আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দ বাজার’ পত্রিকা “জইশ থেকে ব্যবসা, দোষারোপ দিল্লিকেই” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া পাকিস্তান আঙুল তুলছে ভারতেরই দিকে।

ইমরান খানের আমলে জইশ-ই-মহম্মদের বাড়বাড়ন্তের অভিযোগ উঠেছে আগেই। কিন্তু পুলওয়ামায় সিআরপি কনভয়ে হামলার পরে পাকিস্তানের বক্তব্য, ২০০২ সালে জইশ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপই করে চলেছে তারা। বরং নিজেদের নিরাপত্তার খামতির দিকটি নিয়ে না-ভেবে ভারত বরাবরের মতোই পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলছে। গত ১৪ তারিখের হামলার পরেই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উপর থেকে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (এমএফএন) তকমা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিল ভারত। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক পরামর্শদাতা আব্দুল রজ্জাক দাউদের দাবি, এই বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এখনও সরকারি ভাবে পাকিস্তানকেই জানায়নি দিল্লি।

জইশ-যোগের অভিযোগ নিয়ে ইসলামাবাদে সরব হয়েছেন পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়সল। তিনি বলেছেন, ‘‘২০০২ থেকে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জইশ। সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের যা যা করণীয়, তা করা হচ্ছে। অথচ হামলা হওয়ার একটু পরেই কোনও তদন্ত না-করে পাকিস্তানের ঘাড়ে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সাজানো অভিযোগ অতীতেও তোলা হয়েছে।’’

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছিলেন, ‘‘রাষ্ট্রপুঞ্জ যাদের জঙ্গি বলেছে, তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে থেকেছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। জইশের নেতারা পাকিস্তানেই আছেন।’’ হামলার পরেই আত্মঘাতী জইশ জঙ্গি আদিল আহমেদ দারের বক্তৃতার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ হয়েছিল। কিন্তু ফয়সল ভারতের বিরুদ্ধেই উল্টে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘‘কুলভূষণ যাদবের স্বীকারোক্তির ভিডিয়োকে ‘জাল’ বলেছিল ভারত। অথচ (আদিলের) এই ভিডিয়োটিকে যাচাই না-করেই সেটিকে সত্যি বলে মেনে নিল!’’

‘এমএফএন’ তকমা তোলা নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক পরামর্শদাতা দাউদ বলেন, ‘‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথাও হতে পারে।’’ তবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো মঞ্চে অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ভারত-পাকিস্তান দু’দেশই ওই গোষ্ঠীর সদস্য। ‘এমএফএন’ তকমা প্রত্যাহারের পরেই ভারতে রফতানি হওয়া সমস্ত পাকিস্তানি পণ্যের উপরে শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। দাউদ বলেন, ‘‘আমরা বাড়াবাড়ি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাব না। একপাক্ষিক, দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক— সব রাস্তাই খোলা রয়েছে।’’

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ বর্তমান’ পত্রিকা ““বুলগেরিয়ায় অনাবাসী ভারতীয়দের বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন সুষমা” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“বুলগেরিয়ায় বসবাসরত ভারতীয়দের কাছে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। শনিবার দু’দিনের সফরে বুলগেরিয়ায় আসেন সুষমা। রবিবার সোফিয়ায় অনাবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সুষমা বলেন, ভারতের সার্বিক উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়ার পিছনে অনাবাসী ভারতীয়দেরও অন্যতম ভূমিকা রয়েছে। উন্নয়নে শরিক হতে তাঁদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ভারত তাঁদের স্বাগত জানাতে তৈরি। তিনি বলেন, অনাবাসীদের ভারতীয়দের দেশের সঙ্গে যোগ বাড়তে তাঁদের ব্যাপক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে প্রবাসী ভারতীয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বিদেশে বিয়ে করে কোনও ভারতীয় মহিলা যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য রাজ্যসভায় এনআরআই ম্যারেজ বিল পাশ হয়েছে।
পাশাপাশি বুলগেরিয়াকে ভারতের প্রকৃত বন্ধু বলে সম্বোধন করে সুষমা। তিনি বলেন, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক, নানা ধর্ম, বর্ণ ও বিভিন্ন ভাষা এবং জনজাতির দেশ বুলগেরিয়া। আগামী বছরগুলিতে ভারত ও বুলগেরিয়া দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহমত রেখেই চলবে। এদিন সোফিয়ার সাউথ পার্কে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান বিদেশমন্ত্রী। এদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুষমা। পুলওয়ামার কাণ্ডের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা “ব্রিটিশ লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সাত সাংসদ” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

 “জেরেমি কর্বিনের ব্রেক্সিট ও ইহুদি-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিবাদে ব্রিটিশ লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সাত সংসদ সদস্য। তারা হলেন চুকা উমুন্না, লুসিয়ানা বার্জার, ক্রিস লেজলি, অ্যাঞ্জেলা স্মিথ, মাইক গ্যাপস, গ্যাভিন শুকার এবং অ্যান কোফি।

পদত্যাগের বিষয়ে লুসিয়ানা বার্জার জানান, ‘দলটি এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই ইহুদি-বিরোধী হয়ে গেছে এবং এখানে আমি বিব্রত ও লজ্জিত বোধ করি। আজ সকালে আমরা কয়েকজন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত খুবই কঠিন ও বেদনাদায়ক হলেও পদত্যাগ করা প্রয়োজন ছিল’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব করি, আমরা সবাই ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি ও প্রজন্ম থেকে এখানে এসেছি। এরপরও আমাদের সবার চেতনা ও মূল্যবোধের জায়গা এক। আজ থেকে আমরা কোনো দলের নয়, বরং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবেই সংসদে বসবো’।

লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করা আরেক সংসদ সদস্য ক্রিস লেজলি বলেন, ‘লেবার পার্টি অনেকে আগেই বামদের স্বারা দূষিত হয়ে গিয়েছে’।

এদিকে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্বিন তার দলের এই সাত সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে লক্ষাধিক জনগণকে অনুপ্রাণিত করা রাজনৈতিক দলের নীতির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে না পারার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক’।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা তাদের অনলাইন সংস্করণে “পাকিস্তানে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিল সৌদি” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“পাকিস্তানে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান পাকিস্তানে গিয়ে এ ঘোষণা দিয়েছেন। গত কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানে  আর্থিক সঙ্কট তীব্র হওয়ার পর এ ধরনের  ঘোষণা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

জানা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সাতটি পৃথক সমঝোতা এবং ঋণ পাওয়ার ফলে পাকিস্তানের অর্থ ব্যবস্থা কিছুটা হলেও চাঙা হবে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স পাকিস্তানসহ এশিয়ার তিনটি দেশে  সফর শুরু করেছেন।

পাঁচ মাস আগে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়। তবে সে ব্যাপারে কোনো কথা না বলে পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখতেই তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শুধু তাই নয়,  বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়ায় সৌদির  প্রশংসাও করেন তিনি।

ইমরান খান বলেন, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব নিজেদের সম্পর্ককে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আগে  কখনো পৌঁছানো যায়নি। প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরবে সফরও করেছেন ইমরান।

সালমানের জন্য  উষ্ণ অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করেছিল পাকিস্তান।  ইসলামাবাদের কাছে এক সেনা ছাউনিতে তাকে বরণ করে নেন ইমরান। সেখানে ছিলেন পাক সেনা প্রধান। এছাড়া ছিল গান স্যালুটের ব্যবস্থাও।”