আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “যুদ্ধ শেষের বার্তা নিয়ে আরবে পোপ ফ্রান্সিস ”শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে।পত্রিকাটি লিখেছে,

“এই প্রথম আরবের মাটিতে পা পড়ল কোনও পোপের। গত কাল দু’দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পৌঁছেই যুদ্ধ শেষের বার্তা দিলেন পোপ ফ্রান্সিস। আবু ধাবির প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির যুবরাজ শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ এবং কায়রোর আল আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম শেখ আহমেদ আল-তায়েব। তাঁদের আমন্ত্রণেই খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্ম নিয়ে এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যোগ দিতে আরবে এসেছেন পোপ।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সে দেশের সরকারের পক্ষে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়ছে আমিরশাহিও। গত চার বছরে অন্তত দশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। অন্য দিকে, কাতারের সঙ্গেও কূটনৈতিক সংঘাত চলছে আমিরশাহির। আবু ধাবিতে পা দিয়েই যুদ্ধ-পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন পোপ। আর্জি জানান, ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা গৃহযুদ্ধের এ বার অন্তত অবসান ঘটুক। তার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসতে বলেছেন তিনি। বলেন, ‘‘এই দীর্ঘ সংঘর্ষে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা। ইয়েমেনের খাদ্যসঙ্কট চরমে পৌঁছেছে।’’

একটি খ্রিস্টান ধর্মসভাতেও যোগ দেবেন পোপ ফ্রান্সিস। আগামিকাল জ়ায়েদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামের ওই সম্মেলনে আনুমানিক ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ক্যাথলিক ভিড় করতে পারেন বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রায় দশ লক্ষ ক্যাথলিকের বাস সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। বেশির ভাগই অভিবাসী, আদতে ফিলিপিন্স ও ভারতের বাসিন্দা। ধর্মসভার টিকিট জোগাড় করতে গত কাল সকালে বৃষ্টি মাথায় করেই আবু ধাবির সেন্ট জোসেফ ক্যাথিড্রালে জড়ো হন ভক্তেরা।

ধর্ম-সম্মেলন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেয়ো। বলেন, ‘‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’’ আবু ধাবি ঘুরতে আসা এক মার্কিন তরুণী জানালেন, পোপের এই আরব সফর সহিষ্ণুতার পথ দেখাবে। খুলে দেবে আলোচনার দরজা। গোয়া থেকে আবু ধাবিতে চলে এসেছেন ভারতীয় নাগরিক ডরিস ডিসুজা। বললেন, ‘‘পোপ আসছেন জেনেই আবু ধাবি চলে এসেছি। পোপকে সামনে থেকে দেখার এই সুযোগ হারানো যাবে না।’’

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ বলেন, ‘‘মানবতার গভীর মূল্যবোধ বয়ে এনেছে পোপের এই সফর। বন্ধুত্ব ও সহিষ্ণুতার নজির গড়ল আমাদের দেশও।’’

 

’কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা “বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জোলি” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

 সোমবার বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখলেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জোলিনা জোলি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সংগঠনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর জোলি প্রথমেই মায়ানমার সীমান্তের টেকনাফ ক্যাম্পে যান। ওই ক্যাম্পে রয়েছেন প্রায় ৭ লক্ষ ২০ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু। অনেকের সঙ্গেই তিনি কথা বলেন। জানা গিয়েছে, আরও কয়েকটি ক্যাম্পে তিনি যাবেন। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও বিদেশমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সঙ্গে কথাও বলবেন তিনি। জানা গিয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘ কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে হাসিনার সঙ্গে কথা বলবেন জোলি।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা “ভেনেজুয়েলা কি গৃহযুদ্ধের দিকেই যাচ্ছে?” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলতে থাকার মধ্যেই কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ একযোগে দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গোয়াইদোকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় পরিস্থিতি এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাদুরো তার ভাষায় বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছেন, দেশে গৃহযুদ্ধ দেখা দেবার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিতে পারছেন না।

দেশটিতে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেবার জন্য ইউরোপিয়ান দেশগুলো প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আট দিনের এক আলটিমেটাম দিয়েছিল। কিন্তু নিকোলাস মাদুরে এ আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেন।

সেই সময়সীমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সোমবার। এর পরই ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি এবং ব্রিটেনের মতো প্রধান ইউরোপিয়ান দেশগুলো ঘোষণা করে যে তারা মি. গোয়াইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং তিনিই এখন নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার গত নির্বাচনের মাধ্যমে মি. গোয়াইদো পার্লামেন্টের স্পিকার হয়েছেন, এবং সেই ভুমিকাই তাকে গণতান্ত্রিক বৈধতা দিয়েছে। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইম্মানুয়েল মাক্রোঁ এর পরপরই মি. গোয়াইদোর প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেন টুইটারে এক বার্তার মাধ্যমে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য কয়েকটি ল্যাটিন আমেরিকান দেশও মি. গোয়াইদোকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন তিনি সামরিক হস্তক্ষেপ সহ সব বিকল্পই বিবেচনায় রাখছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলায় জরুরি সাহায্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেবার কথা বলেছেন।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাদুরো তার দেশে তার ভাষায় বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তিনি বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের পাগলামি এবং আগ্রাসনের কারণে দেশটিতে এখন এক গৃহযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছেন না।

মি. মাদুরো এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সংকটে যদি মি ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপ করেন তাহলে তাকে ‘রক্তমাখা হাত নিয়ে’ হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে।

মি. মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তিনি মনে করেন তার একজন মিত্র এখনো আছেন যার ওপর তিনি নির্ভর করতে পারেন। তিনি হচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ক্রেমলিন ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ‘বিদেশী হস্তক্ষেপের কড়া নিন্দা করেছে।

বিরোধী নেতা মি. গোয়াইদোর বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের অবৈধ চেষ্টার অভিযোগ এনে রাশিয়া বলেছে যে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সহায়তা দিতে মস্কো প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের রাস্তায় শনিবার মি মাদুরো পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

সেনাবাহিনীর দু-একজন অফিসার মি. গোয়াইদোর পক্ষে সমর্থন দিলেও বেশির ভাগ সেনা কর্মকর্তাই এখনো মি. মাদুরোর সমর্থক। কিন্তু মি গোয়াইদোও হাল ছাড়ছেন না। দু’পক্ষই নজর রাখছে – সেনাবাহিনী কার পক্ষ নেয়।

মি মাদুরো ইতিমধে্ আইনসভার নির্বাচন এগিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তিনি বলছেন, বিরোধীদলের মার্কিন-সমর্থিত অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে, এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই।

ভেনেজুয়েলায় গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। মাদুরো বলেছেন, তার পদত্যাগের দাবিতে সৃষ্ট চাপের মুখে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাতিল করতে পারছেন না তিনি।

৩ ফেব্রুয়ারি, রবিবার স্প্যানিশ টিভি প্রোগ্রাম সালভাদোসে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে মাদুরো সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এই সংকটে হস্তক্ষেপ করেন তাহলে তিনি ‘রক্তের দাগ নিয়ে’ হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় নেবেন।

এছাড়া, ভেনেজুয়েলায় আগাম নির্বাচন আয়োজন করতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন মাদুরো।

তবে এর জবাবে সোমবারই কারাকাস ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সংবাদ সম্মেলনে মাদুরোর গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারিকে প্রত্যাখ্যান করেন গুইদো। তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলায় কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই। পুরো চিন্তাটাই মাদুরোর ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দেন এই বিরোধী দলীয় নেতা।

উল্লেখ্য, গত মাসে নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো। তার ঘোষণায় সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাটি তাদের অনলাইন সংস্করণে “পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে উ. কোরিয়া” শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া কোন সামরিক আঘাতে এসব সক্ষমতা যেন ধ্বংস না হয় তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন কমিটির গোপনীয় প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের দাবি, জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের ওই কমিটির প্রতিবেদন তারা এ তথ্য দেখেছে।

চলতি মাসের শেষ নাগাদ ভিয়েতনামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠকের কথা রয়েছে।

গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, উত্তর কোরিয়া সকল ধরণের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখবে।

এছাড়া ট্রাম্প জানায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন কমিটির এমন প্রতিবেদন ট্রাম্পের মন্তব্যের পুরোপুরি উল্টো।

এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ কমিটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সংযোজন, সংরক্ষণ ও পরীক্ষার এলাকা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।”