আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ আনন্দ বাজার’ পত্রিকা “ফি বৃদ্ধি: বেসরকারি স্কুলকে ধমক পাক সুপ্রিম কোর্টের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“দেশের বেসরকারি স্কুলগুলির অত্যধিক মাত্রায় ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।  এতটাই যে, এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের এক বেঞ্চ দেশের সব ক’টি বেসরকারি স্কুলকে সরকারি করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে আদালত বলেছে, ‘‘চাইলে এখনই আপনাদের স্কুল বন্ধ করে দিতে পারি। আর স্কুলের প্রশাসনিক সমস্ত দায়িত্ব সরকারের হাতে তুলে দিতে পারি।’’ একই সঙ্গে পাক সর্বোচ্চ আদালতের মন্তব্য, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনওই টাকা কামানোর কারখানা হতে পারে না।

বেসরকারি স্কুলগুলোয় অত্যধিক ফি-বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ চলছে গোটা পাকিস্তানে। ডিসেম্বরে এই ফি-বৃদ্ধিতে রাশ টেনেছিল পাক সর্বোচ্চ আদালত। তারা নির্দেশ দিয়েছিল, বর্ধিত ফি-এর অন্তত কুড়ি শতাংশ কমাতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। যে সব বেসরকারি স্কুলের মাইনে পাঁচ হাজার টাকার বেশি, তাদের জন্যই এই নির্দেশ প্রযোজ্য ছিল। সেই সঙ্গেই আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, কোনও বেসরকারি স্কুলই ছাত্র-ছাত্রীদের মাইনে বছরে ৮ শতাংশের বেশি বাড়াতে পারবে না। তা-ও করতে হবে কোনও নির্দেশকের অধীনে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে যে স্কুল ফি দেওয়া হয়, তার অর্ধেক ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের ফিরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেয় কোর্ট।

সু্প্রিম কোর্টের সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে বিচারপতিদের চিঠি লেখে ইসলামাবাদের দু’টি বেসরকারি স্কুল। সেই নিয়েই আজ শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। ওই চিঠির ভাষা আদালতের পক্ষে ‘অবজ্ঞাসূচক’ বলে আজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিচারপতি গুলজ়ার আহমেদ, বিচারপতি ফয়সল আবাব এবং বিচারপতি ইজাজ়ুল এহসানের বেঞ্চ। বিচারপতিরা বলেছেন, ‘‘আপনাদের এত সাহস হয় কী করে? আদালতের নির্দেশকে কঠোর বলে বিচারপতিদের চিঠি পাঠান!’’ এর পরে তাঁরা বলেন, ‘‘আপনাদের চোখে তো লজ্জার চিহ্নমাত্রও নেই! এখনই আপনাদের স্কুল বন্ধ করে সরকারের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।’’ আদালতের ভর্ৎসনার প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন ওই দুই বেসরকারি স্কুলের আইনজীবী। তাঁরা জানান, আদালত অবমাননার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। তাঁরা বলেছেন, ‘‘যা লেখা হয়েছে, তার জন্য আমরা ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে এমনটা আর হবে না।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ বর্তমান’ পত্রিকা “বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে ফের মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, কড়া প্রতিক্রিয়া বেজিংয়ের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত ভূখণ্ডের কাছে সোমবার নোঙর ফেলল দু’টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ফলে চীন ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় চীন জানিয়েছে, নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে এবং এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করতেই আমেরিকা এই কাজ করেছে। মার্কিন টেলিভিশন সিএনএন জানিয়েছে, স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে নোঙর ফেলেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসি ইউএসএস স্প্রুন্যান্স এবং ইউএসএস প্রেবেল যুদ্ধজাহাজ। মার্কিন নৌসেনার সপ্তম ফ্লিটের কমান্ডার ক্লে ডস জানিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে একটি দেশের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে এবং জলপথে চলাচলের অধিকার সংরক্ষিত করতেই এই যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে।’
উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরে জলপথের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে চীনের সঙ্গে অন্যদেশগুলির বিবাদ বহুদিনের। চীন পুরো এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। তবে তাইওয়ান, ফিলিপিন্স, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনামও এই অংশের দাবি করে আসছে। চীন গায়ের জোরে সেই এলাকায় কর্তৃত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ এই দেশগুলির। এই অবস্থায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি চীনকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি এই প্রথম নয়। গত জানুয়ারিতে পার্সেল দ্বীপপুঞ্জের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই নোঙর ফেলেছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ম্যাকক্যাম্পবেল।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা পাকিস্তানে পৌঁছল সৌদি যুবরাজের ‘রহস্যময়’ পাঁচ ট্রাক” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান সফর করবেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি সাক্ষরিত হবে। ইতিমধ্যে যুবরাজ সালমানের ব্যক্তিগত সরঞ্জামবাহী পাঁচটি ‘রহস্যময়’ ট্রাক ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সৌদি যুবরাজের সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

বার্তা সংস্থা ডনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে ওই পাঁচ ট্রাকে যুবরাজের ব্যায়ামের সরঞ্জাম, ফার্নিচেয়ার ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য অন্যান্য জিনিস রয়েছে। ওই পাঁচটি ট্রাকে ‘অন্য কিছুও’ থাকতে পারে বলে খবরে বলা হয়েছে। এছাড়া যুবরাজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ও সৌদি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

খবরে বলা হয়েছে, যুবরাজ সালমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বাসভবনে অবস্থান করবেন। তবে তাঁর সফরসঙ্গীদের জন্য ইসলামাদের শীর্ষ দুইটি হোটেল বুক করা হয়েছে।

২ দিনের সফরে সালমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা ““সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শিগগিরই” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ প্রত্যাহার শুরু হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল এ মন্তব্য করেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।

জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেছেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সঠিক। খুব শিগগিরই সেখান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমরা আমাদের পথেই রয়েছি। ইতোমধ্যে সিরিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় শুরু হয়েছে।”