আজকের সংবাদপত্র থেকে

For Sharing

আজ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্রগুলিতে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়  প্রাধান্য পেয়েছে।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা’ “ন্যাটো জোটে আসছে ভারত? বিল মার্কিন কংগ্রেসে” শীর্ষকে একটি খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

 

“চিনের সামরিক বাড়বাড়ন্ত যতটা উদ্বেগ বাড়িয়েছে আমেরিকার, ততটাই দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে সন্ত্রাসবাদীদের স্বর্গ হয়ে ওঠা পাকিস্তান। দুই উদ্বেগ কমাতে ‘সদ্য বন্ধু’ ভারতের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ককে এ বার ঘনিষ্ঠতার মাত্রায় পৌঁছে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। ভারতকে ন্যাটো (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন) জোটে আনতে ফের একটি বিল এনেছেন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৬ প্রভাবশালী সদস্য। পর্যাপ্ত ভোটের অভাবে আগের বিলটি পাশ হয়নি।

বিলটি কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পর আইনে পরিণত হলে, মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক ভারতকে ন্যাটো জোটের শরিক বলে ঘোষণা করতে পারবে। তার ফলে, বাড়তি নিরাপত্তার আশ্বাসের বিনিময়ে যেমন আমেরিকার সামনে নিজের পছন্দমতো অস্ত্র বেচার ক্ষেত্রটি আরও প্রসারিত হবে, তেমনই জোটের শরিক দেশগুলি অন্য কোন দেশকে তাদের অস্ত্র বেচতে চাইছে, তার উপরেও নজর রাখা সম্ভব হবে ওয়াশি়ংটনের। ভারতকে ন্যাটো জোটে আনলে আমেরিকার আরও সুবিধা, চিন ও পাকিস্তানকেও বার্তা দেওয়া যাবে।

চলতি সপ্তাহেই ‘এইচআর-২১২৩’ নামে ওই বিলটি কংগ্রেসে এনেছেন বিদেশ বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য জো উইলসন। এর আগেও এক বার এই বিল আনা হয়েছিল হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের অভাবে সেটি পাশ হয়নি। সেই বিলটি এনেছিলেন অ্যামি বেরা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিনদের মধ্যে অ্যামিই সবচেয়ে বেশি দিন ধরে সদস্য রয়েছেন কংগ্রেসের। ওই সময় অ্যামির সঙ্গী হয়েছিলেন হাউসের ইন্ডিয়া ককাস কমিটির চার কো-চেয়ার সদস্য জর্জ হোল্ডিং, ব্র্যাড শের্ম্যান, তুলসী গাবার্ড ও টেড ইয়ো।”

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বর্তমান’ পত্রিকা’ “তালিবান হামলায় নিহত ৭ পুলিস” শীর্ষক খবরটি ছেপেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

আফগানিস্তানের মধ্য গজনি প্রদেশে তালিবান জঙ্গি হামলায় সাত পুলিসকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাদেশিক প্রশাসনের মুখপাত্র আরিফ নুর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াঘাজ জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক ছাউনিতে তালিবান জঙ্গি হামলা চালায়। ঘণ্টাখানেক ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই চলে। ওই লড়াইয়ে সাত পুলিসকর্মী নিহত হন। এছাড়া আরও দু’জন জখম হয়েছেন। তালিবান গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পৃথক আর একটি ঘটনায়, অন্ততপক্ষে ১৫ জন পুলিসকে পণবন্দি করল তালিবান। দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বাদঘিস প্রদেশের কাউন্সিল সদস্য মহম্মদ নাসের নাজারি এই খবর নিশ্চিত করেন।
আফগানিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য আমেরিকার সঙ্গে তালিবান গোষ্ঠীর আলোচনা চলছে। এমনকী চলতি মাসের শেষেও আফগান প্রশাসনের সঙ্গে এই প্রথম তালিবানের আলোচনা হতে চলেছে। তাই এই শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই এহেন জঙ্গি হানায় আফগান প্রশাসনের কপালে ভাঁজ পড়েছে। বলা যেতে পারে, আগামী দিনে তালিবানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া আদৌ সফল হবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন সৃষ্টি করে দিল এদিনের তালিবান হামলা।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র’ দৈনিক ইত্তেফাক’ তার অন লাইন সংস্করণে “বিশেষ কোন সুবিধা পাবে না অ্যাসাঞ্জ: স্কট মরিসন” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন শুক্রবার বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস’র প্রতিষ্ঠাতা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ তার নিজ দেশের পক্ষ থেকে ‘কোন বিশেষ সুবিধা’ পাবেন না।

বৃহস্পতিবার নাটকীয়ভাবে পুলিশ উইকিলিকস’র প্রতিষ্ঠাকে ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাস ভবন থেকে বের করে এনে সেখানে অপেক্ষারত একটি পুলিশ ভ্যানে উঠানোর মধ্যদিয়ে সেখানে অ্যাসাঞ্জের সাত বছরের লুকিয়ে থাকার ঘটনার অবসান ঘটে।

২০১২ সালে দেয়া তার জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। দেশটির আইন অনুযায়ী এতে তাকে এক বছরের সাজা ভোগ করতে হতে পারে।

এদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসিয়া ম্যানিংয়ের সঙ্গে অ্যাসাঞ্জের কাজের যোগসূত্র থাকার বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে তাদের হাতে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী ২ মে এ মামলার শুনানি করা হবে।

সবেমাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া মরিসন বলেন, বিদেশে সমস্যায় পড়া অন্য যেকোন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের মতো অ্যাসাঞ্জও একই ধরনের সহযোগিতা পাবেন। এক্ষেত্রে তার জন্য বিশেষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না।”

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ‘কালের কণ্ঠ’ তার অন লাইন সংস্করণে “পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ১৬” শীর্ষকে একটি  খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে,

“পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কোয়েটা শহরে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে কোয়েটা শহরের হাজারীগঞ্জ এলাকার একটি ফলের বাজারে হাজারা সম্প্রদায়ের লোকজনদের লক্ষ্য করে এ বিস্ফারণ ঘটানো হয়।

এ বোমা বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে পুলিশের ডিআইজি আবদুল রাজ্জাক চিমা বলেন, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশেই শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের। অন্যজন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য।

হামলায় আহতদের উদ্ধার করে বোলান মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বেলুচিস্তান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জাম কামাল এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

এর আগেও হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ বহুবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছে।”