প্রকাশ করে চিনা প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘‘আশা করব, এই বৈঠকে দু’পক্ষই একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। আলোচনা হবে ভারসাম্য বজায় রেখে। চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্ব হবে না। আর সেই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে দু’পক্ষ আরও এক বার নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসবে। আর যাতে দু’পক্ষের স্বার্থই অক্ষুণ্ণ থাকে, সে দিকে লক্ষ্য রেখেই চুক্তিটা হবে।’’

আর্জেন্টিনার বৈঠকে ট্রাম্প চেয়েছিলেন আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি পরিমাণে কৃষি পণ্য কিনুক চিন। চিঠিতে শি লিখেছেন, ‘‘সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সে সব আপনাকে (ট্রাম্প) জানাবেন।’’

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ বর্তমান’ পত্রিকা “এইচ-১বি ভিসা: নতুন নিয়মে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হতে চলা এইচ-১বি ভিসা ফাইলিংয়ের নয়া নিয়ম ঘোষণা করল আমেরিকা। এই নয়া নিয়মে অগ্রাধিকার পেতে চলেছেন সেই সব বিদেশি কর্মী, যাঁরা উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি পেয়েছেন আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়তে হতে পারে বহু ভারতীয় কর্মীকে, যাঁরা দেশে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শুধু ভারত নয়, একই সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে চীন সহ অন্যান্য দেশের কর্মীদেরও।
তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যে এই এইচ-১বি ভিসা খুবই জনপ্রিয়। কারণ এটি অ-অভিবাসী ভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে। নতুন নিয়মের ফলে নিশ্চিতভাবেই সমস্যায় পড়তে চলেছেন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রের ভারতীয় পেশাদাররা। কারণ মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর নয়া নির্দেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হল। ইউএসসিআইএস-এর ডিরেক্টর ফ্রান্সিস সিসনার দাবি, এই সরল ও স্মার্ট পরিবর্তনগুলির ফলে মার্কিন নিয়োগকারীরা ইতিবাচক সুবিধা পাবেন। এমাসের গোড়ার দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় বদল আনতে চান তিনি। যাতে এই ভিসার সুবিধা পাওয়া বিদেশি কর্মীদের আমেরিকায় ধরে রাখা যায় ও তাঁদের মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের পথে গতি আনা যায়। এই নয়া পরিবর্তনগুলির ফলে নিয়োগকারীদের সামগ্রিক খরচ কমবে ও সরকারি দক্ষতা বাড়বে।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীতে ২১ জনের মৃত্যু” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

তীব্র শীতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরগুলো। এতে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।  

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ছিলো মাইনাস ৫৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

দেশটির কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। শিকোগোর জন এইচ স্ট্রগার হাসপাতালের চিকিৎসক পুলাকিদাস স্তাতিস জানান, পূর্বে ১২ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছিল। এরপর তীব্র শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন।

প্রচণ্ড শীতের কারণে দেশটির পাঁচটি রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হিমাঙ্কের প্রায় ৬০ ডিগ্রি নীচে বেশ কয়েকটি জায়গার তাপমাত্রা। মিনেসোটার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, হিমাঙ্কের চেয়ে ৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত নীচে নামতে পারে এই স্টেটের তাপমাত্রা। ১৮০০ সালের পর চলতি বছরই এরকম ঠান্ডা পড়েছে মিনেসোটায়।

ওয়াশিংটনে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের প্রায় ৪ ডিগ্রি নীচে। শিকাগোতে বর্তমান তাপমাত্রা মাইনাস ২৩ ডিগ্রি, ডেট্রয়েটেও তা হিমাঙ্কের প্রায় ২৮ ডিগ্রি নীচে। নিউ ইয়র্ক গড় তাপমাত্রা শূ্ন্য ডিগ্রি।

নায়াগ্রা, ওরলিয়ান্স কাউন্টি ও বাফালো, টরন্টোতে তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ১৪ ডিগ্রি। প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে বাসিন্দাদের জন্য সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে এসব স্টেটে।

নর্থ ডাকোটা রাজ্যের গ্রান্ডফর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে ঘণ তুষারপাত ও কুয়াশার কারণে। এছাড়াও দেশজুড়ে বন্ধ রাখা হয়েছে প্রায় ২৭০০ বিমাননের ফ্লাইট ও ট্রেন যাত্রা। তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় মাইনাস ১৩ ডিগ্রির আশেপাশে।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা “বায়ু দূষণে ব্যাংককের ৪০০ স্কুল বন্ধ” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বায়ু দূষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের রক্ষা করতে চার শতাধিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি প্রচণ্ড দূষণে ব্যাংককের বাতাস ভারী হয়ে আছে। হঠাৎ কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটি আবছায়ায় অন্ধকার হয়ে পড়েছে। রাস্তায় বা গণপরিবহনে নাক-মুখে মাস্ক অথবা রুমাল আঁকড়ে ধরে মানুষকে চলাচলের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স প্রজেক্টের (একিউআইসিএন) তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংককের এয়ার কোয়ালিটি সূচক (একিউআই) বর্তমানে ১৭০ এর কাছাকাছি। এটি অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। যদিও এই এয়ার কোয়ালিটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পরিবেশের থেকে প্রায় অর্ধেক।

শিশুদের এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে চার শতাধিক স্কুল ছুটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।”