আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা’ “ক্ষমা চাইবে না ব্রিটেন” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“দলমত নির্বিশেষে দাবি তুলেছিলেন ব্রিটিশ এমপি-দের অনেকে। তা সত্ত্বেও জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য আপাতত ক্ষমা চাইল না টেরেসা মে সরকার।

পার্লামেন্টের ওয়েস্টমিনস্টার হল-এ বিষয়টি নিয়ে হাউস অব কমন্সের বিতর্ক ছিল আজ। প্রস্তাব এনেছিলেন কনজারভেটিভ পার্টিরই এক এমপি। কিন্তু ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রকের এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গে আর্থিক দায়বদ্ধতা জড়িত। তা ছাড়া মন্ত্রী, শীর্ষ কর্তারা এবং নয়াদিল্লির ব্রিটিশ হাইকমিশনার বিষয়টি নিয়ে এখনও কাজ করছেন। আগামী ১৩ এপ্রিল ওই মর্মান্তিক ঘটনার শতবর্ষ। ভারতের ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জালিয়ানওয়ালা বাগে ফুল দিয়ে আসার জন্য। মন্ত্রী বলেন, ‘‘এ এক লজ্জার অধ্যায়। ব্রিটিশ সরকার ঠিক সময়েই তার নিন্দা করেছিল। এ বারও গভীর শোকের সঙ্গে শতবর্ষ পালিত হবে ব্রিটেনে।’’ কিন্তু দাবি তো ছিল সরকারি ভাবে ক্ষমা চাওয়ার। সেই পথে কেন হাঁটতে নারাজ ব্রিটেন?

অনেকের মতে, ব্রিটিশ পাঠ্যসূচিতে পঞ্জাবের ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার অন্তর্ভুক্তি, হতাহতদের উত্তরাধিকারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ, ইত্যাদি দাবি আজকের বিতর্কে ওঠে। অনেকের মতে, সেই কারণেই মন্ত্রী আর্থিক প্রসঙ্গ টেনেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি একটু গোঁড়ামনস্ক। ঔপনিবেশিক ইতিহাসের জন্য ক্ষমা চাইতে আমারও একটু অনীহা। তা ছাড়া সরকারি দফতরের ক্ষমা চাওয়ার সঙ্গে আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপতে পারে বলেও একটা চিন্তা রয়েছে।’’ এই যুক্তিতে হতাশ অনেকেই।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা’ “দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ” শীর্ষক খবরটি ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের প্রধান তথা জাতীয় সংসদের বিরোধী নেতা শাহবাজ শরিফের বিরুদ্ধে। পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন তিনি ও তাঁর ছেলে হামজা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনসাধারণের টাকা নয়ছয় করেছেন বলে আদালতে জানানো হয়। মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন শাহবাজ ও হামজাকে অভিযুক্ত করে আদালত। যদিও তাঁরা দু’জনেই এক্ষেত্রে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন।
এদিন শুনানি চলাকালীন উঠে আসে রমজান চিনিকল প্রসঙ্গ। ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) আইনজীবীর কাছে রমজান চিনিকল মামলার বিষয়ে জানতে চান বিচারক নাজামুল হাসান। জবাবে আইনজীবী ওয়ারিশ আলি জাঞ্জুয়া জানান, নালা তৈরির জন্য সাধারণ মানুষের অর্থ নয়ছয় করেন ওই চিনিকলের ডিরেক্টর হামজা। আরও জানানো হয়, নালা তৈরির জন্য ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছিলেন পাঞ্জাবের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ। যদিও এনিয়ে কোনও দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেন শাহবাজ শরিফ। প্রসঙ্গত, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। দাদা নওয়াজ শরিফ জেলে যাওয়ার পর দলের সভাপতি হন শাহবাজ শরিফ।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে “ব্রাজিলে আকস্মিক বন্যা, ১০ জনের  মৃত্যু” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

 “টানা ২৪ ঘন্টার প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্রাজিলে ভয়াবহ বন্যার দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে ভারি বৃষ্টিপাতে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

শহরটির কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যায় অসংখ্য বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে রাস্তায় রাখা অনেক গাড়ি।

মেয়র মারসিলো ক্রিভেল্লা এমন পরিস্থিতিকে সংকটময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এছাড়া জরুরি কোন কাজ না থাকলে শহরটির বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ বৃষ্টির পরিমাণ কমতে থাকে। রেকর্ড পরিমাণে এ বৃষ্টিতে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। উদ্ধার কর্মীরা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত আছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘কালের কণ্ঠ’ তার অন লাইন সংস্করণে “সমুদ্রে মিলল জাপানি যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“জাপানি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। একদিন আগে প্লেনটি রাডারের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়।

প্লেনটি প্রশান্ত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। জাপানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জাপানের সামরিক বাহিনী বলছে, প্লেনটির পাইলট এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিধ্বস্ত প্লেনটির ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রে পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে প্লেনটির সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কী কারণে প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

এদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়া বলছেন, যুদ্ধবিমানটির টেইল-ফিনের অংশ উদ্ধার করেছি আমরা। তাই প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে মনে করছি।”