আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “ক্ষেপণাস্ত্র  চুক্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কি দিল্লিকেও চান?”শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“জল্পনাটা উস্কে দিয়েছে তাঁর বক্তৃতা। তা হল, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি রাশিয়ার পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানকেও নতুন এক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিতে শামিল করতে চান?

সোভিয়েত জমানার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি থেকে সদ্য সরে এসেছে আমেরিকা ও রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বার চান নতুন চুক্তি। শুধু রাশিয়ার সঙ্গে নয়। চিন ও আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে। মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জাতির উদ্দেশে বার্ষিক বক্তৃতায় ট্রাম্প তাঁর এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন গত কাল। সরাসরি ভারতের নাম নেননি। তবে সোভিয়েত জমানার চুক্তিটি ছিল হাজার থেকে পাঁচ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে। ভারতের পৃথ্বী ও অগ্নি গোত্রের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এর মধ্যে পড়ে। পাকিস্তানের বাবর, শাহিন বা ঘাউরি ক্ষেপণাস্ত্রও তা-ই। তাতেই জল্পনা শুরু হয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ বলতে ভারত বা পাকিস্তানকেও সম্ভবত তালিকায় রাখছেন ট্রাম্প।

ভারতের কাছে প্রাসঙ্গিক আরও একটি বিষয় বক্তৃতায় তুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মার্কিন পণ্যে কোনও দেশ অন্যায্য শুল্ক চাপালে আমরাও তাদের ওই পণ্যে একই হারে শুল্ক চাপাব আমাদের বাজারে।’’ চিনের পাশাপাশি ভারতের শুল্ক হার নিয়ে উষ্মা রয়েছে ট্রাম্পের। এক সময়ে ভারতকে ‘শুল্কের রাজা’ তকমা দিয়েছেন তিনি। গত নভেম্বরে কৃষিপণ্য থেকে হাতে বোনা তাঁতের জিনিস— মার্কিন বাজারে অন্তত ৫০টি  ভারতীয় পণ্য বিনাশুল্কে বিক্রির সুবিধা ফিরিয়ে নিয়েছে তাঁর প্রশাসন। এ কারণে মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই দফার শুল্ক-হুমকির অন্যতম নিশানা ভারতও।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ বর্তমান’ পত্রিকা “দেশ ছাড়তে পারলেন না প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী গিলানি” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“দেশ ছাড়তে পারলেন না দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। মঙ্গলবার তাঁকে লাহোর বিমানবন্দরে আটকান পাকিস্তানের অভিবাসন দপ্তরের আধিকারিকরা। ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি জানিয়েছে, ব্যাঙ্কক হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাতে লাহোর বিমানবন্দরে আসেন ৬৬ বছরের গিলানি। তাঁর নাম ‘নো-ফ্লাই’ তালিকায় রয়েছে জানিয়ে গিলানিকে আটকানো হয়। বলা হয়, কালো তালিকায় নাম থাকার কারণে তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না। অভিবাসন দপ্তরের কর্মীদের সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পিপিপি নেতা গিলানি। তিনি বলেন, প্রতিটি মামলার শুনানিতে তিনি আদালতে হাজিরা দেন। তাই তাঁর নাম ‘নো-ফ্লাই’ তালিকায় থাকার কোনও কারণ নেই। ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতিকদের হয়রানির অভিযোগ করেন গিলানি।

এদিকে, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বিশেষ হাসপাতলের সুবিধা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিল সে দেশের কারাদপ্তর। চিকিৎসার জন্য লন্ডন যেতে চেয়েছিলেন নওয়াজ। তাঁর সে আর্জি অবশ্য খারিজ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত নওয়াজের সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। তিনি এখন লাহোরের জেলে রয়েছেন। মেডিক্যাল টিমের সুপারিশ মেনে গত সপ্তাহে তাঁকে জেল থেকে সার্ভিসেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসকরা তাঁকে হৃদরোগের জন্য স্পেশাল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কারাদপ্তর তাতে সম্মতি জানিয়েছে।”

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  এপ্রিলের মধ্যে অর্ধেক সেনা ফিরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র : তালেবান” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক সেনা ফিরে যাবে। এমনটিই জানিয়েছেন দেশটির সাবেক ইসলামপন্থি শাসক গোষ্ঠী তালেবানের এক মুখপাত্র। তালেবানের সঙ্গে এমনটিই নাকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ। তবে সৈন্য প্রত্যাহারের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানায় দেশটির সেনাবাহিনী।

মস্কোতে আফগান তালেবান ও অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালেই একথা জানান তালেবান মুখপাত্র আবদুল সালাম হানাফি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা চলতি মাস থেকেই সেনা প্রত্যাহার শুরু করবেন। ‍

হানাফি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে জানিয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকেই তারা সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করবে। এপ্রিলের শেষ নাগাদ অর্ধেক সৈন্য তারা প্রত্যাহার করে নেবে।

তবে পেন্টাগনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রব ম্যানিং জানান, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো আদেশ পায়নি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা অব্যাহত আছে। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনার কোনো আদেশ এখনো পায়নি।

একইসঙ্গে কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর আরেকজন মুখপাত্র এমন সিদ্ধান্তের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান যাতে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজ না করে সেজন্য সব পক্ষই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। যখন এই বিষয়টি নিশ্চিত হবে তখনই সৈন্য সংখ্যা কমানোর কথা ভাবা হবে।

তালেবান প্রতিনিধিদের প্রধান শের মোহাম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই এর বক্তব্য অবশ্য হানাফি থেকে ভিন্ন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের কোনো সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি।

তবে হানাফি একথা জানিয়েছেন, তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছে। সেক্ষেত্রে তারা এ বিষয়েও একমত হয়েছে যে, আফগানিস্তান আর কখনও যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। একইসঙ্গে সেনা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তালেবান একটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করবে।

মস্কোতে বুধবার তালেবান আফগানিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করছে। তবে সেই আলোচনায় কাবুল সরকারের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

তালেবান কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে থাকা স্টানিকজাইকে সাধারণত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে খুব একটা দেখা যায় না। তবে ওই বৈঠকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এর সঙ্গে তাকে দেখা গেছে।

আলোচনার বিষয়ে স্টানিকজাই বলেছেন, এই আলোচনা ছিল খুবই ফলপ্রসূ। আমরা বেশকিছু বিষয়ে একমত হয়েছি। আমি আশাবাদী ভবিষ্যতে এই আলোচনায় আমরা সফল হব এবং একটা চূড়ান্ত সমাধানে আসতে পারব। যার মাধ্যমে আফগানিস্তানে একটা পরিপূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

এদিকে তালেবানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল খুবই সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তালেবান দমনে ১৭ বছর লড়াই এর পর সবশেষ কাতারের মধ্যস্থতায় এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে দোহায় সেই আলোচনায় উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানিকে এই শান্তি আলোচনায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। গানি ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনার সময় তালেবানদের সঙ্গে একইসঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও এক টেবিলে খাওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।

সরকারের সম্পৃক্ততা ছাড়াই আফগানিস্তানের বিরোধী দল ও তালেবানের সঙ্গে মস্কোয় আলোচনা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আশরাফ গানি। কাবুল ভিত্তিক এক বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মস্কোর এই আলোচনা একটি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু্ই নয়। আফগান জনগণের সম্মতি ছাড়া কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মস্কোতে যারা একত্রিত হয়েছে তাদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তারা শুধু বলছে কি করতে চান কিন্তু প্রতিনিধিত্ব করার তারা কে?

তবে মস্কোতে তালেবান ও অন্য রাজনৈতিক নেতাদের এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই আলোচনায় বেশ কয়েকজন নারী প্রতিনিধিও আছেন। যারা একথা নিশ্চিত করতে চাইছেন যে, তালেবান ক্ষমতায় আসলে নারী স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করবে না এবং একনায়কতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করবে না।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা “আরও ১৩ বছরের কারাদণ্ড লুলার” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভাকে আরও ১২ বছর ১১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ব্যাপকহারে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলের একটি আদালত এ রায় দিয়েছে।

জানা গেছে, একটি কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ব্যাপকহারে দুর্নীতি করেছিলেন বলে অভিযুক্ত হয়েছেন লুলা। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রায় ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সম্পদ সংক্রান্ত মামলায় ইতোমধ্যে ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নতুন করে দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।”