আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দ বাজার’ পত্রিকা “মাসুদ আজহারকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসী’ ঘোষণায় এ বারও ভেটো? তেমনই ইঙ্গিত চিনের” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

 

“রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসী’ বলল আমেরিকা। জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসী’ ঘোষণার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং আজহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া ভারতীয় উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপজ্জনক, মন্তব্য হোয়াইট হাউসের। আজ বুধবারই মাসুদ আজহার এবং জইশ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক। তার আগে আমেরিকার এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ভারত। তবে চিনকে নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। তাই ভারত নতুন করে রাষ্ট্রপুঞ্জে তথ্যপ্রমাণ দিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

মঙ্গলবার রুটিন সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবার্ট পালাডিনো বলেন, মাসুদ আজহার জইশ-ই মহম্মদের প্রতিষ্ঠাতা এবং শীর্ষ নেতা। তাই সে বিশ্ব সন্ত্রাসী ঘোষণার যোগ্য।’’ চিনের প্রসঙ্গে পালাডিনোর মন্তব্য, ‘‘আমেরিকা এবং চিন শান্তি ও স্থিরতার জন্য পারস্পারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করে। তাই আজহারকে বিশ্ব সন্ত্রাসী ঘোষণা না করলে, সেই উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।’’

আমেরিকার এই ঘোষণা অবশ্য এই প্রথম নয়। এমনকি, নিরাপত্তা পরিষদেও এ নিয়ে আলোচনা-বৈঠক হয়েছে। কিন্তু বরাবরই ভেটো দিয়ে এসেছে চিন। ইসলামাবাদের ‘মিত্র’ বেজিং-এর বরাবরের বক্তব্য, মাসুদ আজহারকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসী’ ঘোষণার মতো উপযুক্ত প্রমাণ নেই। এ বারও যে চিনা ড্রাগনরা সেই প্রচেষ্টা জারি রাখবে, তার ইঙ্গিত আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে। তবে এ বার অবস্থান সামান্য পাল্টে বেজিংয়ের যুক্তি, জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে মাসুদ আজহারের সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ নেই।

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, চিনের এই যুক্তির পরই নতুন করে তথ্য প্রমাণ দিয়েছে ভারত। পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পর পরিস্থিতি অনেক পাল্টেছে। এই আত্মঘাতী জঙ্গি হানার মাস্টারমাইন্ড যে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারই তার একাধিক প্রমাণ ভারতে এসেছে। সেই সব তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে জইশ শীর্ষনেতা হিসেবে আজহারের যে সব অডিয়ো টেপ ভারতের হাতে এসেছে, প্রচুর নথিপত্রের সঙ্গে সেই টেপও নিরাপত্তা পরিষদে প্রমাণ হিসেবে দিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারতে সংসদে হামলা, পাঠানকোট বায়ুসেনার ঘাঁটি এবং উরি ও জম্মুর সেনা ক্যাম্পে হামলার অন্যতম মাস্টার মাইন্ড মাসুদ আজহার। তার সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হানা। ভারতে আজহারের এই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের প্রমাণ আগেও বহুবার রাষ্ট্রপুঞ্জে জমা দিয়েছে ভারত। তার প্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য তিন দেশ আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স আজহারকে বিশ্ব সন্ত্রাসী ঘোষণার জন্য প্রস্তাব এনেছে।

অন্য দিকে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রদানের ক্ষমতাধর পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম চিন। সেই সুযোগ নিয়েই বার বার এই প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়ে এসেছে বেজিং। কিন্তু পুলওয়ামার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি দমনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলায় চিনের অবস্থান কিছুটা হলেও পাল্টেছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। আর সেখানেই আশার আলো দেখছে নয়াদিল্লি।’’

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা “ভেনিজুয়েলার কাছ থেকে তেল না কেনার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানালেন পম্পেও” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ভেনিজুয়েলার স্বৈরাচারী প্রশাসক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকক্ষেত্রেও চাপের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এই পরিস্থিতিতে লাতিন আমেরিকার এই দেশ থেকে ভারত তেল কিনবে না বলে আশাপ্রকাশ করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও। ইতিমধ্যে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন। তার মধ্যেই সোমবার এই মন্তব্য করেন পম্পেও।
লাতিন আমেরিকার এই দেশের কাছ থেকে ভারত তেল আমদানি করা জারি রাখলে তা মাদুরো সরকারের কাছে ‘ইকোনমিক লাইফলাইন’ হয়ে দাঁড়াবে। ভেনেজুয়েলাকে এই ধরনের কোনও সুযোগ দিতে নারাজ ওয়াশিংটন। গোটা বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ভারতের বিদেশ সচিব বিজয় গোখলের সঙ্গে বৈঠক করেন পম্পেও। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পম্পেও বলেন, ‘সমস্ত রাষ্ট্রকে যে আবেদন করা হয়েছে, ভারতকেও একই আবেদন জানানো হয়েছে। ভারত যাতে মাদুরো সরকারের কাছে ইকোনমিক লাইফলাইন না হয়ে ওঠে, তা বলা হয়েছে। ইরানের সময়ে ভারত আমাদের পাশে ছিল। ভেনেজুয়েলার মানুষের কাছে কোনটা সত্যিই বড় বিপদ, তা ভারত বুঝবে বলেও আমি আশাবাদী।’ প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগেই নয়ডায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লাতিন আমেরিকার এই দেশের তেলমন্ত্রী তথা রাষ্ট্রচালিত তেল সংস্থা পিডিভিএসএ-র প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল কোয়েভেদো জানিয়েছিলেন, ভারতকে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল বিক্রি করতে চায় ভেনিজুয়েলা। জানা গিয়েছে, ভেনিজুয়েলার কাছ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেল কেনা বন্ধ করার পরেই ভারত, চীনের মতো দেশগুলিকে বেশি করে তেল রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নেয় পিডিভিএসএ।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ করে বিপাকে পাকিস্তান” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানে ভারতীয় বিমান হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বলিউডের সিনেমা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান। তবে বন্ধ হতে চলেছে পাক সিনেমা হলগুলো। বেকার বসে আছেন বলিউডে কাজ করেন এমন পাকিস্তানি শিল্পীরাও। এর আগেও উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সিনেমার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো পাকিস্তান কিন্তু দেখা গেছে এতে বেশি ক্ষতির শিকার হয় বিনোদনের জন্য বলিউড নির্ভর পাকিস্তানই।

পাকিস্তান জুড়ে বর্তমানে ১২০টি সিনেমা হল রয়েছে। যেগুলোতে একটি ভাল সিনেমা দুই সপ্তাহ ধরে চলে। কিন্তু পাকিস্তানের খুড়িয়ে চলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি থেকে বছরে মুক্তি পায় মাত্র ১০/১৫ টি ছবি। এগুলোর বাজেট-মান কোনটাই ভাল নয়। অথচ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে দরকার কমপক্ষে ২৬টি ভাল চলচ্চিত্র।

পাকিস্তানি বিনোদন সাংবাদিক হাসান জাইদি বলেন, ‘পাকিস্তানি সিনেমা ব্যবসার ৭০ ভাগ আয় আসে ভারতীয় সিনেমার মাধ্যমে। বলিউড ছাড়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রি টিকবে না। এই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে বাধ্য হবে সরকার।’

পাকিস্তানের চলচ্চিত্র প্রতিবেদক রাফাহ মাহমুদ বলেন, পাকিস্তানে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় সিনেমার বিকল্প নেই।

অন্যদিকে পাকিস্তান বলিউডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর পাক শিল্পীদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন পাকিস্তানি শিল্পীরা। যাদের মধ্যে আছেন ভারতীয় জনপ্রিয় নায়ক ফাওয়াদ খানসহ অনেকে।

পাকিস্তানের সিনেমাপ্রেমি আলি শিওয়ারি বলেন, ‘আমি বড় হয়েছি শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খানের সিনেমা দেখে। পাকিস্তানে তাদের মতো কেউ তৈরি হতে অনেক সময় লাগবে।’

তবে পাকিস্তানি ছাত্রী আকসা খান বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা কেন তাদের সিনেমা দেখবো?’

যদিও বাস্তবে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাকিস্তানির ক্ষেত্রে ভারতীয় সিনেমা দেখার আনন্দ ছাপিয়ে যায় দেশপ্রেমকেও।”

 

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ পত্রিকা তাদের অনলাইন সংস্করণে  “সৌদির নারী অধিকারকর্মীদের আটকের একবছর পর বিচার শুরু” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে।পত্রিকাটি লিখেছে,

“সৌদি আরবের নারী অধিকারকর্মীদের আটকের পর এক বছর পেরিয়ে গেছে। বুধবার থেকে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় বয়ে যাওয়ার পর নারী অধিকারকর্মীদের বিচার শুরু করল সৌদি।

রিয়াদের ক্রিমিনাল কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আটক নারীদের মধ্যে বুধবার অন্তত ১০ জনের বিচার শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেয়ার জন্য এই নারীরা আন্দোলন করেছিলেন। পরে, সে দেশে গণহারে ধরপাকড়ের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে মুখ খুলেছিলেন। পরে গত বছরের মে মাসে তাদের আটক করা হয়।

এই নারীদের আটক করার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। তার পরেও এই অ্যাক্টিভিস্টদের বিচারকার্য শুরু করল সৌদি।”