আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা “ত্রাণ ঢুকতে দিন, সেনাকে নির্দেশ গুয়াইদোর”শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আন্তর্জাতিক ত্রাণের পথে বাধা দেবেন না! ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে এই সুরেই নির্দেশ দিলেন স্বঘোষিত অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো।

আন্তর্জাতিক সাহায্য এসে পৌঁছনোর আগেই মঙ্গলবার কলম্বিয়া সীমান্তের একটি সেতু বন্ধ করে দিয়েছিল দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অনুগত সেনাবাহিনী। বিরোধী-প্রধান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি-র সদস্যরা আগেই সেনার উদ্দেশে বলেছিলেন, ত্রাণ আটকে বিপদসীমা পার করবেন না। গুয়াইদো জানান, এই সাহায্য বিতরণ করা না হলে অন্তত ৩ লক্ষ মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে গুয়াইদোর বার্তা, ‘‘প্রয়োজনীয় ত্রাণ আসতে দিন। আপনাদের পরিবার, বোন, মা, স্ত্রী— সবারই এই সাহায্যের প্রয়োজন।’’ বুধবার ভেনেজুয়েলা এবং কলম্বিয়ার মাঝামাঝি তিয়েনদিতাস সেতুর কাছে পথ আটকে দেয় সেনা কনভয়।

বিষয়টি নিয়ে গুয়াইদো সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘শাসক দল অবাস্তব কথাবার্তা বলছে। জনকল্যাণের কথাও ভুলে গিয়েছে। যে কোনও পথে ত্রাণ আমাদের

দিতেই হবে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘শাসক জানে না, ওদের কী করা উচিত। আমাদের কাছে খবর আছে, ওরা ত্রাণ চুরি করবে। তা না হলে ঢুকতে দেবে না। আর ঢুকতে দিলে চুরি করবেই।’’

আন্তর্জাতিক ত্রাণের অনুরোধ জানিয়েছিলেন গুয়াইদোই। মাদুরো সরকার জানায়, তারা ত্রাণ নেবে না। মাদুরোর চোখে, ত্রাণ আসলে ভেনেজুয়েলায় বিদেশি শক্তির আগ্রাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

এর মধ্যে আমেরিকা আবার সেনাবাহিনীর উদ্দেশে জানিয়েছে, গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিন। তা হলে যে সব সেনা অফিসারের উপরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা তুলে নেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন টুইটারে লিখেছেন, ‘‘গণতন্ত্রকে সমর্থন করুন। প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোর সাংবিধানিক সরকারকে স্বীকৃতি দিলে ভেনেজুয়েলার শীর্ষ সামরিক নেতাদের উপর থেকে নিষেধ তুলে নেওয়ার কথা ভাববে আমেরিকা। তা না হলে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার সব পথ বন্ধ হবে। তাই ঠিকমতো নেতা বেছে নিন।’’

মঙ্গলবার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন বক্তৃতাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মাদুরোর উপরে চাপ বাড়িয়ে বলেছেন, ‘‘আমরা ভেনেজুয়েলার মানুষের স্বাধীনতার লড়াইয়ে পাশে আছি।’’ গুয়াইদোকে স্বীকৃতি তিনি আগেই দিয়েছেন। তার পরে আরও ৪০টিরও বেশি দেশ এই নেতার পাশে দাঁড়িয়েছে.”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ বর্তমান’ পত্রিকা ““রাশিয়াকে বাদ দিয়ে বিকল্প পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির প্রস্তাব ট্রাম্পের, ভারতের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনের শুরুর ভাষণে রাশিয়াকে বাদ দিয়ে বিকল্প পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির প্রস্তাব দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন চুক্তিতে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে সূত্রের খবর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, রাশিয়া ক্রমাগত চুক্তির শর্ত ভাঙছে। তাই আমরা একটি পৃথক চুক্তি করতে আগ্রহী। নতুন চুক্তিতে চীন বা অন্যান্যদের যুক্ত করব। যদি তা না পারি, তাহলে অন্য উপায়ে পরিবর্তনের পথে যাব।
অবশ্য প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। চুক্তি ভাঙতে মার্কিন তৎপরতা শুরু হওয়ার পর রাশিয়াও চুক্তি বাতিলের ঘোষণা করে দিয়েছে। শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, যেহেতু আমেরিকা চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটছে। তাই আমরাও বেরিয়ে আসতে চাই। ১৯৮৭ সালে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় আমেরিকা এবং মস্কোর হয়ে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান এবং সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিখাইল গর্বাচেভ। চুক্তি অনুযায়ী, ১ হাজার এবং ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের বস্তুকে আঘাত করার ক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে না দুই দেশ। এখন চুক্তি বাতিল হলে স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে মস্কোর আর কোনও বাধা রইল না। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তি হলে পৃথ্বী এবং অগ্নির মতো ক্ষেপণাস্ত্র এই চৌহদ্দির মধ্যে পড়ে যাবে। পাশাপাশি, পাকিস্তানের বাবর, শাহীন এবং ঘাউড়ি ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির মধ্যে থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ছ’মাসের মধ্যে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া শেষ হবে। আর চুক্তি রক্ষা করতে চাইলে রাশিয়াকে অবিলম্বে ক্ষেপণাস্ত্র, উৎক্ষেপণ যন্ত্র এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশগুলি ধ্বংস করতে হবে। সেই সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে রুশ সরকার বলেছে, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেদের মুক্ত করতেই অজুহাত খুঁজছে ওয়াশিংটন। এর পাল্টা আমেরিকা জানিয়েছে, একাধিক স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে রাশিয়া। যেগুলি ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের বস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম। এই অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো দাবি করেছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির ক্ষমতা কোনটি ৪৮০ কিলোমিটারের বেশি নয়।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা  “প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন থাই জান্তা প্রধান” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“থাই জান্তা প্রধান প্রয়ুত চ্যান-ও-চা শুক্রবার বলেছেন, তিনি মার্চ মাসে দেশটিতে অনুষ্ঠেয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

তার এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যুয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর সেনাবাহিনী চার বছরের বেশি সময় রাজনীতির উপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে মার্চ মাসের ওই নির্বাচনে তা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রায়ুত বলেন, ‘ফালাং প্রাচারাত পার্টির আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত রয়েছি। তারা ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমাকে মনোনয়ন দেবে।।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা ““সৌদির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি মার্কিন এমপিদের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,
“মার্কিন আইন প্রণেতারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হুমকি দিয়েছেন। সৌদি যুবরাজ সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ‘গুলি’ করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তথ্য ফাঁস হওয়ার পর এ হুমকি দেয়া হয়।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা স্পষ্টভাবে তা জানাতে কংগ্রেস শুক্রবার পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সময় বেঁধে দিয়েছে।

২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগিকে হত্যা করে তার দেহ টুকরো টুকরো করা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি কয়েকজন কর্মকর্তারা বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০১৭ সালে সৌদি যুবরাজ তার এক সহকারিকে খাশোগি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরব ফিরে না এলে তাকে ‘গুলি’ করার নির্দেশ দেন।

৩৩ বছর বয়সী সৌদি সিংহাসনের উচ্চাভিলাষী এই উত্তরাধিকারী খাশোগিকে হত্যা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে।”