আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা’ “কলঙ্কের একশো বছরে দুঃখপ্রকাশ করলেন টেরেসা” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ১০০ বছর আগের ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে তিনি ব্রিটিশ-ভারতের ইতিহাসে ‘কলঙ্কের দাগ’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালা বাগে একটি প্রতিবাদ সভায় জেনারেল ডায়ার বিনা প্ররোচনায় নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের হিসেবে অনুযায়ী, নিহত হয়েছিলেন নারী, পুরুষ, শিশু-সহ ৩৭৯ জন, আহত হয়েছিলেন অন্তত ১২০০ জন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ‘নাইটহুড’ ত্যাগ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এ বছর ওই হত্যাকাণ্ডের ১০০ বছর।

হাউস অব কমন্সে সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তরের সময় জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন টেরেসা। তিনি বলেন, ‘‘১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ড ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে কলঙ্কের দাগ। ১৯৯৭ সালে জালিয়ানওয়ালা বাগ সফরের আগে রানি দ্বিতীয় এলিজ়াবেথ বলেছিলেন, ওই ঘটনা ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে বেদনার উদাহরণ। ওই হত্যাকাণ্ড এবং তার ফলের জন্য আমরা গভীর ভাবে দুঃখিত। তবে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, সহযোগিতা, অংশীদারি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার উপরেই আজ ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক দাঁড়িয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ সমাজে প্রবাসী ভারতীয়দের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।’’ বিরোধী নেতা লেবার পার্টির জেরেমি করবিন বলেন, ‘‘জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘটনার নৃশংসতার জন্য এবং যাঁরা সে দিন নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের উদ্দেশে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ক্ষমা চাওয়া উচিত।’’ এর আগে এক ব্রিটিশ এমপি দাবি করেছিলেন, জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এমপি-রাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। লেবার পার্টির এমপি প্রীত কৌর গিল বলেন, ‘‘ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাওয়া জরুরি ছিল।’’ লেবার পার্টির আর এক এমপি বীরেন্দ্র শর্মাও মনে করেই, ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমা চাওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।

হাউস অব কমন্সের একটি কমিটি রুমে গত কাল জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ঠিক হয়, ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনও ক্ষমা চাওয়া হবে না।”

 

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আজকাল’ পত্রিকা’ “বালাকোটের মাদ্রাসায় এয়ার স্ট্রাইকের কোনো চিহ্নই দেখতে পারছে না পাক সংবাদমাধ্যম” শীর্ষক খবরটি ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

 একমাস ধরে পাক বালাকোট অঞ্চলে কোনও সংবাদ মাধ্যমকে ঢুকতে দেয়নি পাক সেনা। ভারত যে এয়ার স্ট্রাইক করে বালাকোটে জৈশের প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেকথা সপাটে অস্বীকার করেছেন তারা। সেই দাবি কতটা সত্যি তার প্রমাণ তাঁরা দিতে পারেননি। সেই দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে ঘটনার একমাস পরে সংবাদ মাধ্যমকে সেখানে নিয়ে গেল পাক সেনা। সূত্রের খবর প্রায় ১২ জন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বেশ কয়েকজন ছিলেন। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফ থেকে পাঁচ মহিলা গিয়েছিলেন সেখানে।
পাক সেনা তাঁদের বালাকোটের একটি মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। যেখানে এয়ারস্ট্রাইকের কোনও চিহ্নই ছিল না। মাদ্রাসার কোনও অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হয়নি। প্রায় ১৩০ জন শিশু সেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সাংবাদিকদের সেই মাদ্রাসা ঘুরিয়ে দেখিয়ে পাক সেনা প্রমাণ করতে চেয়েছে এখানে কোনও জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির হয় না। ভারত যা দাবি করেছে তা একেবারেই মিথ্যা। ভারত যেখানে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছিল বলে দাবি করে সেই চারটি জায়গাও তাঁদের ঘুরিয়ে দেখানো হয়।
পাক সেনার মুখপাত্র আসিফ গফুর টুইটে লিখেছেন, ‘‌বালাকোটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে বেশির ভাগই নাকি ভারতীয় সংবাদ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা ছিলেন। এছাড়াও একাধিক দেশের দূত এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। তাঁরা নিজেরাই ঘুরে দেখে জেনেছেন ভারত কতটা মিথ্যে দাবি করেছে।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে “সুদানে বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দিলো সেনারা” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

 “ব্যাপক জন-বিক্ষোভের পর সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে দ্বায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে, আল-জাজিরা।

এর আগে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘শিগগিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দেয়া হবে।’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে একথা বলা হয়েছে। বশিরকে সরিয়ে দেয়ার খবর এলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বিবৃতি দেয়নি সেনাবাহিনী। বিক্ষোভকারীরা বলছে, বশির-পরবর্তীকালে তারা সেনা শাসন মেনে নেবেন না।

দেশটির প্রেসিডেন্ট বশিরের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী খার্তুমে জড়ো হয়েছেন। তারা সেনা সদরদপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ করে সামরিক হস্তক্ষেপের দাবি জানায়। ওই সদর দপ্তরের ভেতরেই বশিরের দাপ্তরিক বাসভবন।

ছয় দিন ধরে এই বিক্ষোভ চলছে। রবিবার খারতৌমে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও উন্মুক্তভাবে গুলি ছুড়লে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে সেনারা। বিক্ষোভকারীরা পরবর্তীতে নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়।

১৯৮৯ সালে এক সামরিক অভ্যূত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে একটানা ক্ষমতা ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘কালের কণ্ঠ’ তার অন লাইন সংস্করণে “জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“আজ সকালে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে।

সাত বছর আগে সুইডেনে যৌন নির্যাতন মামলায় অভিযুক্ত জুলিয়ান  অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার এড়াতে এবং সুইডেনে  প্রেরণ এড়াতে  অ্যাসাঞ্জ লন্ডনে ইকুয়েডরের  দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গণমাধ্যম গুলো  ব্রেকিং নিউজ হিসাবে সংবাদটি প্রকাশ করেছে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

লন্ডন মহানগর পুলিশ জানায়, তাকে পুলিশ  হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাড়াতাড়ি তাকে  ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা  হবে।”