চীনের প্রতিবাদ অবান্তর

For Sharing

চীন প্রধানমন্ত্রীর অরুণাচল প্রদেশ সফরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাওয়াং এর সঙ্গে অবশিষ্ট রাজ্যের সংযোগ সাধনের উদ্দেশ্যে সে লাতে একটি সুরঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য তিনি উত্তর পূর্বাঞ্চলে যান। চীনের এই ধরণের প্রতিক্রিয়া নতুন কিছু নয়; নিয়ম মাফিক এবং গতানুগতিক।

কয়েক দশক আগে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের মর্যাদা লাভ করার পর থেকে এটি প্রায় বার্ষিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫র ফেব্রুয়ারী মাসে শ্রী মোদি অরুণাচল গিয়েছিলেন রেল স্টেশন এবং একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে। চীনের সহকারী বিদেশ মন্ত্রী এই সফরের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছিলেন এবং কঠোর বিরোধীতা করেছিলেন। চীনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। ২০১৭তে দালাই লামা অরুণাচল সফর করেন এবং চীনের তরফ থেকে আবার অনুরুপ প্রতিবাদ জানানো হয়। একই ভাবে ২০১৮র ফেব্রুয়ারীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পুনর্বার সফরেও চীনের পক্ষ থেকে অনুরুপ সমালোচনা আসে। তদানিন্তরন পররাষ্ট্রমন্ত্রী  প্রণব মুখার্জী ২০০৮র নভেম্বরে অরুণাচল সফর করেন । তখন তিনি বলেছিলেন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঐ রাজ্য থেকে  নির্বাচিত দুজন প্রতিনিধি ভারতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি আরো বলেন, অরুণাচল প্রদেশ বা দেশের কোনো অংশ ছেড়ে দেবার কোনো প্রশ্নই ওঠেনা। চীন এই সফরের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে।

অক্টোবর ২০১৬তে তদানিন্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড ভার্মা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সফর করেন। ১৯৬২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দপ্তর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে জানায় যে ম্যাকমোহন লাইন ভারত ও চীনের মধ্যবর্তী সীমান্ত রেখা। কিন্তু চীন এখনও তা প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। অরুণাচল প্রদেশের বিষয়ে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাপানের বিদেশ মন্ত্রী তারো আসোর ভারত-পন্থী মন্তব্যের বিরুদ্ধেও পেইচিং প্রতিবাদ জানায়।

 

চীণ অরুণাচলের বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না। তারা ঐ রাজ্যের আধিকারিকদের ভিসা দিতে অস্বীকার করে আসছে।  ঐ রাজ্যের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিক সহ চীনে যেতে চাইলে তাদের ভিসা দেওয়া হয় নি।

তবে অরুণাচল প্রদেশের সাধারণ মানুষের জন্য চীন স্ট্যাপল ভিসা দিচ্ছে। ভারত ২০০৯ সালে ভ্রমন নির্দেশিকা জারী করে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করে দেয় যে পাসপোর্টের সঙ্গে স্ট্যাপল করা চীনা ভিসা দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য বৈধ নয়।

অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাদের চীনের স্ট্যাপল ভিসা জারী করার কারণে নানান অসুবিধা এবং  অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ২০১১ সালে স্ট্যাপল ভিসা ধারক চীন গামী  একটি ক্যারাটে দলকে দিল্লী বিমান বন্দরে আটকে দেওয়া হয়।  অনুরুপভাবে ২০১২ সালে একটি ওয়েটলিফটিং দলকে অনুমতি দেওয়া হয় নি।

২০১৪র লোকসভা নির্বাচনের প্রচার অভিযানে শ্রী মোদি অরুণাচল প্রদেশের ফাসিঘাট সফরের সময় সরাসরি চীনের সম্প্রসারণবাদী মনোভাবের সমালোচনা করেন কারণ এটি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকর। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি চীনের প্রতি সক্রিয় নীতি গ্রহণ করেন এবং এক চীন নীতির প্রতি ভারতীয় প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে অনুরুপ আচরণ তাদের পক্ষ থেকেও আশা করেন। এই বিষয়ে চীনের কোনো প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় ভারত রাজ্যে পরিকাঠামো প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করে এবং সীমান্ত এলাকায় সড়ক নির্মাণের কার্যকলাপ শুরু হয়। রাজ্যে তিনটি নতুন বিমান ঘাঁটি উন্নয়ন সহ অন্যান্য কাজ শুরু হয়।

অরুণাচলের সামনে তিব্বতের নিঙ্গি অঞ্চলে সামরিক সাজসরঞ্জাম একত্রিত করার প্রেক্ষাপটে এসবের ব্যবস্থা করা হয়। বি জে পি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ সরকার সর্বদাই বলে এসছে যে তারা চীনের সঙ্গে সীমান্ত প্রশ্নে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।

 

নতুন দিল্লীর পক্ষে এটি পরিস্কার যে শ্রী মোদি এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এর মধ্যে ২০১৮র এপ্রিলের উহান শিখর বৈঠক সত্বেও পেইচিং বিনা কারণে অরুণাচল প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ভারত তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সব কিছুই করবে। দুটি দেশের মধ্যে আর একটি বিতর্কিত এলাকা অক্সই চীনের বিবাদ এখনও চলছে। চীনা নেতৃত্বকে শান্তিপূর্ণ ভারত-চীন সীমান্তের প্রতিশ্রুতির মর্যাদা দিতে হবে।  (মূল রচনাঃ শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লী)