আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ বর্তমান’ পত্রিকা “ট্রাম্প জমানার দু’বছরের মধ্যে আমেরিকায় বেড়েছে বিভেদ, অবিশ্বাস, দাবি বিশেষজ্ঞদের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“অতীতের যে কোনও প্রেসিডেন্টের চেয়ে তাঁর সাফল্য অনেক বেশি। যদিও ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অনেক কিছুই তিনি এখনও পূরণ করতে পারেননি। একের পর এক খবরের জন্ম দিয়েছেন, দিচ্ছেন। আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্য কোনও প্রেসিডেন্ট এমন নানামুখী আলোচনায় আসতে পারেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সহ বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে তিনি সর্বাধিক আলোচিত প্রেসিডেন্ট। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বলে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বলছেন, আমেরিকা এর মধ্যেই গ্রেট হয়ে গিয়েছে। পুনর্নির্বাচনের জন্য তাঁর স্লোগান ঠিক করাই আছে। ‘কিপ আমেরিকা গ্রেট’। তবে অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় আমেরিকা এখন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত বেশি। আর কাজটা যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরেই ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, তা আমেরিকার সাধারণ মানুষও মনে করছেন।
অধিকাংশ আমেরিকান এখন তাঁর কর্মকাণ্ডে হাঁপিয়ে উঠেছেন। যেসব গোঁড়া সমর্থকের উপর ভর করে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁরা অবশ্য হাল ছাড়েননি। এমনই দাবি মার্কিন রাজনীতির বিশ্লেষকদের।
ক্ষমতায় আসার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বরাদ্দ বাড়াবেন। তাঁর এই একমাত্র প্রতিশ্রুতি তিনি এরই মধ্যে রক্ষা করতে পেরেছেন। দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর কোনও বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁর অন্য প্রতিশ্রুতিগুলোও ঝুলে রয়েছে এখনও। এক কথায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জমানার দু’বছর ‘মিশন একমপ্লিশ’ বলা না গেলেও ‘মিশন ফরগটেন’ও বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর।
সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণ নিয়ে দেওয়া বড় প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন বন্ধে হম্বিতম্বি করলেও, এখনও তা বন্ধ হয়নি। ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। ভীতি সঞ্চার করতে পেরেছেন। দেওয়াল নির্মাণ আদৌ করতে পারবেন কি না, এ নিয়ে নিশ্চিত নন তাঁর সমর্থকরাও।
অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। নাফটা চুক্তিসহ চীনাদের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপ এখনও কোনও সাফল্যের মুখ দেখেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আয়কর কাটছাঁট আইনের ফলে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তি বাড়বে বলে বলা হয়েছিল। যদিও মার্কিন অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ট্রাম্পের আয়কর কাটছাঁট রাষ্ট্রীয় রাজস্বের ঘাটতি বাড়াবে। তাঁর প্রণীত ট্যাক্স কাটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্তরা লাভবান হচ্ছে না বলে বলছেন বিশ্লেষকরা। জ্বালানি খাতে পেট্রলিয়ামের বিকল্প হিসেবে কয়লা জ্বালানি বৃদ্ধির কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার গৃহীত নীতির জের ধরে আমেরিকা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল উৎপাদক দেশ। জ্বালানি ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। বারাক ওবামার সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা বাতিলের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এ নিয়ে এখনও বিষোদ্গার করলেও, বাতিল করে নতুন কোনও স্বাস্থ্যনীতি তিনি আনতে পারেননি। দেশের শিল্প, কারখানা ও পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা ট্রাম্প বদলে দিতে চেয়েছিলেন। আদালতে এসব আটকে গিয়েছে। রাষ্ট্রীয় আইনে যেসব বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, তা দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ট্রাম্প সমর্থকরাও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে পেরেছেন। একইসঙ্গে নানা কারণে বহির্বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তিকে বিতর্কে ফেলে দিয়েছেন।
তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি আমেরিকার স্বাধীন সংবাদপত্রকে প্রকাশ্যে ‘ফেক মিডিয়া’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। দাম্ভিকতা আর হোয়াইট হাউসের অস্থিরতায় হাঁপিয়ে উঠেছে আমেরিকার জনগণ। সন্দেহ আর বিদ্বেষ বেড়েছে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম এবিসি-র সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আমেরিকার মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত দুই বছরের শাসনকে দুর্বল বলে মনে করছেন। ৬৫ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামকে বিশ্বাসই করে না। তাঁর ৩৪ শতাংশ গোঁড়া সমর্থক এখনও ট্রাম্পের প্রতি আস্থাশীল।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  কাবুল সরকার ছাড়া শান্তি চুক্তি সফল হবে না: মার্কিন জেনারেল” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“শান্তি চুক্তিকে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে আলোচনায় আফগান সরকারকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। মঙ্গলবার এক শীর্ষ মার্কিন জেনারেল একথা জানান।

তালেবানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মাসব্যাপী আলোচনার বাহ্যত লক্ষ্য ছিল কাবুলের সাথে আলোচনায় তাদের রাজি করানো। কিন্তু তালেবানরা প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও তার সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রাজি নয়। তারা কাবুলের সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত পুতুল হিসেবে দেখে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভটেল মার্কিন আইনপ্রনেতাদের বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে, আমাদের তালেবান-আফগানিস্তানের মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেবলমাত্র তারাই এ বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করতে পারবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর মার্কিন বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদের নেতৃত্বে এ আলোচনা শুরু হয়।

টুইটারে মঙ্গলবার দেয়া এক বার্তায় ঘানি বলেন, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনিও শান্তি প্রক্রিয়ায় আফগান সরকারের আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা ““ফেব্রুয়ারির শেষে ভিয়েতনামে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-কিম” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ভিয়েতনামে এ বৈঠক হবে বলে জানা গেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে স্টেট অব দি ইউনিয়নের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ঘোষণা দেন।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি নির্বাচিত না হতাম, আমার মতে- আমরা এখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তাম।

তবে কিমের সঙ্গে প্রথম বৈঠকের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। কিন্তু কিম জং উনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক একটি ভালো দিক। চেয়ারম্যান কিম ও আমি আগামী ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামে বসতে যাচ্ছি।

হ্যানয় ও ড্যানাঙে এ বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে। অবশ্য  নির্দিষ্ট ভেন্যুর কথা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।”