আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দ বাজার’ পত্রিকা “আপাতত রফা, ফের শাটডাউনের ভয় কাটল” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

দক্ষিণ সীমান্তে প্রাচীর তোলা নিয়ে কোনওমতে রফাসূত্র বার করলেন ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকান সদস্যরা। ঠেকানো গেল আবার শাট ডাউনের আশঙ্কা। কিন্তু ওই পর্যন্তই।

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তুলতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন ৫৭০ কোটি ডলার। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রফামতো আপাতত ১৪০ কোটি ডলারেই খুশি থাকতে হচ্ছে তাঁকে। তাতে অবশ্য এতটুকু না দমে ট্রাম্প বলছেন, ‘‘দেওয়ালটা আমরা বানাবোই।’’

সীমান্ত সুরক্ষায় যে রফাসূত্র বেরিয়ে এসেছে দু’পক্ষের, তাতে ৮৮ কিলোমিটার জুড়ে এখনকার নকশামতো ধাতব পাতের বেড়া তৈরিতে সায় মিলেছে। প্রেসিডেন্ট চেয়েছিলেন, ৩৪৬

কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় কংক্রিটের দেওয়াল। এ বার মার্কিন কংগ্রেসের সম্মতি মিললে তবে এই চুক্তিতে সই করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট। সোমবার রাতে টেক্সাসের এল পাসো-তে এক সভায় ভিড়ের উদ্দেশে ট্রাম্পের গলায় তবু আত্মবিশ্বাস,  ‘‘আপনারা দেখছেন তো! যে করেই হোক, দেওয়ালটা আমরা বানাবোই।’’

গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি  থেকে ৩৫ দিনের জন্য (সব চেয়ে দীর্ঘ শাট ডাউন) মার্কিন সরকারের ন’টি দফতরের কাজকর্ম আংশিক ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মধ্যস্থতাকারীরা এই সব দফতরের কাজকর্ম চালাতে অর্থ জোগাড়ের জন্য চুক্তির কথা ভেবেছিলেন। ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ২৫ জানুয়ারি ঐকমত্যে পৌঁছনোর পরে ঠিক হয়, সাময়িক ভাবে দফতরগুলিকে চালানোর জন্য ব্যয়মঞ্জুরি হবে। ৮ ফেব্রুয়ারি বার করা হবে সমাধানসূত্র।

কথা শুরুর পরে গত রবিবার অবশ্য অনথিভুক্ত শরণার্থীদের সর্বোচ্চ সংখ্যা নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হওয়ায় ফের ভেস্তে যায় আলোচনা। যে সব দফতরের কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলির সঙ্গে শরণার্থী নীতির সরাসরি কোনও সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু ট্রাম্প অনড় ছিলেন প্রাচীর তোলা নিয়ে। অর্থ না পেলে তিনি সব রাস্তাই বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রাচীর তোলার জন্য ওই বিপুল অর্থ মঞ্জুরিতে আপত্তি জানান। তাঁদের যুক্তি, অনথিভুক্ত শরণার্থী নিয়ে অহেতুক উদ্বেগের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে। সীমান্তের চেয়ে ওই অর্থ প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যয় হওয়া যুক্তিযুক্ত।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ আজকাল’ পত্রিকা “ফের উঠতে চলেছে কুলভূষণ  মামলা” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আন্তর্জাতিক আদালতে ফের উঠতে চলেছে কুলভূষণ যাদব মামলা। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হবে। চারদিনের শুনানিতে এই ইস্যুতে ভারত–পাকিস্তান নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে শুনানি। প্রথমদিন ভারত বলবে। পরদিন বলবে পাকিস্তানকে। এটাকেই প্রথম রাউন্ডের শুনানি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
২০–২১ ফেব্রুয়ারি হবে দ্বিতীয় রাউন্ডের শুনানি। কুলভূষণ যাদব ভারতীয় নৌসেনার অফিসার। তাঁকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ইরান থেকে অপহরণ করে। পরে পাকিস্তান দাবি করে কুলভূষণ আসলে গুপ্তচর। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপর থেকে কুলভূষণকে কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে ভারত। কিন্তু পাকিস্তান সেই প্রস্তাব বারবার খারিজ করে দিয়েছে।
যার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন করে ভারত। আন্তর্জাতিক আদালত পাকিস্তানকে কুলভূষণের বিরুদ্ধে আদালতের রায় এখনই কার্যকর না করতে বলেছে। আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশেই কুলভূষণের মা ও স্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। এখন দেখার আগামী শুনানিতে ঠিক কী হয়। ভারত কি নিজেদের অভিযোগ প্রমাণ করে মুক্ত করতে পারবে কুলভূষণ যাদবকে? উত্তরের অপেক্ষায় কুলভূষণের পরিবার। ‌‌।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা ভেনেজুয়েলার সংকট সমাধানে প্রস্তুত রাশিয়া, আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ভেনেজুয়েলার সংকট সমাধানে প্রস্তুত রাশিয়া। মঙ্গলবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন বার্তা দেয়া হয়। সেইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অভিযোগে আমেরিকাকে সতর্ক করেছে দেশটি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই র্যাভকব দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসকে জানায়, আমরা ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি এবং এমন পরিস্থিতি নিরসনে একটা ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে রাশিয়া এমন পরিস্থিতি নিরসনের কিছু প্রস্তাব দিয়েছে ভেনেজুয়েলাকে। তবে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয় নি।

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও তেল উৎপাদন খাতে মস্কোর বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আছে। বিগত এক মাস ধরে ভেনেজুয়েলায় তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভের সময় বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবৈধ উল্লেখ করে নিজেকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। সেখানে শপথও নেন তিনি।

গুয়াইদোর এমন ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এছাড়াও আরো কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশও গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দেয়।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও মেক্সিকোসহ আরো কয়েকটি দেশ। এরপর থেকে দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার দেখা দেয়।

এছাড়া এরপর মাদুরো সরকারের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল খাত থেকে উপার্জিত অর্থ দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোকে দেওয়া হবে।

এছাড়া সম্প্রতি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার মিত্ররা এখন থেকে আর দেশটির জনগণের সম্পদ হরণ করতে পারবে না।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা তাদের অনলাইন সংস্করণে “বরফে জমে যাচ্ছে কানাডা” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“বরফের নিচে ঢাকা পড়ে আছে কানাডার আলবার্টা থেকে অন্টারিও। তুষারঝড়ে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে কানাডা। বিমানবন্দরগুলো যেন পরেছে বিধবা পোশাক। তুষারে সাদা হয়ে আছে সব। এর সঙ্গে তুষারসহ ঝোড়ো বাতাস। রাস্তাঘাট ঢেকে আছে বরফে।

মঙ্গলবার কানাডার বেশিরভাগ এলাকায় এমন ভয়াবহ আবহাওয়া বিরাজ করেছে ।

বিমানবন্দরগুলোতে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বিমান; চলছে তুষার সরানোর কাজ। তাতেও কাজ হচ্ছে না। একপাশ থেকে সরানো হচ্ছে বরফ। অন্যপাশ থেকে আবার ঢেকে আসছে। এমন বিরূপ পরিবেশে বন্ধ রাখা হয়েছে অনেক স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকালে টরোন্টোতে ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়েছে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া। এর আগেই শহরটি ২০ সেন্টিমিটার বরফে ঢেকে যায়। সঙ্গে বৃষ্টি আর তুষারপাতও ছিল। সন্ধ্যায় পরিবেশ আরো খারাপ আকার ধারণ করে। টরোন্টোজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল অচল। বিমানগুলোর উড্ডয়ন বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়েছে।”